ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ মজার খবর ]

আগে পুরো খবরটা পড়েন-  তারপর বিপ্লব করেন!

 আল মামুন রিটন
প্রকাশিত: ১৬:২৫, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আগে পুরো খবরটা পড়েন-  তারপর বিপ্লব করেন!
আমরা অনেক সময় খবর পড়ি না, খবরের শিরোনাম পড়ি। তারপর নিজের রাগ, আনন্দ, ভয় বা পছন্দ অনুযায়ী মন্তব্য করি।

ধরুন, ফেসবুকে একটি পোস্ট এল: “বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করলেন, প্রতিদিন রাতে মোবাইল বালিশের নিচে রাখলে সকালে ঘুম থেকে উঠে মানুষ নাকি ১০ বছর কম বয়সী হয়ে যায়!” পোস্টের নিচে একজন সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য করলেন, “বিজ্ঞানীরা সত্যিই অসাধারণ! আজ থেকে আমিও বালিশের নিচে মোবাইল রাখব।”

আরেকজন লিখলেন, “আমি তো আগেই বলেছিলাম, প্রযুক্তির ভালো দিক আছে!”
তৃতীয়জন আরও এক ধাপ এগিয়ে লিখলেন, “এটা নিশ্চয়ই সরকার গোপন করতে চাইবে!”
আরেকজন বিরোধ করলেন— “উমহ্! গবেষকদের নতুন চেলা আবিষ্কার হইছে।”

Advertisement

সমস্যা হলো, কেউই পুরো লেখাটা পড়েননি।
পোস্টের শেষ লাইনে ছোট করে লেখা ছিল—
“এই দাবিটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। শুধু আপনাকে পোস্টটি শেষ পর্যন্ত পড়ানোর জন্য লেখা হয়েছে।”

এখানেই ডিজিটাল যোগ্যতার প্রয়োজন।
ডিজিটাল যোগ্যতা মানে শুধু ফেসবুক চালাতে পারা, ইউটিউবে ভিডিও খুঁজে পাওয়া বা মোবাইলে দ্রুত টাইপ করতে পারা নয়। এর আসল অর্থ হলো, অনলাইনে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে মাথাটাকেও অনলাইনে সক্রিয় রাখা।

কোনো খবর দেখেই মন্তব্য করার আগে একটু থামা— খবরটি কোথা থেকে এসেছে? পুরো ঘটনাটি কী? অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে একই তথ্য আছে কি? শিরোনামটি কি ইচ্ছা করে উত্তেজক করা হয়েছে?

কারণ আমরা অনেক সময় খবর পড়ি না, খবরের শিরোনাম পড়ি। তারপর নিজের রাগ, আনন্দ, ভয় বা পছন্দ অনুযায়ী মন্তব্য করি।

একটা পোস্টে লেখা হলো— “ডাক্তাররা বলছেন, চা খেলে মানুষ বোকা হয়ে যায়।”
আমরা হয়তো সঙ্গে সঙ্গে চায়ের কাপ নামিয়ে বলব, “দেখেছেন! এতদিনে সত্যিটা বের হলো!”

কিন্তু একটু নিচে গিয়ে দেখা গেল, গবেষণাটি আসলে ইঁদুরের ওপর করা হয়েছিল, চায়ের ওপর নয়। আর ‘ডাক্তাররা বলেছেন’ কথাটিও পোস্টদাতার নিজের বানানো। বৈজ্ঞানিক সত্য তো দূরের কথা, ইঁদুরের কাছ থেকেও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

ডিজিটাল যোগ্যতা তখন আমাদের বলে—
“ভাই, আগে পুরো খবরটা পড়েন। তারপর বিপ্লব করেন।”

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভুল তথ্য শুধু অন্যরা বিশ্বাস করে না, আমরাও করতে পারি। তাই ডিজিটাল যোগ্যতা কাউকে বেশি বুদ্ধিমান প্রমাণ করার বিষয় নয়; বরং নিজের ভুল হওয়ার সম্ভাবনাটাকেও স্বীকার করার অভ্যাস।

অর্থাৎ, কোনো পোস্ট দেখে প্রথমে মন্তব্য নয়, প্রথমে প্রশ্ন: “আমি যা দেখছি, সত্যিই কি পুরো ঘটনা?”
এই ছোট্ট প্রশ্নটাই অনেক বড় ভুল থেকে আমাদের বাঁচাতে পারে। অনেক বড় লজ্জা থেকেও বাঁচাতে পারে।

কারণ অপর প্রান্তে বসে থাকা পোস্টের মালিক হয়তো তখন আমাদের মন্তব্য পড়ে মুচকি হাসছে। আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, আমরা যদি এই লেখাটাও না পড়ে শেষ লাইনে এসে মন্তব্য করি, তাহলে বুঝতেই পারছেন, উদাহরণটা সফল হয়েছে।

আর যদি এমনটাই ঘটে, তাহলে এর দায়ভার অবশ্যই কর্তৃপক্ষের নয়। ভালো থাকুন, পড়ুন, তারপর লড়াই করুন।

 লেখক : আল মামুন রিটন, বিজ্ঞান তথ্য

ডেইলি-বাংলাদেশ/এস এম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!