ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

কানাডার স্কুলে আরো কয়েকশ গণকবরের সন্ধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩:১৯, ২৪ জুন ২০২১
কানাডার স্কুলে আরো কয়েকশ গণকবরের সন্ধান
ছবি: সংগৃহীত

কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য ব্রিটিশ কলম্বিয়ার একটি স্কুল থেকে ২ শতাধিক শিশুর দেহাবশেষ উদ্ধারের কয়েক সপ্তাহ পর নতুন করে আরো কয়েকশ গণকবরের সন্ধান মিলেছে।

সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তবর্তী সাসকাচোয়ান রাজ্যের ম্যারিভাল ইন্ডিয়ান রেসিডেন্সিয়াল স্কুল সংলগ্ন এলাকায় এই গণকবরগুলোর সন্ধান পাওয়া গেছে। প্রদেশটিতে এ ধরনের কবর শনাক্তের ঘটনা এটাই প্রথম।

দেশটির একটি আদিবাসী গোষ্ঠী বুধবার জানায়, অনেক আগে আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহৃত একটি এলাকায় কবরগুলো আবিষ্কার হয়েছে। বিষয়টিকে ‘ভয়াবহ ও বেদনাদায়ক’ আখ্যা দিয়েছে গোষ্ঠীটি।

Advertisement

ফেডারেশন অফ সভরেইন ইনডিজেনাস নেশন্সের (এফএসআইএন) বিবৃতিতে বলা হয়, কানাডার সাম্প্রতিক ইতিহাসে একসঙ্গে এত বেশি অচিহ্নিত কবর শনাক্তের ঘটনা এটাই প্রথম। তবে কতগুলো কবরের সন্ধান মিলেছে, সে সংখ্যা স্পষ্ট করা হয়নি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম লিডারপোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, সদ্য আবিষ্কৃত এসব কবরের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আদিবাসী গোষ্ঠী কাওয়েসেস ফার্স্ট নেশন।

 জানা গেছে, যে স্কুল প্রাঙ্গণে এসব কবর শনাক্ত হয়েছে, সেটি আবাসিক স্কুল হিসেবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করেছিল ১৮৯৯ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত। এ সব আবাসিক স্কুলে ১৬৫ বছরে প্রায় দেড়লাখ আদিবাসী শিশুকে জোরপূর্বক পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে ভর্তি করা হতো। একসময় স্কুলটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিল রোমান ক্যাথলিক চার্চ। নানা বিতর্কের মুখে ১৯৯৯ সালে স্কুলটি ভেঙে দিয়ে সেখানে অনাবাসিক একটি স্কুল চালু করা হয়। যদিও রয়ে গেছে গির্জা, ধর্মযাজক আর সমাধিস্থল।

কানাডার কেন্দ্রীয় সরকার যদিও এই প্রথার জন্য ২০০৮ সালে ক্ষমা চেয়েছে, কিন্তু এসব আবাসিক স্কুল পরিচালনার দায়িত্বে যে প্রতিষ্ঠানের হাতে ছিল, সেই প্রধান ক্যাথলিক চার্চ এখন পর্যন্ত এজন্য ক্ষমা বা দুঃখ প্রকাশ করেনি।

উল্লেখ্য, এর আগে মে মাসে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের কামলুপসে আদিবাসী শিশুদের একটি আবাসিক স্কুলপ্রাঙ্গণে অপ্রাপ্তবয়স্ক ২১৫ জনের দেহাবশেষের সন্ধান মেলে। এরপরই কানাডায় আদিবাসীদের ওপর একসময়ের ঔপনিবেশিক বর্বরতার বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে।

১৮৩১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত কানাডার আবাসিক শিক্ষাব্যবস্থার আওতায় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছিল দেড় লাখ আদিবাসী শিশুকে। তাদের খেতে দেয়া হতো না; করা হতো শারীরিক ও যৌন নির্যাতন। বিষয়টিকে ২০১৫ সালে ‘সাংস্কৃতিক জেনোসাইড’ আখ্যা দেয় কানাডার ট্রুথ অ্যান্ড রিকন্সিলিয়েশন কমিশন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!