* সর্বোচ্চ আহত ঢাকা বিভাগে ৯২৫৭ জন
* সর্বনিম্ন আহত বরিশাল বিভাগে ২২৫ জন
প্রসঙ্গত, আহতের এ সংখ্যাই চূড়ান্ত নয়। দেশের কিছু জায়গায় সরকারি-বেসরকারিভাবে আহতদের তালিকা করার কাজ চলমান রয়েছে। ফলে সেসব জায়গা থেকে নির্দিষ্টভাবে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
.png)
জরিপে দেখা গেছে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গত জুলাই ও আগস্টে চলা সহিংসতায় চট্টগ্রাম বিভাগে মোট আহত হয়েছেন ১ হাজার ৯২০ জন। সিলেট বিভাগে আহত হয়েছেন ১ হাজার ৭৪৯ জন। রাজশাহী বিভাগে আহত হয়েছেন ১ হাজার ৫২৭ জন। রংপুর বিভাগে আহত হয়েছেন ১ হাজার ৪৫৯ জন। খুলনা বিভাগে আহত হয়েছেন ৫৯৪ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে আহত হয়েছেন ২২৭ জন।
জরিপে উঠে এসেছে- খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া জেলায় ৪৬ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়েছেন ২৫-৩০ জন। ১০ জনের চিকিৎসা চলমান। আহতদের মধ্যে চিকিৎসা পাননি- এমন কেউ নেই।
মাগুরা জেলায় আহত হন ২০০ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৯০ জন। চিকিৎসা চলমান রয়েছে ৩০ জনের। চিকিৎসা দেওয়া হয়নি ১০ জনকে।
খুলনা জেলায় আহত হয়েছেন ১০১ জন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৫২ জন। আনুমানিক ১০ জনের চিকিৎসা চলমান। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। চুয়াডাঙ্গা জেলায় আহত হয়েছেন চারজন। তারা চারজনই চিকিৎসা নিয়েছেন। ঝিনাইদহ জেলায় ১২২ জন আহত হন। চিকিৎসা নিয়েছেন ৭০ জন। ৫-১০ জনের চিকিৎসা চলমান। চিকিৎসা পাননি ২০ জন।
নড়াইল জেলায় আহত হন ৭২ জন। চিকিৎসা নিয়েছেন ৫০ জন। চিকিৎসা চলছে ২২ জনের। চিকিৎসা দেওয়া হয়নি ২০ জনকে। আন্দোলনে বাগেরহাট জেলায় কেউ আহত হননি। দুই-তিন জায়গায় ছাত্র-জনতার পক্ষে মিছিল হলেও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। মেহেরপুর জেলায়ও বিক্ষোভ-মিছিল হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। যশোর জেলায়ও কোনো গোলাগুলি, পুলিশের লাঠিচার্জ কিংবা পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়নি। ফলে এখানেও কেউ আহত হননি। সাতক্ষীরা জেলায় আহত হন ৪৯। চিকিৎসা নিয়েছেন ৩৭ জন। চিকিৎসা চলছে ৫ জনের। বাকিরা চিকিৎসা পেয়েছেন।
চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম জেলায় আহত হন ৩৯৪ জন। চিকিৎসা চলছে ১৫০ জনের। বাকিরা চিকিৎসা পেয়েছেন। কক্সবাজার জেলায় আহত হন ৬৫ জন। সাতজনের চিকিৎসা চলমান। বাকিরা বিভিন্নভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। বান্দরবান জেলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। খাগড়াছড়ি জেলায় আহত হন ৭ জন। সাতজনই জেলা সদর হাসপাতাল ও শহরের বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন। রাঙ্গামাটি জেলায় আহত হন ১৫ জন। সবাই চিকিৎসা নিয়েছেন।
নোয়াখালী জেলায় ৯০ জন আহত হন। অর্ধশতাধিক ব্যক্তির চিকিৎসা চলমান। কিছু আহত ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে রয়েছেন। বাকিরা চিকিৎসা পেয়েছেন। লক্ষ্মীপুর জেলায় ১২২ জন আহত হন। শতাধিক ব্যক্তি চিকিৎসা নিযেছেন। ২৫ জনের চিকিৎসা চলমান রয়েছে। ফেনী জেলায় ৪৪২ জন আহত হন। সবাই চিকিৎসা নিয়েছেন। কুমিল্লা জেলায় আহত ৪৫৫ জন। চিকিৎসা নিয়েছেন ৩৮৫ জন। চিকিৎসা চলমান ৫০ জনের। চিকিৎসা দেওয়া হয়নি ২০ জনকে।
