কোন ধরনের পাতা তোলা হবে সেটি শ্রমিকেরা নির্বাচন করেন। আট ঘণ্টায় তেইশ কেজির মতো চা তুলতে হয় একজন শ্রমিককে। ফ্যাক্টরিতে সেটা ওজন করে নেয়া হয়। এরপর বাতাস ও নির্দিষ্ট তাপে কয়েক দফায় চা পাতা শুকিয়ে চা বানানো হয়।
ধর্মঘট চলাকালীন চা পাতা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। এখন গাছের আগা কেটে ফেলতে হবে কিনা তাই এখন প্রশ্ন। চা বোর্ডের তথ্য মতে বর্তমানে বাংলাদেশে ১৬৭টি নিবন্ধিত চা বাগান ও টি এস্টেট রয়েছে। এরমধ্যে সিলেট বিভাগেই রয়েছে ১২৯টি বাগান ও টি এস্টেট। বাংলাদেশে সবমিলিয়ে ২ লাখ ৮০ হাজার একর জমিতে নিবন্ধিত বাগানে চা চাষ হচ্ছে।
.png)
আরো পড়ুন>>সে এক করুণ কাহিনী: অন্য দেশ থেকে যেভাবে বাংলাদেশে আনা হয় চা শ্রমিকদের
বাংলাদেশ চা সংসদের সদস্যদের একজন ওয়াহিদুল হক। তিনি বলেছেন, ‘সাধারণত একদম আগা থেকে কচি পাতা নেয়া হয়। এই বিশ দিনে গাছ অনেক বড় হয়ে গেছে, ডাঁটিগুলো শক্ত হয়ে গেছে। পাতাগুলোও কালো হয়ে গেছে। এখন গাছ ছেঁটে ফেলতে হবে। কাটার পর আবার পাতা তোলার পর্যায়ে আসতে তিন সপ্তাহ লেগে যাবে। গাছ ছেঁটে ফেলার আগে কিছু পাতা হয়ত তোলা হবে। কিন্তু তার পরিমাণ অনেক কম হবে। যে বাগানের শ্রমিক যতো বেশি তারা হয়ত দ্রুত অবশিষ্ট পাতাগুলো তুলে তারপর গাছে ছাঁট দেবে।’
সাধারণত, বৃষ্টির মৌসুমেই চা গাছ সবচেয়ে বেশি বাড়ে। এই সময়েই সবচেয়ে বেশি এবং ভালো মানের চা পাতা পাওয়া যায়। এরপর অক্টোবর থেকে শীত মৌসুম পর্যন্ত পাতা খুব ধীরে গজায়। এই সময় চা পাতা তোলা বন্ধ থাকে। এখন বৃষ্টি যদি পর্যাপ্ত হয় তাহলে হয়ত অল্প সময়ের মধ্যে আবার পাতা তোলার মত গজাবে এবং সিজন শেষ হওয়ার আগে কিছু পাতা তোলা যাবে।
কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বিষয়:
>>বুড়ো পাতার চায়ের মান ও স্বাদ ভাল হয় না।
>>পাতার আর্দ্রতা হ্রাস পায়
পাতা থেকে চা
পাতা তোলার পর নরম হতে শুরু করে এবং রাসায়নিক পরিবর্তন হয়। এরপর সেগুলো মেশিনে নেয়া হয় কাটার জন্য। তারপর আবার মেশিনে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় শুকোনো এবং গুড়ো করা হয়। চালুনি দিয়ে বিভিন্ন আকারের আট মানের চা বের করা হয়।
কচি পাতার চায়ে সবচেয়ে ভাল লিকার পাওয়া যায়। পাতা বুড়ো, কালো এবং শক্ত হয়ে গেলে চা যেমন হওয়ার কথা সেরকম হবে না। এমন পাতা দিয়ে চা বানালে সেই চায়ের লিকার ভালো হবে না। রং বেশি গাঢ় হবে এবং স্বাদ বেশি তিতকুটে হবে। কোন চা আসতে চলেছে বাজারে তা বোঝার জন্য চা প্রেমীদের অপেক্ষা করতে হবে।
সূত্র: বিবিসি