এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সহায়তার চেষ্টায় উদ্বেগের সময় রাশিয়ার বিরুদ্ধে ফ্রান্স-যুক্তরাষ্ট্র ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রতিজ্ঞা করা হয়। এছাড়া ফ্রান্স ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের উদ্বেগ থাকায় জো বাইডেন জলবায়ু আইনের পরিবর্তনের জন্য তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর ইঙ্গিত দেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় ভোজন আয়োজন করে ম্যাক্রোঁকে সম্মাননা জানান জো বাইডেন। করোনা চলাকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রথমবার কোনো বিদেশি নেতাদের সঙ্গে এ রকম আয়োজন করেছেন।
.png)
তবে ভোজনের পর বাইডেনের একট মন্তব্যে তাদের সম্পর্ক মসৃণ থাকবে না। কারণ, সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ রিপাবলিকানদের দখলে চলে গেছে। নিম্নকক্ষ ইউক্রেন বাইডেনের বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে কম আগ্রহী। এছাড়া ডেমোক্রেট আইনপ্রণেতারা জলবায়ু আইনে ফেরত থেকে চাইছেন না।
আসলে সব ইতিবাচক বিবৃতিতে ম্যাক্রোঁর ওয়াশিংটন সফর বাইডেনের মুদ্রাস্ফীতি কমানো আইনের সমালোচনা জেগে উঠেছে এবং দুই দেশের নেতার সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা ব্যয় রাশিয়ার আগ্রাসন থামাতে না পারার মুখোমুখি হয়েছেন।
অনেক পার্থক্য থাকার পরও বাইডেন ও ম্যাক্রোঁ যুক্তরাষ্ট্র-ফ্রান্স ঐক্যবদ্ধতা রয়েছে। এটি ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখতে পারবে পশ্চিমারা।
বাইডেন বলেন, আজ আমি আবার নিশ্চিত করছে যে, আমরা বর্বরতার বিরুদ্ধে একত্রে দাঁড়াচ্ছি। পুতিন চিন্তা করেন যে, তিনি ইউক্রেনের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা করে তার সম্রাজ্যবাদীতার বিরোধীদের দমন করবেন। তিনি দাম বাড়াতে ইউরোপে জ্বালানি বন্ধ করে দিচ্ছে, খাদ্য সংকটকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন। পুতিনের পদক্ষেপ ইউক্রেনের দুর্বল জনগণকেই শুধু কষ্ট দিচ্ছেন না বরং পুরো বিশ্বকে কষ্ট দিচ্ছেন। তবে তিনি সফল হতে পারবেন না।
রাশিয়ার আগ্রাসন ইউক্রেন সীমান্ত পেরিয়ে অনেক দূরে প্রভাব রেখেছে উল্লেখ করেন ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেন, ইউক্রেনে যা ঝুঁকিপূর্ণ তা এখান থেকে ইউরোপের একটি ছোট দেশ বেশি দূরে নয়। তবে আমাদের মূল্যবোধ রয়েছে, আমাদের নীতি রয়েছে। আমরা দুই দেশ (যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স) স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেই যাব।
বাইডেন ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, যদি রাশিয়ার নেতা গুরুত্বসহকারে ইউক্রেন আগ্রাসন বন্ধ করতে চান তবে তিনি পুতিনের সঙ্গে কথা বলবেন। তবে তিনি ন্যাটোর সমর্থন নিয়ে আলোচনা করবেন বলেও জানান।