ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ফিচার ]

৫০০ মিটার লম্বা এক কোরআন শরীফ লিখেছেন কাশ্মিরি যুবক

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৫২, ১৪ আগস্ট ২০২২
৫০০ মিটার লম্বা এক কোরআন শরীফ লিখেছেন কাশ্মিরি যুবক
৫০০ মিটার লম্বা এক কোরআন শরীফ লিখেছেন কাশ্মিরি যুবক। ছবি: সংগৃহীত

নিজ হাতে লিখেছেন পুরো কোরআন শরীফ। তিনি পবিত্র কোরআনকে ভালোবেসে এই অসাধ্য সাধন করেছেন কাশ্মীরের যুবক। মাত্র ২৭ বছর বয়সী মুস্তাফা জামিল। আর এই বয়সেই তিনি গড়ে ফেললেন বিশ্ব রেকর্ড। 

সাত মাস ধরে ৫০০ মিটার লম্বা একটি গোটানো কাগজ বা স্ক্রোলে তিনি পবিত্র কোরআন লিখেছেন। এই বিশ্ব রেকর্ড গড়ার পর বর্তমানে গুরেজের বাসিন্দা মুস্তাফা জামিল তার স্থানীয় ভাষা শিনাতে কোরআন অনুবাদ করছেন এখন। 

বর্তমানে গুরেজের বাসিন্দা মুস্তাফা জামিল তার স্থানীয় ভাষা শিনাতে কোরআন অনুবাদ করছেন মুস্তাফা জামিল এই বিষয়ে জানান, তার বহুদিনের স্বপ্ন ছিল যে তিনি তার স্থানীয় ভাষায় কোরআন অনুবাদ করবেন। অবশেষে তার সেই স্বপ্ন সত্যি হচ্ছে। উত্তর কাশ্মীরের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম গুরেজের বাসিন্দা তিনি। পেশায় ক্যালিগ্রাফার মুস্তাফা ইবন জামিল দীর্ঘ সাত মাস ধরে ইসলামের পবিত্র কোরআনকে একটি ৫০০ মিটার স্ক্রল কাগজে লিখে নিজের নাম তুলে ফেললেন লিংকন বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে। 

Advertisement

লিংকন বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের তরফে তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে যে, একটি নতুন বিশ্ব রেকর্ড তৈরি হলো, বিশ্বে কেউ প্রথম বার কোরআনকে মাত্র ১৪ দশমিক ৫ ইঞ্চি চওড়া এবং ৫০০ মিটার লম্বা স্ক্রোল পেপারে লিখলেন। 

বিশ্বে কেউ প্রথম বার কোরআনকে মাত্র ১৪ দশমিক ৫ ইঞ্চি চওড়া এবং ৫০০ মিটার লম্বা স্ক্রোল পেপারে লিখলেনজামিল তার হাতের লেখাকে আরো ভালো করার জন্য ক্যালিগ্রাফি বেছে নিয়েছিলেন। ২০১৭ সাল থেকেই তিনি কোরআনের বিভিন্ন লাইন ক্যালিগ্রাফি করে লিখতে শুরু করেন। তারপর তিনি ঠিক করেন পুরো বইটিকেই তিনি ক্যালিগ্রাফি করে লিখবেন। তিনি প্রথমবার ২০১৮ সালে ১১ মাস ধরে কোরআন লিখেছিলেন। তার ওজন হয়েছিল ২১ কেজি। তারপর ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তিনি এই ৫০০ মিটার স্ক্রলে ক্যালিগ্রাফির কাজ শুরু করলেন। আর মাত্র সাত মাসেই তা শেষ করে ফেলেন। 

এই বিষয়ে জামিল জানান, ২০১৬ থেকেই তার হাতের লেখা ভালো করার চেষ্টা শুরু করেন। তখনই তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি ক্যালিগ্রাফি করতে পারেন। সেই শুরু। প্রথমে ২০১৮ সালে লেখেন তারপর আবার ২০২১ সালে। তিনি কোরআন লিখতে পারায় খুবই খুশি। তিনি তার এই লেখাকে বিভিন্ন রেকর্ড তৈরি করে এমন প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে ছিলেন। তার মধ্যে থেকে লিংকন বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড থেকে স্বীকৃতি পেলেন। তিনি জানিয়েছেন তার বাজেট অত্যন্ত সীমিত ছিল, এর থেকে বেশি কিছু করা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। 

তিনি এশিয়ান বুক অফ রেকর্ড, ইন্ডিয়ান বুক অফ রেকর্ড, এবং ইন্টারন্যাশনাল বুক অফ রেকর্ডেও নিজের নাম নথিভুক্ত করিয়েছেনএই প্রোজেক্টের জন্য জামিলকে দিল্লি আসতে হয়েছিল, যেহেতু কাশ্মীরের ঐ প্রত্যন্ত এলাকায় কাগজ পাওয়া যায় না। অন্যদিকে এই কাজের কাঁচা মালকে দিল্লি থেকে বয়ে শ্রীনগরও নিয়ে যেতে পারেননি তার ওজনের জন্য। তাই দিল্লিতে থেকেই তিনি পুরো কাজটি করেছেন। ২ মাস ধরে তিনি যাবতীয় জিনিস পত্র জোগাড় করেছেন। 

তারপর প্রতিদিন ১৮ ঘণ্টা করে কাজ করে মাত্র ৭ মাসেই এই প্রজেক্ট শেষ করেছেন। তিনি এই কাজটিতে ১৩৫ জিএসএম কাগজ ব্যবহার করেছেন। এই পুরো প্রজেক্টটিতে তার খরচ হয়েছে মোট ২.৫ লাখ টাকা। একমাস সময় লেগেছে এই স্ক্রলটিকে বাঁধাতে। তিনি এশিয়ান বুক অফ রেকর্ড, ইন্ডিয়ান বুক অফ রেকর্ড, এবং ইন্টারন্যাশনাল বুক অফ রেকর্ডেও নিজের নাম নথিভুক্ত করিয়েছেন। আপাতত সেগুলোর এখন ডকুমেন্টেশন চলছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!