ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

তাইওয়ানের আকাশে নভেম্বরে ১৫৯ চীনা যুদ্ধবিমানের হানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:৫৬, ১ ডিসেম্বর ২০২১
তাইওয়ানের আকাশে নভেম্বরে ১৫৯ চীনা যুদ্ধবিমানের হানা
ছবি: সংগৃহীত

নভেম্বর মাসে তাইওয়ানে মোট ১৫৯টি চীনা যুদ্ধবিমান অনুপ্রবেশ করেছে। এর মাধ্যমে তাইওয়ানের আকাশ প্রতিরক্ষা অঞ্চল লঙ্ঘন করেছে বেইজিং। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো তাইওয়ানের আকাশে রেকর্ড সংখ্যক চীনা যুদ্ধবিমান অনুপ্রবেশ করেছে।

সংবাদমাধ্যম এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, গণতান্ত্রিক এই দ্বীপরাষ্ট্রটিতে সামরিক চাপ অব্যাহত রেখেছে চীন। কিছুদিন পরপরই তাইওয়ানের আকাশে চীনের সামরিক বিমানের মহড়া চালাতে দেখা গেছে। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের একটি বিচ্ছিন্ন প্রদেশ হিসেবে বিবেচনা করে। অপর দিকে তাইওয়ান নিজেকে সার্বভৌম দেশ হিসেবে দেখছে। এক বছর যাবত তাইওয়ান বলে আসছে, চীনা যুদ্ধবিমান বারংবার তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এমন কর্মকাণ্ডের কারণে স্ব-শাসিত তাইওয়ান ক্রমাগত হুমকির মধ্যে বাস করছে। বলপ্রয়োগ করে এই দ্বীপরাষ্ট্রের দখল নিতে চায় বেইজিং। ২০১৬ সালে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তাই ইং-ওয়েং। তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাইওয়ানের ওপর চাপ বাড়াতে শুরু করেছে বেইজিং। তাইওয়ান চীনের অংশ নয় বলে প্রথম থেকেই জোর দাবি করে আসছেন তাই ইং।

Advertisement

এক বছরের বেশি সময় যাবত তাইওয়ানের এয়ার ডিফেন্স আইডেন্টিফিকেশন জোনে (এডিআইজেড) চীনা যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ গেল কিছু বছর আগেও বেইজিংকে এতটা তৎপর দেখা যায়নি।

শেষ তিন মাস ধরেই তাইওয়ানের আকাশে শতাধিক যুদ্ধবিমানের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। গত মাসে চীনের ১০০ যুদ্ধবিমান এবং নয়টি পারমাণবিক সক্ষম এইচ-৬ বোমারু বিমান অনুপ্রবেশ করেছে। চলতি বছরের অক্টোবর মাসে সবচেয়ে বেশি চীনা যুদ্ধবিমানের অনুপ্রবেশ ঘটেছে তাইওয়ানের আকাশ সীমায়। সে সময় ১৯৬টি যুদ্ধবিমান তাইওয়ানের আকাশে অনুপ্রবেশ করেছে।

১৯৪৯ সালে চীনের গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকে চীন ও তাইওয়ানে আলাদা সরকার রয়েছে। তাইওয়ানের আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ড সীমিত করতে দীর্ঘ দিন ধরে চেষ্টা করে আসছে বেইজিং। অন্য দিকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় প্রভাব প্রতিষ্ঠা করতে দুই পক্ষই প্রতিযোগিতা করে আসছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তেজনা বেড়েছে এবং দ্বীপটিকে আবারও নিয়ন্ত্রণে পেতে শক্তি ব্যবহারের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে চীন। যদিও হাতে গোনা কয়েকটি দেশ তাইওয়ানকে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবে এর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের অনেক দেশের সঙ্গেই দৃঢ় বাণিজ্যিক ও অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক রয়েছে। অন্য দেশগুলোর মতোই তাইপেই-এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। কিন্তু মার্কিন একটি আইনে দ্বীপটিকে প্রতিরক্ষা সহায়তার কথা বলা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ান কিছু করলে অথবা আন্তর্জাতিক কোনো বিষয়ে সমর্থন জানালে চীন অসন্তুষ্টির জানান দিতে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অথবা সহায়তার বিরুদ্ধে তাইওয়ানকে চাপে ফেলতে বেইজিং আকাশসীমা লঙ্ঘন করে সতর্ক করে দেয়ার প্রচেষ্টা চালায়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!