করোনাকালের খেরোপাতা
‘এ ধরণের একটি বিষয় বর্ণনা করার জন্যে বর্ণনাকারী কোন সময়েই যথেষ্ট যোগ্যতা ধারণ করেন না। কারণ, এ সম্পর্কিত সংবাদ সংগ্রহ করার সুযোগ সকলের হয় না; যদি না ভাগ্য তাকে অকুস্থলে টেনে নিয়ে যায় এবং নিবিড়ভাবে বিষয়টির সাথে সম্পৃক্ত রাখে।’ – দ্য প্লেগ (আলবেয়ার কামু)
পৃথিবীতে দুই ধরণের মানুষ আছে। প্রথম প্রকারের মানুষের জীবনে কোন বিপদ-আপদ, দুর্ঘটনা বা দুর্বিপাক প্রুফ। তাদেরকে বিপদ কখনই স্পর্শ করতে পারে না। অদ্ভুত কোন কারণে। বাতাসের ফাঁক গলিয়ে বেরিয়ে যাবার মত করে তারা এগুলো থেকে পরিত্রাণ পেয়ে যান। আরেকদলের মানুষ আছে, বিপদ বা অমঙ্গল তাদের নিত্য সাথী। তাদের সমকালের সকল দুর্ঘটনা বা দুর্বিপাক তাদেরকে স্পর্শ করবেই। আমার ধারণা ব্যক্তিগতভাবে আমি দ্বিতীয় প্রকারের মানুষ। বর্তমান পর্যন্ত আমার জীবৎকালে বাস্তব পৃথিবীতে আমার চারপাশে ঘটে যাওয়া প্রায় সকল বিপদই আমাকে স্পর্শ করে গেছে। শুধু স্পর্শ করা নয়, কোন কোন সময়ে আমার জীবনের প্রতি প্রবল হুমকি পর্যন্ত সৃষ্টি করতে সমর্থ হয়েছে।
জীবনে আমি প্রথম দুর্ঘটনায় পতিত হই শৈশবে। সম্ভবত পাঁচ ছয় বছর বয়সে। আমাদের বাড়ির উঠোন ভূপৃষ্ঠ হতে কয়েক ফুট উঁচু। আমাদের এলাকার সকল বাড়িই এমন। সাধারণভাবে যমুনা তীরবর্তী এলাকায় জেগে উঠা চরাঞ্চলের অন্তর্ভূক্ত নিম্নভূমি হবার কারণে (পয়োস্তি) আমাদের বাড়িগুলোর উঠোন মহাসড়কের মতো উঁচু করে তৈরি করা হয়। বর্ষাকালে এই নিম্নাঞ্চল ডুবে যায়। গ্রাম বা জনপদগুলো তখন জলের উপরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপের মতো ভাসতে থাকে। আমাদের বাড়ির পূর্ব অংশে উঠোনের উপরে কয়েকটা আম গাছের ছায়ায় একটা কাছারিঘর। ছাদ ঢেউটিন দিয়ে তৈরী। এই ঘরে দূর থেকে ঝাড়কাটা হাইস্কুলে দূরদূরান্ত থেকে পড়তে আসা লজিং এর ছাত্ররা অবস্থান করে। আমি সকালে মক্তবে কোরান পড়া শিখি। স্কুলে যাবার বয়স তখনও আমার হয়নি। কাছের বা দূরের কোন পৃথিবী সম্পর্কেই আমার কোন ধারণা জন্মেনি। আমার দৌড় সদর বাড়ির এই কাছারিঘর এবং মক্তব পর্যন্ত। কাছারিঘরের পাশেই একটা পাতকুয়া আছে এখানে। প্রতি বছর বন্যার সময়ে এই কুয়ার জল বাড়তে থাকে। প্রবল বন্যার সময়ে ভূমি থেকে দুই হাত উঁচুতে অবস্থিত এর গোল প্রাচীরের উপর থেকে উপুড় হয়ে হাত বাড়ালেই কুয়ার ভেতরের ঘোলা ও শীতল জল ছোঁয়া যায়। আমি প্রতিদিন সকালে সন্ধায় এখানে আসি। রাতে বা সারাদিনে বন্যার জল কতটুকু বেড়েছে তা পরীক্ষা করে দেখার