সঙ্গীর মাথা কেটে ফেলেন নদীতে, হাত-পা ফ্রিজে!
প্রতিদিনই বিভিন্ন মর্মান্তিক ঘটনার জন্য আলোচনার শীর্ষে থাকে ভারত। এবার দেশটিতে ঘটল এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড।
মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে হায়দ্রাবাদে। লিভ ইন সঙ্গীকে খুন করে পাথর কাটার মেশিন দিয়ে তাকে টুকরো টুকরো করার অভিযোগ উঠে সেই প্রেমিকের বিরুদ্ধে।
৫৫ বছর বয়সি ঐ সঙ্গিনীকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হলেন ৪৮ বছরের এক ব্যক্তি। নিহত ঐ নারীর নাম অনুরাধা রেড্ডি। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর গত ১৫ বছর ধরে তিনি বি চন্দ্র মোহন নামে ওই প্রেমিকের সঙ্গে তাঁর বাড়িতে থাকতেন। ওই বাড়ির ফ্রিজ থেকে উদ্ধার হয়েছে অনুরাধার হাত এবং পা। আর মাথা উদ্ধার হয়েছে মুসি নদী থেকে।
প্রমাণ লোপাটের জন্য দেহের অন্যান্য অংশও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বিভিন্ন জায়গায় রেখেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার মুসি নদীর তীরে একটি কাটা মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। ওই খুনের রহস্যভেদ করতে গিয়ে প্রকাশ্যে আসে এই ভয়াবহ ঘটনা।
পুলিশ জানতে পারে মোহন ‘অনলাইন ট্রেডিং’ এর কাজ করেন। অবিবাহিত ওই ব্যক্তি ১৫ বছর ধরে অনুরাধা নামে এক মহিলার সঙ্গে থাকতেন। ওই মহিলা সুদের কারবার করতেন। সেখান থেকেই ঝামেলার সূত্রপাত।
আরো পড়ুন>> ফিলিস্তিনি ব্যক্তিকে হেনস্তা, তিন ইসরায়েলি সেনার কারাদণ্ড
তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, ব্যবসার জন্য লিভ ইন সঙ্গিনীর কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন মোহন। কিন্তু ফেরত দিতে চাননি। এ নিয়ে তাঁদের মনোমালিন্যের শুরু। আর সেখান থেকেই এই খুনের ঘটনা।
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে হায়দ্রাবাদের দিলসুখনগরে মোহনের বাড়িতে এই খুন হয় গত ১২ মে। ওই দিন দু’জনের মধ্যে প্রচণ্ড ঝগড়া হয়। একটা সময় অনুরাধার বুকে ছুরি বসিয়ে দেন মোহন। তার পর পেটে ছুরি চালান। কিছুক্ষণের মধ্যে মৃত্যু হয় অনুরাধার। এরপর প্রেমিকার দেহ টুকরো টুকরো করে কাটেন মোহন। তার জন্য দুটো ছোট পাথর কাটার মেশিন কিনে এনেছিলেন। মাথা কাটার পর সেটা নিয়ে অটোয় চড়ে মুসি নদীর ধারে চলে যান অভিযুক্ত। নদীতে কাটা মাথা ছুড়ে ফেলে আবার ঘরে ফেরেন।
তার পর আবার সেই কাজ। সঙ্গিনীর হাত-পা কেটে একটি প্লাস্টিকে ঢেকে ঢুকিয়ে দেন ফ্রিজে। যাতে দুর্গন্ধ না বেরোয়, তার জন্য গোটা বাড়িতে প্রচুর সুগন্ধি ছড়ান। কী ভাবে দেহ নষ্ট করে ফেলা যায় তার জন্য গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক মাধ্যমে এই সংক্রান্ত ভিডিও দেখতেন মোহন।
এই ঘটনার তদন্তে নেমে ওই বাড়ি এবং এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন জেরার মুখে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন অভিযুক্ত। এখন দেহের অন্যান্য অংশের খোঁজ চলছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে খুন-সহ বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
সূত্র: আনন্দবাজার