ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খবর ]

তৈল মর্দনের রসায়ন

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:৪১, ১৬ জুলাই ২০২৬
তৈল মর্দনের রসায়ন
যারা তেল দেয় আর যারা তেল নেয় তাদের মধ্যে আছে একটি আশ্চর্য সমীকরণ। তৈল গ্রহন কারি বদলান কিন্তু তৈল প্রদান কারি এক থাকেন তাদের গিরগিটি চরিত্র এরা রূপ পাল্টান আর সেই ক্ষমতাবানের দলের হয়ে যান।


স্যাচুরেটেড তৈলের  আর ট্রান্স তৈলের ঘাতক চরিত্র।  এই গ্রন্থনা হর প্রসাদ শাস্ত্রির তৈল রচনা দ্বারা অনুপ্রানিত। তৈল কি পদার্থ তাহা সংস্কৃত কবিরা কতক বুঝিয়াছিলেন তাহদের মতে তৈলের অপর নাম স্নেহ। বাস্তবিক স্নেহ আর তৈল একই পদার্থ।  যেমন-
" আমি তোমায় স্নেহ করি তুমি আমায় স্নেহ কর তাই আমরা পরস্পরকে তেল দিয়ে থাকি "
" যে তৈল  দিতে পারিবে তাহার বিদ্যা না থাকিলেও সে প্রফেসার হইতে পারিবে " - হর  প্রসাদ শাস্ত্রী

 তৈল মর্দন বা চাটুকারিতা নিয়ে চমকপ্রদ উক্তি আছে-

"তৈলমর্দনের গুণ যার, তার জন্য 
সুযোগের দরজা সদা প্রসারিত!

Advertisement

"যত বেশি তেল দেবে, চাকরি তত মসৃণ হবে!

"নিজের পা দাঁড় করাতে না পারলে, 
অন্যের জুতো পালিশ করতেই হবে!

"তৈলবাজদের মাথায় মগজ কম, 
কিন্তু সুযোগ বেশি!

"তেল মেরে সম্মান পাওয়া যায়, 
কিন্তু যোগ্যতা পাওয়া যায় না!

তৈল মর্দনের অর্থ বোঝে না এমন লোক বর্তমান সমাজে নেই বললেই চলে। তেলের বাহারি ব্যবহারের হাজারো উপকার নিয়ে লিখতে গেলে বিরাট এক মহাকাব্য তৈরি হয়ে যাবে। তেল কত প্রকার এবং কী কী অথবা তেল কোন কোন অঙ্গে কিরূপে মর্দন করলে কতটুকু সুফল পাওয়া যাবে।

যারা তেল দেয় আর যারা তেল নেয় তাদের মধ্যে আছে একটি আশ্চর্য সমীকরণ। তৈল গ্রহন কারি বদলান কিন্তু তৈল প্রদান কারি এক থাকেন তাদের গিরগিটি চরিত্র এরা রূপ পাল্টান আর সেই ক্ষমতাবানের দলের হয়ে যান।

স্কুলে পড়ার সময় আমরা ঐকিক নিয়মের একটা অংক করিতাম এবং সেটি পরীক্ষায় প্রায় আসিত। তাহা হইল-
একটি বানর একটি তৈলাক্ত বাঁশ বাহিয়া ১ম মিনিটে ৫ ফুট উপরে উঠিল আর তার পরের মিনিটে ৪ ফুট নিচে নামিয়া যায়। বাঁশটির উচ্চতা ১০০০ হাজার ফুট হইলে বাঁশটির মাথায় উঠিতে বানরটির কতো সময় লাগিবে?

তৈলের প্রতি আমার সবসময় একটা অনিহা ছিল। তৈল জাতীয় পিঠা আমার পেটে হজম হইত না। মাথায় এবং শরীরে কখনো তৈল মেখেছি বলিয়া মনে পড়ে না। কাহারো মাথায় তৈল দেওয়া দেখলে আমার শরীরে শির শিরানি অনুভুতি হইত। তাই এই অংকটি সমাধান করিতে গেলে আমার সেরকম অনুভুতি হইত।

মনে হইত আমার হাত যেন তৈলে ভরিয়া গিয়াছে। কলমখানা বুঝি পিছলাইয়া পড়িয়া যাইবে। আরো একখান কষ্ট হইত যে, বানর তো স্বইচ্ছায় এরকম কর্ম করিত না। অবশ্যই তাহার পশ্চাৎ দেশে কেহ একজন সজোরে আঘাত করিত আর সে তাহা সহিতে না পারিয়া অনিচ্ছা সত্ত্বেও ঐ তৈলাক্ত বাঁশে ‍উঠিবার কসরত করিত।

আহা বানর! বঙ্গ দেশে তোমার জন্ম হইয়াছে বলিয়া এরকম খেলা খেলিয়াছে। ইউরোপ আমেরিকায় হইলে তোমাকে নিয়া নানা গবেষণা করিত। এইডসসহ নানা রোগের টিকা আবিষ্কার করিয়া তোমার উপর পুন: পুন: প্রয়োগ করিত। তবুও তৈলাক্ত বাঁশ বাহিয়া উঠার চেয়ে মানব জাতির কল্যানে নিজেকে উৎসর্গ করা মনে হয় অনেক মহৎ হইত।

এখন কথা হইল বানরতো তৈলাক্ত বাঁশ বাহিয়া উপরে উঠিল। কিন্তু বাঁশে তৈল মর্দন করিল কে? আমরা। আমরা সেই ছোট বেলা থেকে বাঁশে তৈল মর্দন করা শিখিয়াছি। তা বড় হইয়া ভুলিতে পারি নাই। তাই যখনই সুযোগ পাই সেই শিক্ষাটাকে কাজে লাগাই। আর এভাবে বাঙালির তৈল মর্দন চর্চা চলছে।

তৈল গ্রহণকারি বোঝেন তিনি উপযুক্ত না তাকে তেল দেওয়া হচ্ছে , আর কোন প্রাপ্তিযোগ আছে সেই তেল দেওয়া লোকের তবু তাকে তিনি প্রশ্রয় দেন, এতে আনন্দ পান আর তা উপভোগ করেন।

 নিজেকে অনেক সেয়ানা ভাবেন। মনে মনে বলেন-  আরে বেটা তোকে আমি খেলাব কিন্তু যারা তেল দেয় তারা অনেক এক্সপার্ট এরা যারা ক্ষমতায় তাদের তেল দিয়ে অভ্যস্ত তাই এরা শেষ পর্যন্ত তৈলাক্ত লোককেই খেলিয়ে তার সর্বনাশ করে এরা। প্রথমে থাকে স্যাচুরেটেড ঘন চর্বি বিনাশ শুরু করে।

প্রথম এরা এরপর এরা রাস্তার পারে দোকানে সিঙ্গারা যে তেলে ভাজা হয় বসাত ডিঙ পর সেই তেল ট্রান্স ফ্যাটের রুপে এসে তেলায় আর তখন  আসল সর্বনাশের শুরু। যখন তিনি বুঝেন তখন বিপন্ন আর কোন ও মোসাহেব ধারে পাশে নাই।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এস এম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!