জন্যে। এটা করতে আমি একটা প্রাচীন পদ্ধতি ব্যবহার করি আমি। কাছারিঘরের উত্তর দিকের আম গাছের গোড়ায় জলের নীচে একটা লম্বা পাটখড়ি পুঁতে রেখেছি। লম্বালম্বি। পাটখড়িটির গায়ে প্রস্থ বরাবর হাতের আঙুলের নখ দিয়ে কয়েকটা ইঞ্চি কাঁটার দাগ দিয়ে স্কেল তৈরি করেছি। ডুবে যাওয়া দাগগুলো থেকে আমি বুঝতে পারি বন্যার জল কতটুকু বেড়েছে। জল যত বেশী বাড়ে আমার আনন্দ বাড়ে তত বেশী। আমি চাই নূহের পৃথিবীর মতো সবকিছু জলের নীচে তলিয়ে যাক। দিগন্ত বিস্তৃত জলের রুপালী প্রলেপ আমার খুবই পছন্দের। চোখে মায়ার অঞ্জন বুলিয়ে দেয়।
.png)
কাছারিঘরের সামনের উঠোনটি একটা উপবৃত্তাকার সমতল ক্ষেত্র। পরিধির দিকে ক্রমশ ঢালু হয়ে সামনের ক্ষেত এবং পাশের পগারের সাথে মিশে গেছে। শুকনো মৌসুমে আমরা শিশুরা এই ঢালু স্থানে ‘কুমির কুমির’ খেলি। তবে বন্যার সময়ে ঘোলাজলের কারণে নীচের উপত্যকার অবস্থান বা গভীরতা কোনটাই বোঝা যায় না। একদিন কাছারিঘরের সামনের বন্যার জলে আমার একদঙ্গল চাচাতো-মামাতো ভাইয়েরা মনের আনন্দে জলকেলি করছে। আমি তাদের থেকে মাত্র কয়েক গজ দূরে তীরের কাছের এক কোমর পরিমাণ গভীর জলে সাঁতার শেখার চেষ্টা করছি। হঠাৎ পা পিছলে আমি পগার পাড় থেকে পগারের গভীর জলে পড়ে গেলাম। সাঁতার না জানা মানুষ কিভাবে জলপান করতে করতে মরে যায়, সে সম্পর্কে সেদিন আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা হয়েছিল। প্রতি এক মিনিট পর পর দুই হাত ৪৫ ডিগ্রি কোণে দুই দিকে ছড়িয়ে জলের নীচ থেকে আমি বেরিয়ে আসি। প্রার্থনার ভঙ্গিতে। বাঁচার তীব্র আকুতি নিয়ে। আমি যতবারই জলের নিচ থেকে ভেসে উঠি, ততবারই দেখতে পাই আমার ভাইয়েরা আনন্দিতভাবে জলের ভেতরে সাঁতার কাটছে। আমার দিকে কেউই খেয়াল করছে না। আমি অনুভব করি যে, কেউ কেউ আমার দিকে তাকাচ্ছে, কিন্তু অদ্ভুত কারণে আমাকে উদ্ধার করার জন্যে এগিয়ে আসছে না। হয়ত বা তারা ভাবছে যে, আমিও তাদের মত আনন্দিতভাবে জলের ভেতরে একাকী ডুবসাঁতার খেলছি।
সবচেয়ে ভয়ানক ব্যাপার হল প্রাণান্তকর চেষ্টায় আমি প্রতিবারই যখন জলের ওপরে মুখ তুলতে সমর্থ হই এবং চিৎকার করে ওদেরকে ডাকতে যাই, ঠিক তখনই মাধ্যাকর্ষণের প্রবল টান আমাকে জলের নীচে টেনে নিয়ে যায়। ক্রমেই ঘোলাজলে পেট ক্রমাগত ফুলে ফেঁপে উঠতে থাকে। টেঁপা মাছের মত। আমার সেদিন সলিল সমাধি সম্পন্ন হয়ে যেতো যদি না খালেক জেঠা সেদিন সেখানে স্নান করতে নামতেন। প্রথমে তিনিও ভেবেছিলেন যে, আমি জলের সাথে দুষ্টুমি করছি। কিন্তু