বিআরটিসিতে আশরাফুল আলমের ‘দুর্নীতিবলয়’
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) চলতি দায়িত্বে থাকা উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, দালালি, বদলি-বাণিজ্য, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করেছেন বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপোর চালক মো. রফিকুল ইসলাম।
দুদকে দেওয়া অভিযোগে রফিকুল ইসলাম দাবি করেছেন, দীর্ঘ চাকরিজীবনে বিভিন্ন ডিপো ও ওয়ার্কশপে দায়িত্ব পালনকালে আশরাফুল আলম একটি প্রভাবশালী কর্মকর্তা সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ডিপো প্রধানদের নিয়োগ ও বদলি, বিভিন্ন খাতে অর্থ লেনদেন এবং শ্রমিক-কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও করা হয়েছে।
.png)
অভিযোগকারী দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের পক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও নথি সরবরাহ এবং প্রয়োজনে দুদকের কাছে সাক্ষ্য দেওয়ার আগ্রহের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
দুদকে দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, মো. আশরাফুল আলম ১৯৯৯ সালে বিআরটিসিতে ইন্সপেক্টর পদে চাকরি শুরু করেন। ২০০৩ সালে সিনিয়র ইন্সপেক্টর থেকে তাকে ম্যানেজার (কারিগরি) পদে আত্মীকরণ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, নিয়মিত পদোন্নতির সুযোগ না থাকায় ২০১৭ সালে তিনি চলতি দায়িত্বে ডিজিএম পদে দায়িত্ব পান।
অভিযোগে তার কর্মজীবনের বিভিন্ন সময়ের পদায়ন ও কর্মকাণ্ডের বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গাজীপুর বাস ডিপো, জোয়ারসাহারা বাস ডিপো, মতিঝিল বাস ডিপো, কল্যাণপুর বাস ডিপো, কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানা—তেজগাঁও, পশ্চিম কেন্দ্র—তেজগাঁও এবং ঢাকা ট্রাক ডিপো।
অভিযোগকারীর দাবি, এসব গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালনের সময় আশরাফুল আলম প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন এবং পরবর্তীতে ডিপো ও ওয়ার্কশপের গুরুত্বপূর্ণ পদে কে দায়িত্ব পাবেন, সে বিষয়েও তার প্রভাব ছিল।
অভিযোগে আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে প্রথম বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে বিআরটিসির কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানা, গাজীপুরে দায়িত্ব পালনকালের একটি প্রকল্পকে ঘিরে।
অভিযোগে বলা হয়, ২০০৯ সালে ভলভো বাস মেরামতের জন্য সরকার ৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করে। তবে পরবর্তীতে ভলভো বাসের পরিবর্তে বিআরটিসির অন্য বাস—ফিয়াট-টিসি—মেরামতের কাজে প্রকল্পটি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় কর্মচারীদের পক্ষে মো. নজরুল ইসলাম ২০১৯ সালের ২০ জুন একটি অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে ২১ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে ৩৫.০০.০০০০.০১৩.৯৯.০২৪.১৮-১৫১ নম্বর স্মারকে পত্র জারি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই প্রকল্পের অভিযোগের বিষয়ে আশরাফুল আলমের ব্যক্তিগত দায় বা আর্থিক অনিয়মের পরিমাণ কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের বিষয়।
দুদকে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, গাজীপুর, জোয়ারসাহারা, মতিঝিল, কল্যাণপুর, ওয়ার্কশপ ও পশ্চিম কেন্দ্রের বিভিন্ন দায়িত্বে থেকে ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় আট বছরে কমপক্ষে ২০ কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে।
অভিযোগকারী দাবি করেছেন, এসব অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে আশরাফুল আলম সরাসরি অথবা তার নিয়ন্ত্রণাধীন একটি কর্মকর্তা-কর্মচারী সিন্ডিকেট জড়িত ছিল। তবে অভিযোগে উল্লিখিত এই অর্থের পরিমাণ কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এর পক্ষে কী ধরনের নথি রয়েছে, তা দুদকের তদন্তে যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগের বড় একটি অংশ ঢাকা ট্রাক ডিপোতে আশরাফুল আলমের দায়িত্ব পালনের সময়কার আয়-ব্যয়ের হিসাবকে ঘিরে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা ট্রাক ডিপোর মোট রাজস্ব আয় ছিল ২৮৩ কোটি ৮৫ লাখ ২২ হাজার টাকা। এর মধ্যে একটি খাত থেকে প্রায় ২৪-২৫ কোটি টাকা এবং প্রাতিষ্ঠানিক আয় হিসেবে প্রায় ২৫৮-২৬০ কোটি টাকা এসেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই সময়ে মোট ব্যয় দেখানো হয়েছে ২৪৮ কোটি ৯ লাখ টাকা। অভিযোগে বলা হয়েছে, মোট আয়ের তুলনায় এই ব্যয়ের হার প্রায় ৮৭ দশমিক ৪০ শতাংশ। একই হিসাবে উদ্বৃত্ত বা নিট লাভ দেখানো হয়েছে ৩৫ কোটি ৭৬ লাখ ২২ হাজার টাকা, যা মোট আয়ের প্রায় ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ।
