ঢাকা,  সোমবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

বেনাপোল কাস্টমস ও বন্দরে রাজস্ব আহরণে গতিশীলতা বাড়ানোর আহ্বান পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:৫৪, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বেনাপোল কাস্টমস ও বন্দরে রাজস্ব আহরণে গতিশীলতা বাড়ানোর আহ্বান পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর
বেনাপোল পৌর গেটে আয়োজিত সমাবেশ সঞ্চালনা করেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ভারত। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সততা ও ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে কোনোভাবেই রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে পণ্য পাচার করা যাবে না। চোরাচালান প্রতিরোধ এবং সঠিকভাবে রাজস্ব আদায়ে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বেনাপোল কাস্টমস হাউস মিলনায়তনে কাস্টমস কর্মকর্তা ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শেখ ফরিদুল ইসলাম বর্তমানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বেনাপোল দেশের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর। চট্টগ্রাম বন্দরের তুলনায় এ পথে কম খরচে ও স্বল্প সময়ে ভারত থেকে পণ্য আমদানি করা সম্ভব। তবে বন্দরকে ঘিরে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।

Advertisement

মতবিনিময় সভায় কাস্টমসের পক্ষ থেকে আমদানি-রপ্তানি ও রাজস্ব আদায়ের সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরেন সহকারী কমিশনার অতুল কুমার। কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান বন্দরে পণ্য ওঠানামার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির ঘাটতির কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে রপ্তানি বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় ব্যবসায়ীরা বেনাপোল বন্দরের বিভিন্ন সমস্যা ও অনিয়মের বিষয় প্রতিমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। শুল্ক ফাঁকি ও ঘোষণা বহির্ভূত পণ্য আমদানির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি যারা নিয়ম মেনে ব্যবসা করছেন, তাদের জন্য সহজ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

বেনাপোলের ব্যবসায়ী মফিজুর রহমান সজন বলেন, একসময় এ বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৩ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতেন। দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হলে যাত্রী চলাচল আবারও বাড়বে বলে আশা করেন তিনি। একই সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল রাখতে বেনাপোল থেকে পদ্মা সেতু পর্যন্ত ছয় লেনের সড়ক নির্মাণের দাবি জানান।

পরে বিকেল ৫টার দিকে প্রতিমন্ত্রী বেনাপোল পৌর গেটে যান। সেখানে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ভারত উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোপণ করা গাছ পরিদর্শন করেন এবং আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বল্প সময়ে ১০ হাজার গাছ রোপণ করা প্রশংসনীয় উদ্যোগ। বর্ষা মৌসুম শেষে গাছগুলো যাতে বেঁচে থাকে, সে জন্য নিয়মিত পানি দেওয়া ও পরিচর্যার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পরে পৌর গেটের আশপাশে রোপণ করা গাছগুলো পরিদর্শন করেন এবং উলশী জিয়া খাল ও তালবাগান পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

এ সময় বেনাপোল কাস্টমস হাউস ও পৌর গেটে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে স্লোগান দিতে দেখা যায়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে দুই স্থানেই সমাবেশের পরিবেশ তৈরি হয়।

বেনাপোল কাস্টমস হাউস ও পৌর গেটে আয়োজিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন যশোর-১ (শার্শা) আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবেরা নাজমুন মুন্নী, শার্শা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মফিদুল ইসলাম তৃপ্তি, শার্শা উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা খাইরুজ্জামান মধু, সভাপতি আবুল হাসান জহির, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন, বেনাপোল পৌর বিএনপির সভাপতি নাজিম উদ্দিন, সহসভাপতি আতিকুর রহমান সনি, সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ভারত, নাভারণ সার্কেলের এএসপি আরিফুল ইসলাম এবং ব্যবসায়ী মফিজুর রহমান সজনসহ অনেকে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!