একটু পর ডুব দেবার জন্যে সামনের দিকে এগোতেই বুঝলেন যে, আমি গভীর জলে হাবুডুবু খাচ্ছি। আমাকে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি তুলে এনে পাড়ের শুকনো মাটির উপরে চরকির মতন ঘুরাতে লাগলেন। আমার মুখ থেকে মাধবকুণ্ডের ঝর্ণাধারা উৎসারিত হতে লাগলো। আমাকে মাটিতে নামিয়ে দিতেই আমার সম্বিত ফিরে এলো। বাড়ির কেউ জানলে এখানে আসা বন্ধ হয়ে যাবে। আমি জল থেকে সদ্য উদ্ধার পাওয়া ইন্দ্রনাথের নতুন দা’র মত তাকে অনুরোধ করে বসলাম, ‘জেঠা, আজকের ঘটনাটা আপনি কাউকেই বলবেন না।’ তিনি হেসে বললেন, ‘তুই তো মরেই যাচ্ছিলি। আমি না আসলে তো মরেই যেতি।’ আমি জলকেলিরত আমার ভাইদের দিকে তাকালাম। তারা আগের মতই খেলায় ব্যস্ত। তাদের এক ভাই যে ইতিমধ্যেই অন্তর্জলি যাত্রা সম্পন্ন করে ইন্দ্রের দরবার ঘুরে এসেছে, সে সম্পর্কে তারা মোটেই অবহিত নয়!
পরের উল্লেখযোগ্য ঘটনা মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময়ে। কলেজের এসল্ট কোর্স গ্রাউন্ডের একটা আইটেমের নাম ‘সুইঙ্গিং রোপ’ (যদি স্মৃতি আমাকে বিভ্রান্ত না করে থাকে।) প্রায় ৪ ফুট গভীর (আমার নিজের উচ্চতা তখন ৪ ফুট ৮ ইঞ্চি!) এবং নয় ফুট দীর্ঘ আয়ত ক্ষেত্রাকৃতির একটা গর্তের উপর থেকে আয়রন বার দিয়ে কেন্দ্র বরাবর একটা প্রায় দুই ইঞ্চি ব্যাসের রশি ঝোলানো ছিল। আমি প্রতিদিন গেইমস টাইমের শেষে এক দৌড়ে গর্তটিকে দৈর্ঘ বরাবর অতিক্রম করতাম, কেন্দ্রের সেই রশিটিকে দুই হাতে স্পর্শ করে বা আঁকড়ে ধরে। কিছুদিন পর আমাকে আর রশি ধরতে হতো না। লাফ দিয়ে অনায়াসেই গর্তটিকে অতিক্রম করে যেতাম। একদিন লাফ দিয়ে গর্ত অতিক্রম করার সময়ে সাময়িক মনোযোগহীনতায় আমার দুইপা গিয়ে পড়লো গর্তের দুরবর্তী প্রান্তের উপরের দিকে (কিন্তু প্রান্তের উপরের সমতল ভূমিতে নয়) এবং আমার শরীর ঝুলতে লাগলো শূন্যের উপরে এবং আমার মাথা ক্রমশ নীচের দিকে চলে যেতে লাগল। অনিবার্যভাবে তা সোজা গিয়ে গর্তের ভেতরের শক্ত মেঝেতে গিয়ে পড়বে। অতঃপর আমার নিশ্চিত মৃত্যু। কিন্তু এই অবস্থাতেই আমি প্রাণপণে শূন্যের ভেতরেই কাঁকড়া বা সাপের মতো এঁকেবেকে উপরের দিকে উঠে গিয়েছিলাম। কিভাবে, আমি জানি না। বিজ্ঞানের কোন সূত্র এখানে কাজ করেছিল সেটাও আমি জানি না।
