জ্যোতি গাভলি নামের ৩৮ বছর বয়সী ওই নার্স ভারতের মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলিতে সরকারি হাসপাতালে প্রসূতি বিভাগে নার্স হিসেবে কাজ করতেন। আগে তিনি গোরেগাঁওয়ের হাসপাতালে নার্স হিসেবে কাজ করতেন। মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলিতে সরকারি হাসপাতালে কাজ করার সময় তিনি প্রায় পাঁচ হাজারের মতো বাচ্চা প্রসবে নার্স হিসেবে সহযোগিতা করেছেন। নর্মাল ডেলিভারির সঙ্গে সঙ্গে সিজারিয়ান ডেলিভারির সময়েও অপারেশন থিয়েটারে সেই নার্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। এমন একজন অভিজ্ঞ নার্স মারা গেলেন নিজের ডেলিভারির সময়।
জ্যোতি গাভলি সহজেই নারীদের সঙ্গে মিশে যেতে পারতেন। এর জন্য প্রসব করাতে আসা নারীদের সঙ্গে জ্যোতির বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে বেশি সময় লাগত না।
.png)
জ্যোতি মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলিতে সেই সরকারি হাসপাতালেই ২ নভেম্বর নিজের ডেলিভারির জন্য ভর্তি হন। সিজারের মাধ্যমে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। সেই বাচ্চা পুরোপুরি সুস্থ ছিল। কিন্তু এরপরই জ্যোতির শরীর খারাপ হতে শুরু করে। প্রসবের পর তার রক্তস্রাব কিছুতেই বন্ধ না হওয়ায় তাকে অন্য সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে গিয়েও তার শরীরের বিশেষ উন্নতি হয়নি।
জ্যোতির শ্বাস নিতে সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে তাকে আরও উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ঔরঙ্গাবাদে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু জ্যোতির শরীরের অবস্থা খারাপ থাকায় তাকে সেখানকারই একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানকার চিকিৎসায় জ্যোতির শরীরের কিছুটা উন্নতি হয়। কিন্তু রোববার ভোরের দিকে আবার তার শ্বাস নিতে অসুবিধা দেখা দেয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই জ্যোতি মারা যান।
জ্যোতি গাভলি এমন পরিণতিকে বেদনাদায়ক ঘটনা বলছেন সবাই। সবসময় অন্যের হাতে সদ্যপ্রসূত সন্তান তুলে দেওয়া জ্যোতি গাভলি নিজের বাচ্চাকেই কোলে নিতে পারলেন না।
সূত্র: নিউজ১৮, ইন্ডিয়া টাইমস