অভিযোগকারীর হিসাবে মাসিক নিট লাভ দাঁড়ায় প্রায় ৭৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তবে আশরাফুল আলমের দায়িত্ব শেষ হওয়ার পরের সময়ের হিসাবের সঙ্গে তুলনা করে অভিযোগকারী দাবি করেছেন, ডিপোটিতে আরও বেশি নিট আয় হওয়ার সুযোগ ছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে পরবর্তী ইউনিট প্রধানের সময়ে নিট লাভ দেখানো হয়েছে ৮ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫২ টাকা। অর্থাৎ মাসিক গড় প্রায় ৭৭ লাখ ৪১ হাজার ৬৯৬ টাকা।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত আট মাসে বর্তমান ইউনিট প্রধানের সময়ে নিট লাভ দেখানো হয়েছে ৭ কোটি ১১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, মাসিক গড় ৮৯ লাখ ২২ হাজার ৫০০ টাকা।
দুদকে দেওয়া অভিযোগে যন্ত্রাংশ কেনাকাটায় অনিয়মের বিষয়টিও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা ট্রাক ডিপোতে যন্ত্রাংশ মেরামত ও কেনাকাটায় মোট ব্যয় হয়েছে ৯ কোটি ৪৯ লাখ ১ হাজার ৮১১ টাকা। এর মধ্যে ২০২২ সালের ডিসেম্বরের আগের সময়ে ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৮৯ হাজার ৭১১ টাকা এবং পরবর্তী সময়ে ৬ কোটি ১১ লাখ ১২ হাজার ১০০ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ওই ব্যয়ের মধ্যে ৫ কোটি ৩৪ লাখ ৬১ হাজার ৬২৭ টাকা পরিশোধ এবং ৭৬ লাখ ৫০ হাজার ৪৭৩ টাকা ভ্যাট-ট্যাক্স হিসেবে দেখানো হয়েছে।
যন্ত্রাংশের দামের পার্থক্য বোঝাতে অভিযোগে একটি ক্রাঙ্ক প্লেটের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১০ মার্চ একটি ক্রাঙ্ক প্লেট ৮ হাজার ৫০০ টাকা দরে বাংলাবাজারের আইচার মটরস থেকে কেনা হয়। একই ধরনের যন্ত্রাংশ ২০২২ সালের ২৭ মার্চ ১৩ হাজার ৩০০ টাকা দরে বাংলাবাজারের মিজান মটরস থেকে কেনা হয়, যা অভিযোগকারীর দাবি অনুযায়ী টেন্ডার ছাড়া করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ১৪ জুন একই যন্ত্রাংশ ১৬ হাজার ৩৫০ টাকা দরে মিজান মটরস থেকে কেনা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এবার ক্রয়টি টেন্ডারের মাধ্যমে করা হয়েছিল বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।
অভিযোগকারীর দাবি, একই ধরনের যন্ত্রাংশের দামে এ ধরনের উল্লেখযোগ্য পার্থক্য কেন হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তার আরও অভিযোগ, ভুয়া ভাউচার এবং নিম্নমানের যন্ত্রাংশ কেনার ঘটনাও ঘটেছে।
টায়ার কেনার ক্ষেত্রেও একই ধরনের মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত টায়ার খাতে মোট ব্যয় দেখানো হয়েছে ১০ কোটি ৪২ লাখ ৫১ হাজার ৯৮৮ টাকা।
অভিযোগে দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালের ডিসেম্বরের আগে ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৩৬ হাজার ৯০০ টাকা এবং ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি ৭৯ লাখ ১৫ হাজার ৮৮ টাকা।
অভিযোগের উদাহরণ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৫ মার্চ একটি ১০.০০-২০ এমআরএফ টায়ার ২৭ হাজার টাকা দরে বাংলাবাজারের নোমান এন্টারপ্রাইজ থেকে কেনা হয়। ২০২৩ সালের ২২ জুন একই ধরনের টায়ার একই প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা দরে কেনা হয়। ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সেই টায়ারের দাম বেড়ে ৩৮ হাজার ১৫০ টাকা হয়।
অভিযোগকারীর দাবি, টেন্ডারের মাধ্যমে ক্রয় দেখানো হলেও প্রতি টায়ারে এক থেকে দেড় বছরের ব্যবধানে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন।
জ্বালানি ব্যবহারের হিসাব নিয়েও গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, বাসের রক্ষণাবেক্ষণ লগবুক এবং ট্রাফিক বিভাগের জ্বালানি লগবুকে দেখানো কিলোমিটার ও জ্বালানি ব্যবহারের হিসাবের মধ্যে অনিয়ম রয়েছে। এসব হিসাবের মাধ্যমে আশরাফুল আলমের দায়িত্বকালে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারী বলেছেন, ডিপোর রেকর্ড বই ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
টোল ও ফেরি খাতে প্রতি মাসে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় দেখানো হলেও এসব ব্যয়ের নির্দিষ্ট রেকর্ড পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, এসব খাতে ব্যাংক থেকে নগদ টাকা উত্তোলন করা হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের যথাযথ হিসাব নেই।