এভাবেই অনেকগুলো দুর্ঘটনায় পতিত হই, যেগুলোর কয়েকটিতেই আমার ফ্যাটাল পরিণতি এবং মুরাকামির গল্পের কল্পিত লেখক হার্টফিল্ডের Waldo, Boy Adventurer সিরিজ গল্পের নায়কের মতো একাধিকবার মৃত্যু হতে পারত (Waldo-র মৃত্যু হয়েছিল ৩ বার।)। কিন্ত স্রষ্টার অসীম অনুগ্রহে প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমি বেঁচে যাই (যেমন আজও বেঁচে আছি)। যেহেতু আমি অতীত স্মৃতিচারণা করার জন্যে এখানে বসিনি, সেহেতু বিস্তারিত বর্ণনায় না গিয়ে আমি শুধু উল্লেখযোগ্য কিছু শিরোনাম উল্লেখ করব। আমার জীবনে আপতিত আপদ বা দুর্ঘটনাসমূহ হলো দুইবার বন্যা বা বিলের জলে ডুবে মরার সম্ভাবনা সৃষ্টি, একাধিকবার মোটর সাইকেল দুর্ঘটনা (অন্তত একবার মৃত্যুকে ছুঁয়ে ফিরে আসা), পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকুরী করে সমতলে ফেরার পর একাধারে ১০ বার ম্যালেরিয়া জ্বরে আক্রান্ত হয় মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া এবং জীবনে প্রথমবার আন্ডার ওয়েট হওয়া, আগুনে ডান বাহু ও পায়ের পাতার উপরে পুড়িয়ে ফেলা (এর ব্যতিক্রম হলে বাসস্থান পুড়ে যেত এবং লজ্জায় আমার বেঁচে থাকার আর কোন অর্থ থাকত না।), বিদেশী কোর্সে যাবার নিমিত্তে অনুষ্ঠিত শারীরিক যোগ্যতা পরীক্ষায় ৯ ফুট ডিচ অতিক্রম করার পর শক্ত মাটিতে পড়ে গিয়ে হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে ফেলা (এবং প্রায় দেড় বছর শারীরিকভাবে অকেজো থাকা), একবার চিকনগুনিয়া জ্বরে আক্রান্ত হওয়া (এই জ্বরের শেষের দিকে আপনার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রায় ব্যবহার অযোগ্য হয়ে যাবে কিছুকালের জন্যে) এবং দুই বার আকাশপথে ভ্রমণকালে কালবোশেখি বা ঝড় দ্বারা আক্রান্ত হওয়া (একবার বাংলাদেশে, আরেকবার কম্বোডিয়ায়)।
বর্তমান সময়ে আসি। ২০২০ সালের মার্চ মাসের ২৬ তারিখ অর্থাৎ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার দিন হতে অফিস আদালত অনির্দিষ্টকালের জন্যে বন্ধ হয়ে যায় এবং আমরা নিজ ঘরে আবদ্ধ হয়ে পড়ি। শুরুতে ভয় পেলেও, একটু স্থির হবার পর দেশে ও সারা বিশ্বে করোনাকে মানবজাতি কিভাবে প্রতিহত করার চেষ্টা করছে তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা শুরু করি। এই লক্ষ্যে এ সংক্রান্ত তথ্য বা ডাটা সংগ্রহ করার লক্ষ্যে আমার বন্ধু যে প্রাত্যহিকভাবে করোনা বিষয়ে গ্রাফের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করে বাংলাদেশে তথা সারা বিশ্বে করোনার ভবিষ্যৎ নিরূপণ করার চেষ্টা করত, তা অনুসরণ করি। ফেসবুকে বন্ধুদের করোনা সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট পড়ি ও সেভ করে রাখি। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাগুলোকে ধরে রাখার জন্যে ‘যে জীবন ফড়িঙের, দোয়েলের’ শিরোনামে আমার কিছু দৈনন্দিন স্মৃতিচারণা শুরু করি। পরিশেষে মহামারী সম্পর্কে একটা বিস্তৃত ও যথাযথ ধারণা পাওয়ার জন্যে আমি লেখক আলবেয়ার ক্যামুর রিসার্চ ভিত্তিক বিখ্যাত উপন্যাস ‘প্লেগ’ পড়া ও অনুবাদ করা শুরু করি। এই উপন্যাসের প্রথম খন্ড আমি সাফল্যের সাথে অনুবাদ করতে সক্ষম হয়েছিলাম এবং ফেসবুকে পর্ব হিসেবে ও একটা বিখ্যাত ওয়েবজিনে প্রকাশ করেছিলাম। কিন্তু প্রায় মাস তিনেক পর সারা পৃথিবীব্যাপী করোনা প্রতিরোধে অব্যবস্থাপনা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বনিবনা না হওয়া, বাংলাদেশে শাহেদ-সাবরিনা কেইস ইত্যাদি কারণে আমি এই চর্চাগুলোর বিষয়ে সংগ্রহ ও লেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। এবং করোনাকালের অনিবার্য ভবিষ্যৎ ভোগান্তির কথা চিন্তা করে ঘরেই কাটিয়ে দেই লকডাউনের সময়গুলো। স্ত্রী এবং দুই কন্যার সাথে। আমার জীবনে এটি একটি মহাপ্রাপ্তি। বিবাহের পর এই ধরণের জীবন যাপন কখনই সম্ভব হয়নি। তবে উল্লেখ্য যে, অনলাইন অফিস আমাকে কখনই ছাড়েনি।
অবশেষে ঈদুল আজহার পর করোনাকে আপাতভাবে পরাজিত করে আমরা নতুন করে অফিসে যাওয়া শুরু করলাম। অফিস বলছি একারণে যে, অবসর গ্রহণের পরও জীবনধারণের জন্যে আমরা যারা সামরিক চাকুরিতে ছিলাম তাদেরকে কোন না কোন কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকতে হয়। প্রায় ক্ষেত্রেই আপনি যদি জিজ্ঞেস করেন, আপনি চাকুরী করেন কেন, তাহলে উত্তর হবে, “কোন কাজের সাথে না থাকলে শরীর ও মন সচল থাকবে কি করে? কি করব সারাদিন,তাহলে?” কথাটা সত্যের অপলাপ না হলেও এর ভেতরে সত্যের নির্যাস খুব বেশি নেই বলেই আমার ধারণা ও বিশ্বাস। ব্যক্তিগতভাবে অবসরের সময়ে আমি চাকুরি বা ব্যবসা কোনটাই না করে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, বই পড়া, ভ্রমণ ইত্যাদি করে যথেষ্ট সুন্দর সময় কাটানো সম্ভব বলে আমি মনে করি। আমার তো বিশ্বাস শুধুমাত্র বই পড়ার জন্যেই মানুষের অন্তত একটা দীর্ঘ জীবন দরকার। করোনা সময়ের প্রথম চারমাসের কোয়ারেন্টাইন বা লক ডাউনের অভিজ্ঞতা আমার ভেতরের এই বোধকে আরও বেশি ঘনীভূত করেছে।
“প্রিয় এই শহরের কোনও পথ দিয়ে
হেঁটে যাই যখন একাকী
ভোরবেলা হাওয়ার আদর উপভোগ করতে করতে আর
বিরান বাগান ব’লে মনে হয় পরিবেশ,
আর কেন যেন হাহাকার হু হু ক’রে জেগে ওঠে
বারবার; নিজেকে কবরস্থানে অনুভব করি।” – শামসুর রাহমান