চাঁদপুর জেলায় আহত হন ২৫০ জন। চিকিৎসা নিয়েছেন ১৮০ জন। চিকিৎসা চলমান ১০ জনের। বাকিরাও চিকিৎসা নিয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় আহত হন ১৮০ জন। চিকিৎসা চলমান ১৫ জনের। বাকিরা চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঢাকা বিভাগের ফরিদপুর জেলায় আহত হন ৯০ জন। দুজনের চিকিৎসা চলমান। বাকিরা চিকিৎসা নিয়েছেন। রাজবাড়ী জেলায় আহত হন ২২ জন। প্রত্যেকেই বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। গোপালগঞ্জ জেলায় কেউ আহত নেই। মাদারীপুর জেলায় ৪৫০ জন আহত হন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়েছেন ৩০০ জন। চিকিৎসা চলমান ১০ জনের। চিকিৎসা দেওয়া হয়নি ১৫০ জনকে।
শরীয়তপুর জেলায় আহত হন ১৪ জন। চিকিৎসা পেয়েছেন ১২ জন। দুজনের চিকিৎসা চলমান। মানিকগঞ্জ জেলায় ২৫০ জন আহত হন। সবাই চিকিৎসা নিয়েছেন। মুন্সীগঞ্জ জেলায় আহত হন দুই শতাধিক ব্যক্তি। গুলিবিদ্ধ পাঁচজন এখনো ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকিরা চিকিৎসা নিয়েছেন। গাজীপুর জেলায় আহত হন ৭৩১ জন। চিকিৎসা চলমান ১০০ জনের। বাকিরা বিভিন্নভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ জেলায় ৬১ জন আহত হন। সবাই চিকিৎসা নিয়েছেন।
নরসিংদী জেলায় প্রায় ১ হাজার মানুষ আহত হন। চিকিৎসা চলমান ১২৭ জনের। এর মাঝে অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও অঙ্গহানির শিকার হয়েছেন। তারা এখন বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাকিরাও চিকিৎসা নিয়েছেন। টাঙ্গাইল জেলায় আহত হন ২৬২ জন। চিকিৎসা চলমান ১০ জনের। অন্য সবাই চিকিৎসা নিয়েছেন। কিশোরগঞ্জ জেলায় আহত হন ৫০ জন। চিকিৎসা চলমান ১৫-১৬ জনের। বাকিরা আগেই চিকিৎসা পেয়েছেন।
সরাসরি রাজধানীর সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের তথ্যানুযায়ী, আহতের সংখ্যা ৬ হাজার ১২৭ জন। তালিকা হালনাগাদের কাজ এখনো চলমান। যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। রাজধানীর ২২টি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ২ হাজার ৫৯৩ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আহত মানুষ চিকিৎসা নেন রামপুরার বনশ্রী ফরাজী হাসপাতালে।
বরিশাল বিভাগের বরিশাল জেলায় আহত হন ৭৫ জন। সবাই চিকিৎসা নিয়েছেন। বরগুনা জেলায় ৩৫ জন আহত হন। সবাই চিকিৎসা নিয়েছেন। ভোলা জেলায় আহত হন ২০ জন। সবাই চিকিৎসা নিয়েছেন। ঝালকাঠি জেলায় আহত হন পাঁচজন। চিকিৎসা চলমান একজনের। বাকিরা চিকিৎসা নিয়েছেন। পটুয়াখালী জেলায় আহত হন সাতজন। সবাই চিকিৎসা নিয়েছেন। পিরোজপুর জেলায় আহত হন ৮৩ জন। সবাই চিকিৎসা নিয়েছেন।
ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহ জেলায় আহত হন ১৯৪ জন। চিকিৎসা চলমান তিনজনের। বাকিরা নানাভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। শেরপুর জেলায় দুজন আহত হয়েছেন। তারা চিকিৎসা নিয়েছেন। জামালপুর জেলায় ২২ জন আহত হন। এর মধ্যে পাঁচজন চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসা দেওয়া হয়নি ১৭ জনকে। নেত্রকোণা জেলায় আহত হন ৯ জন। সবাই চিকিৎসা নিয়েছেন।