আনলোডিং খাতেও প্রতি মাসে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা ব্যয় দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম থেকে আসা ট্রাকের আনলোডিং ব্যয় ঢাকা ট্রাক ডিপো বহন করে থাকে। এই খাতে দেখানো ব্যয়ের সঙ্গে প্রকৃত ব্যয়ের পার্থক্য রয়েছে এবং আশরাফুল আলমের দায়িত্বকালে ৩ থেকে ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া জ্বালানি, মেরামত, টায়ার, ভ্যাট-ট্যাক্স, টোল, ফেরি ও আনলোডিংয়ের বাইরে আরও ৪০ থেকে ৫০টি খাতে ডিপোর ব্যয় রয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, এসব খাতেও কমবেশি অনিয়ম হয়েছে এবং কিছু খাতে কোনো যথাযথ হিসাব ছাড়াই চেকের মাধ্যমে নগদ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
দুদকে দেওয়া অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কর্মকর্তা সিন্ডিকেট।অভিযোগকারী দাবি করেছেন, বিআরটিসির প্রধান কার্যালয়ে আশরাফুল আলমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত প্রায় ১০ থেকে ১২ জন কর্মকর্তার একটি প্রভাবশালী বলয় রয়েছে। এই বলয়ের মাধ্যমে ডিপো প্রধানদের নিয়োগ-বদলি, গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বিআরটিসির সাবেক চেয়ারম্যান মো. জসিম, মো. মিজানুর রহমান, মো. ফরিদ ভূইয়া এবং এহসানুল এলাহির নাম উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, তাদের সময় আশরাফুল আলম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তবে এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাদের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির কাঠামো চলতে থাকলে জনগণের অর্থের অপচয় এবং প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তার মতে, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, অভিযোগগুলো তদন্তে সত্য প্রমাণিত হলে বিষয়টি প্রশাসনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি ফৌজদারি অপরাধের প্রশ্নও তৈরি করতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট দায় নির্ধারণের জন্য যথাযথ তদন্ত ও প্রমাণ প্রয়োজন।
পরিবহন খাত বিশেষজ্ঞ ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বিআরটিসির মতো রাষ্ট্রীয় পরিবহন প্রতিষ্ঠানে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। অভ্যন্তরীণ অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা উচিত।
অভিযোগের বিষয়ে বিআরটিসির চেয়ারম্যান মো. আব্দুল লতিফ মোল্লার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেকোনো অভিযোগ আমরা গুরুত্বসহকারে দেখি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে দুর্নীতি সহ্য করা হবে না।
বর্তমানে মো. আশরাফুল আলম কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানার ডিজিএম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে আশরাফুল আলমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। একইভাবে অভিযোগে যেসব কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে, তাদের বক্তব্যও তদন্তের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ।
আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, বদলি-বাণিজ্য, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর প্রভাব বিস্তার, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি ও যন্ত্রাংশ ক্রয়ে অনিয়ম, টায়ার কেনাকাটায় অতিরিক্ত মূল্য দেখানো, টোল-ফেরি ও আনলোডিং খাতে অনিয়ম এবং নগদ অর্থ উত্তোলনের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ।
অভিযোগগুলোর বেশিরভাগই বর্তমানে অভিযোগকারীর বক্তব্য ও দুদকে দেওয়া লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, বিল-ভাউচার, টেন্ডার নথি, ব্যাংক হিসাব, লগবুক, আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং দায়িত্বকালীন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা প্রয়োজন।
অভিযোগকারী ইতোমধ্যে দুদকের কাছে তদন্তে সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এখন দুদক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা, আর্থিক ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—তা নির্ধারিত হওয়ার বিষয়।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিআরটিসির আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।