প্রতিবছর ২০ আগস্ট বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব মশা দিবস। এ দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো মশাবাহিত রোগ (যেমন: ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, জিকা) সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা, মশার বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং ১৮৯৭ সালের এই দিনে ব্রিটিশ চিকিৎসক স্যার রোনাল্ড রসের ম্যালেরিয়া জীবাণুর বাহক হিসেবে অ্যানোফিলিস মশাকে সনাক্তকরণের ঐতিহাসিক আবিষ্কারকে সম্মান জানানো।
ছোট আকারের হলেও মশা পৃথিবীর অন্যতম বিপজ্জনক প্রাণী। বাঘ, হাঙর বা সাপের চেয়েও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে মশাবাহিত বিভিন্ন রোগে। অথচ মানুষের আবির্ভাবের বহু আগেই এই মশার পূর্বপুরুষদের রাজত্ব ছিল পৃথিবীতে।
.png)
মশা ও তার ইতিহাস সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:
প্রাচীন ইতিহাস ও জীবাশ্ম: আধুনিক মশা ‘কুলিসিডি’ (Culicidae) পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। মায়ানমারের কাচিন অঞ্চলে ক্রিটেসিয়াস যুগের অ্যাম্বারে (গাছের জমে যাওয়া আঠালো রেজিন) মোড়ানো মশাসদৃশ পতঙ্গের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে, যা প্রায় ১০ কোটি বছরের পুরোনো। অর্থাৎ ডাইনোসরদের যুগেও মশার উপস্থিতি ছিল।
ডাইনোসরের রক্ত ও সিনেমাটিক ধারণা: সিনেমা বা কল্পকাহিনিতে ডাইনোসরের রক্ত চুষে নেওয়া মশার কথা বলা হলেও, ডাইনোসরের রক্ত খেয়েই প্রাচীন মশা বেঁচে থাকত—এমন কোনো সরাসরি বৈজ্ঞানিক প্রমাণ মেলেনি।

অভিযোজন ক্ষমতা: প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ডাইনোসর বিলুপ্ত হলেও মশা নিজেদের খাপ খাইয়ে টিকিয়ে রেখেছে। সামান্য জমে থাকা পানিতে ডিম পাড়ার ক্ষমতা এবং দ্রুত জীবনচক্র সম্পন্ন করার কারণে অতি অল্প সময়ে এদের বহু প্রজন্ম তৈরি হতে পারে।
মানুষ বনাম মশা: পৃথিবীতে আধুনিক মানুষের (Homo sapiens) আবির্ভাব ঘটেছে আনুমানিক ৩ লাখ বছর আগে, যা মশার বিবর্তনীয় ইতিহাসের তুলনায় খুবই সাম্প্রতিক।
পরিবেশে মশার ভূমিকা: রোগ ছড়ানোর পাশাপাশি প্রকৃতির খাদ্যশৃঙ্খলে মশার গুরুত্ব রয়েছে। মশার লার্ভা জলজ প্রাণীদের খাদ্য এবং পূর্ণাঙ্গ মশা অন্যান্য পতঙ্গ ও পাখির আহার। এছাড়া কিছু প্রজাতির মশা ফুলের মধু খেয়ে পরাগায়নেও ভূমিকা রাখে।