রংপুর বিভাগের রংপুর জেলায় আহত হন ২৫০ জন। সরাসরি হাসপাতালে দুই শতাধিক ব্যক্তি চিকিৎসা নিয়েছেন। বাকিরা অন্যভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। দিনাজপুর জেলায় আহত হন ৩ শতাধিক। চিকিৎসা চলমান পাঁচজনের (একজন দিনাজপুরে ও চারজন ঢাকায় চিকিৎসা নিচ্ছেন)। বাকিরা নানাভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
গাইবান্ধা জেলায় ১৪৭ জন আহত হন। চিকিৎসা চলমান ১০ জনের। চিকিৎসা দেওয়া হয়নি- এমন কেউ নেই। কুড়িগ্রাম জেলায় ৪৫ জন আহত হন। চিকিৎসা চলমান ১১ জনের। চিকিৎসা দেওয়া হয়নি- এমন কেউ নেই। নীলফামারী জেলায় ২৯৯ জন আহত হন। সবাই চিকিৎসা নিয়েছেন। পঞ্চগড় জেলায় আহত হন ১১৬ জন। সবাই চিকিৎসা নিয়েছেন। ঠাকুরগাঁও জেলায় ২৯৭ জন আহত হন। চিকিৎসা দেওয়া হয়নি- এমন কেউ নেই। লালমনিরহাট জেলায় আহত হন পাঁচজন। চিকিৎসা চলমান নেই। সবাই সুস্থ।
রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী জেলায় আহত হন ১৩০ জন। চিকিৎসা দেওয়া হয়নি- এমন কেউ নেই। নাটোর জেলায় ৪১ জন আহত হন। চিকিৎসা চলমান একজনের। চিকিৎসা দেওয়া হয়নি- এমন কেউ নেই। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পরিস্থিতি ছিল শান্ত। শেষদিকে দুই-একদিন কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও আহত বা নিহতের কোনো ঘটনা এখানে নেই। তবে ঢাকায় নিহত কয়েকজনের স্থায়ী ঠিকানা চাঁপাইনবাবগঞ্জে।
জয়পুরহাট জেলায় আহত হন ৩৭ জন। চিকিৎসা চলমান পাঁচজনের। চিকিৎসা দেওয়া হয়নি- এমন কেউ নেই। নওগাঁ জেলায় ৩৪ জন আহত হন। সবাই চিকিৎসা নিয়েছেন। বগুড়া জেলায় ৬২৭ জন আহত হন। সবাইকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দুইজন চোখের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় চিকিৎসাধীন। সামান্য আহত আছেন শতাধিক।
পাবনা জেলায় ৮৮ জন আহত হন। চিকিৎসা চলমান আটজনের। বাকিরা চিকিৎসা নিয়েছেন। সিরাজগঞ্জ জেলায় ৫৭০ জন আহত হন। চিকিৎসা নিয়েছেন ৪৮৭ জন। চিকিৎসা চলমান ৫৫ জনের। চিকিৎসা দেওয়া হয়নি ২০ জনকে। বাকি আটজনের তথ্য পাওয়া যায়নি।
সিলেট বিভাগের সিলেট জেলায় আহত হন প্রায় ১ হাজার জন। চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় ৭০০ জন। চিকিৎসা চলমান ৮০ জনের। বাকি অনেককে আউটডোর বেসিসে চিকিৎসা দিয়ে বিশ্রামের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তাদের অনেককে তালিকাভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
সুনামগঞ্জ জেলায় ১৭৭ জন আহত হন। সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৭৭ জন। চিকিৎসা চলমান দুজনের। বাকি অনেকে গ্রেফতারের ভয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেননি। হবিগঞ্জ জেলায় ৫ শতাধিক মানুষ আহত হন। চিকিৎসা চলমান ১৫-২০ জনের। বাকিরা হাসপাতাল অথবা প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের তালিকা পাওয়া যায়নি।
মৌলভীবাজার জেলায় ৭২ জন আহত হন। সবার প্রাথমিক চিকিৎসা হয়েছে। কয়েকজন গুলিবিদ্ধের চিকিৎসা চলমান। অনেকের শরীরে এখনো গুলি রয়েছে। যাদের চোখে সমস্যা হয়েছে, তারা এখনো চিকিৎসা বা অপারেশন করায়নি।