জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের কথা তুলে যা বললেন আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের সময় হত্যাকাণ্ড ও হতাহতের ঘটনা ঘটলেও অনেকে তা দেখেও না দেখার ভান করছেন। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের সময় ২০ দিনে পাখির মতো গুলি করে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে রাস্তায় হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.) আয়োজিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
.png)
আইনমন্ত্রী বলেন, ওই সময়ে প্রায় ৩০০ মানুষ হাত, পা বা মাথা হারিয়েছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থীর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ওই শিক্ষার্থীর মাথার একটি অংশ নেই।
তিনি আরও বলেন, মানুষের মুখোশ পরে রাতের অন্ধকারে ক্রসফায়ারের নামে মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকের ভাই, বোন, মা ও স্বামী এখনো নিখোঁজ। এসব ঘটনার পরও অনেকে কিছুই ঘটেনি বলে দাবি করছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ফ্যাসিবাদীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা ঠেকাতে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, প্রত্যেকের উচিত নিজের অবস্থান থেকে অন্যায় ও অপরাধের বিরুদ্ধে কথা বলা। সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এটি নাগরিকদের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ফ্যাসিবাদ যেন দেশে আবারও পুনর্বাসিত হতে না পারে এবং কেউ যেন ফ্যাসিস্ট হয়ে না ওঠে, সে জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা না করে অন্যায় ও হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে চোখ খুলে অবস্থান নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করলে বাংলাদেশকে আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য দেশ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভুল হতে পারে, তবে ভুল সংশোধন করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে এসব মূল্যবোধ সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে। ফ্যাসিবাদ যাতে পুনর্বাসিত হতে না পারে এবং কেউ যাতে ফ্যাসিস্ট হয়ে না ওঠে, সে জন্য কার্যকর রোডম্যাপ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের প্রতিভা বিকাশে ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, তারাও সমাজের মানুষ এবং তাদের অধিকার রয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এ ধরনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরামর্শ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ফয়েজ আহমেদ, ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর সভাপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এম নুরউদ্দিন খান, ইরান দূতাবাসের প্রথম কাউন্সেলর এসরাফিল আমিরি গোর্জাদ্দিনি, ঢাকা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান এরশাদ ফয়েজ এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনামুল হক।
অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক বিভাগে অংশ নেওয়া প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার দেওয়া হয়। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ ও নাতে রাসুল (সা.) এবং রচনা প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ বছরের প্রতিযোগিতার প্রতিপাদ্য ছিল ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা’।