বাংলাদেশ ও পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের জ্বালানি তেলের দাম
খুচরা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে। নতুন তালিকা অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
জানা গেছে, দেশের আমদানীকৃত জ্বালানির ৭০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী রুট দিয়ে পরিচালিত হয়। বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট একটি অচিন্তনীয় প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে, যা কোভিড-১৯ বা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চেয়েও ভিন্ন ও জটিল।
.png)
বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশী দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জ্বালানি তেলের দাম তুলনা করলে বেশ কিছু পার্থক্য দেখা যায়। ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটান ও পাকিস্তানে সাম্প্রতিক সময়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম নিচে তুলে ধরা হলো।
পার্শ্ববর্তী দেশ ও বিভিন্ন অঞ্চলের দেশগুলোর জ্বালানি তেলের দর উল্লেখ করে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ভারতের কলকাতায় প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য ১৩৪.৭৬ টাকা, মিয়ানমারে ১৬৪.৮৩ টাকা, নেপালে ১৬১.২৪ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ১৭৯.৪২ টাকা, থাইল্যান্ডে ১৫১.২২ টাকা, ভিয়েতনামে ১৩৭ টাকা, মালদ্বীপে ১৪০ টাকা, ফিলিপাইনে ১৬৮.৫৩ টাকা, পাকিস্তানে ১৮৫.৪৮ টাকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ১৪৪.৭৯ টাকা।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ভোক্তা পর্যায়ের চূড়ান্ত মূল্যের একটি অংশ মাত্র। কর ও শুল্ক, মুদ্রার বিনিময় হার, আমদানি ও পরিবহন ব্যয় এবং সরকারের মূল্য নির্ধারণের নীতির কারণে দেশভেদে জ্বালানি তেলের দামে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম একই হলেও বিভিন্ন দেশে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম এক নাও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে দেশগুলো নিজেদের তেল উৎপাদন করে কিংবা জনগণের জন্য তেলের দামে ভর্তুকি দেয়, সেখানে জ্বালানি তেল বেশ সস্তা। কিন্তু বাংলাদেশ, ভারত বা জাপানের মতো যেসব দেশকে বিদেশ থেকে তেল কিনে আনতে হয় এবং সরকার তেলের ওপর শুল্ক আরোপ করে, সেখানকার সাধারণ মানুষকে বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রায় কেনা জ্বালানি তেল পাচার হওয়া রোধ করতে এই সিদ্ধান্ত। মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্তের ফলে জনগণের ওপর পড়া অভিঘাত নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে এই সিদ্ধান্তের কারণে জনগণের যে কষ্ট হবে তা আমি উপলব্ধি করি। সামনে কোনো বিকল্প না থাকায় এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।