জাহাঙ্গীরনগরের উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি বরদাশত নয়: উপাচার্য
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।তিনি বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও সততা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে আপস করা হবে না।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রাস্তার উন্নয়ন কাজ এবং শহীদ হাবিবুর রহমান কবির সরণির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
.png)
উপাচার্য বলেন, আমি সমস্ত মানুষের উপস্থিতিতে, ইউজিসি, মিনিস্ট্রি সবাইকে বলছি, ফর গড, নো করাপশন। এটা আমার লিডার এবং হাজার মানুষের রক্তের দোহাই। এটা হবে না। জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি করাপশন ফ্রি।
উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি চাই জাহাঙ্গীরনগরের স্বার্থকে সবার আগে দেখতে। আমার ইন্টেগ্রিটি এবং দ্য ইন্টারেস্ট অব জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি।
তিনি আরও বলেন, হাজার মানুষের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে একজন উপাচার্য এরকম কাজ করে অন্যায় করেনি, এটা দাবি করতে পারে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে প্রয়োজনে নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ ও পদ ছাড়তেও প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়ে উপাচার্য বলেন, জাহাঙ্গীরনগরের কল্যাণের জন্য আমি ব্যক্তিগত কল্যাণ, এমনকি আমার পথ থেকে চলে যাওয়া পর্যন্ত আমি কেয়ার করি না। আই অ্যাম রেডি অলওয়েজ।
নিজের নৈতিক অবস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, হয়তোবা আমি এখানে ভিসি হিসেবে আছি। মেবি দ্য আফটার টুমরো আমি আমার পজিশন হারাব। বাট আই অ্যাম নট লুজিং মাই ইন্টিগ্রিটি।
তিনি বলেন, আমার সব চলে যাক, কিন্তু আমার ইন্টিগ্রিটিটা রক্ষা হোক। আই ডোন্ট কেয়ার অ্যাবাউট দিস পজিশন।
উপাচার্য বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুধু অবকাঠামো নির্মাণের বিষয় নয়, এর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ জড়িত। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, আমি যেমন আমার অভিভাবকদের কাছ থেকে সাজেশন নিই, আপনাদের কাছেও সাজেশন নিতে চাই। আমি এই নীতিতে চলছি। আপনারা যদি এর চেয়ে ভালো কোনো নীতি আমাকে সাজেশন দেন, অবশ্যই আপনাদের সঙ্গে সহযাত্রী হতে চাই।
শহীদ হাবিবুর রহমান কবিরের স্মৃতি সংরক্ষণ প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, কবির শুধুমাত্র মৃত একটা নেতার নাম না। কবির হচ্ছে জীবন্ত অগ্নিয়োগী।
তিনি বলেন, শহীদ কবিরের স্মৃতিকে শুধু একটি স্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ধারণ করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা ও মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
ভিন্নমত ও সহাবস্থান প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, আমি কোনো মানুষের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করা পছন্দ করি না। আমি আর্গুমেন্ট করা পছন্দ করি। আমার যুক্তি যদি আপনার চেয়ে ভালো হয়, আমাকে ফলো করেন। আর যদি ভালো না লাগে, ইউ কিপ ডিস্টেন্স।
তিনি বলেন, কারও গায়ে হাত তোলার আগে মনে রাখবেন, আপনার জন্য একটা সময় আসবে, আপনার গায়েও হাত আসবে। সেটা কোথা থেকে আসবে আপনি জানবেন না।
অনুষ্ঠানে ছাত্র সংগঠনগুলোর ভূমিকা প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান উপাচার্য। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে তার বিভিন্ন কার্যক্রমে ছাত্রদল কোনো বাধা সৃষ্টি করেনি।
আজ পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি এতগুলো কাজ করছি, কোথাও এসে ছাত্রদল একটি মুহূর্তের জন্য কোনো বাধা তৈরি করেনি, বলেন তিনি।
জাকসুর কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, জাকসু অত্যন্ত নির্বিঘ্নে কাজ করছে। কখনোই মুখোমুখি হয়নি।
ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমাদের যা প্রাপ্য, সবকিছুই হবে। তবে সেটা ন্যায্যভাবে, ওই ফ্যাসিস্ট আমলের দখলদারিত্বের মাধ্যমে নয়।
অনুষ্ঠানের শেষ দিকে শহীদ হাবিবুর রহমান কবিরের জন্য দোয়া করার আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য বলেন, আজকে নামাজে তাকে স্মরণ করবেন। আমাদের এই আনুষ্ঠানিকতার চাইতে তার জন্য সেটা অনেক বেশি।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানা, জাবি সিনেট সদস্য ও ছাত্র ফ্রন্টের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, জাকসু’র সাবেক ভিপি আশরাফ উদ্দিন খান, জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু, জাবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মো. বাবর প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন-শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন।