ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ খেলা ]

বেরসিক বৃষ্টির পর আবার মাঠে বাংলাদেশের দ্বিতীয় টেস্ট

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭:৫৯, ৮ এপ্রিল ২০২২
বেরসিক বৃষ্টির পর আবার মাঠে বাংলাদেশের দ্বিতীয় টেস্ট
ছবি: সংগৃহীত

প্রকৃতির বাগড়ায় বিঘ্নিত দক্ষিণ আফ্রিকার সেন্ট জর্জেস পার্কে বাংলাদেশ ও সাউথ আফ্রিকার মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনের খেলা আবার শুরু হয়েছে। বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে প্রোটিয়া অধিনায়ককে সাজঘরে পাঠিয়ে খানিক স্বস্তি ফিরেছিল বাংলাদেশ শিবিরে। ঠিক তখনই কি না হানা দিলো বেরসিক বৃষ্টি। 

এদিকে বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ৩৯ ওভার খেলে ২ উইকেট হারিয়ে ১৫৬ রান করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। অধিনায়কের পর ফিফটি তুলে নিয়েছেন তিন নম্বরে নামা কেগান পিটারসেন। তিনি অপরাজিত রয়েছেন ৫২ রানে। চারে নামা টেম্বা বাভুমা খেলছেন ৯ রান নিয়ে।

এ টেস্টে বাংলাদেশের টসভাগ্য সহায় হয়নি। সফরকারীদের ফিল্ডিংয়ে পাঠান প্রোটিয়া অধিনায়ক ডিন এলগার। খালেদ আহমেদকে দিয়ে বোলিং শুরু করেন মুমিনুল। প্রথম ওভারে প্রোটিয়ারা তোলে মাত্র ১ রান।

দ্বিতীয় ওভারেই স্পিন আক্রমণ। মেহেদি হাসান মিরাজের ওভারে আসে ৭ রান। ডিন এলগার আর সারেল এরউই শুরুটা করেন ভালোই। কিন্তু তৃতীয় ওভারেই এরউই সাজঘরে ফিরতে পারতেন। খালেদ আহমেদের বল সরাসরি আঘাত হানে তার প্যাডে।

আবেদন নাকচ করে দেন আম্পায়ার। খালেদ বলছিলেন, ব্যাটে বল লাগেনি। আউট হওয়ার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু মুমিনুল তাতে সাড়া দেননি। বারকয়েক কথা বলে পরে তিনি মত বদল করেন, রিভিউ নেওয়ার জন্য হাত তোলেন।

কিন্তু ততক্ষণে নির্ধারিত ১৫ সেকেন্ড সময় শেষ। ফলে মুমিনুল রিভিউ নিলেও আম্পায়াররা তা আর যাচাই করেননি। পরে রিপ্লেতে দেখা যায়, আউট ছিলেন এরউই। বল হিট করতো তার লেগ স্ট্যাম্পে। ৪ রানে জীবন পেয়ে যান প্রোটিয়া ওপেনার।

এরপর রীতিমতো আক্রমণাত্মক খেলতে শুরু করেন দুই প্রোটিয়া ওপেনার। ইনিংসের ১১তম ওভারেই দলীয় পঞ্চাশ পূরণ করে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকা। মনে হচ্ছিল প্রথম টেস্টের মতোই বড় জুটি গড়বেন এরউই ও এলগার।

অবশেষে ১২তম ওভারে গিয়ে জুটি ভাঙেন সেই খালেদ আহমেদই। যে উইকেটে অবদান আছে লিটন দাসের দুর্দান্ত ক্যাচেরও। খালেদের অফসাইডে বেরিয়ে যাওয়া বলে এরউই ড্রাইভ করেছিলেন, বল ব্যাটে লেগে চলে যায় উইকেটের পেছনে।

বাম দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ এক ক্যাচ নেন উইকেটরক্ষক লিটন। সাজঘরে ফেরার আগে ৪ চারের মারে ৪০ বলে ২৪ রান করেন এরউই। অবশ্য উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর সেশনের বাকি সময়ে আর সাফল্য মেলেনি বাংলাদেশের।

উল্টো বাংলাদেশি বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকেন প্রোটিয়া অধিনায়ক এলগার ও তিন নম্বরে নামা কেগান পিটারসেন। দারুণ সব শটে মাত্র ৬৬ বলে ৬ চারের মারে ফিফটি তুলে নেন এলগার।

পিটারসেনের সঙ্গে এলগারের অবিচ্ছিন্ন ৫৫ রানের জুটিতে প্রথম সেশন আর উইকেট হারায়নি দক্ষিণ আফ্রিকা। মধ্যাহ্ন বিরতিতে যাওয়ার আগে ২৮ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ১০৭ রান করে ফেলে স্বাগতিকরা।

তবে বিরতির পর বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি প্রোটিয়া অধিনায়ক। চলতি সিরিজে যেনো ৬০ থেকে ৭০ রানের গেরোয় আটকে গেছেন তিনি। আগের ম্যাচে ৬৭ ও ৬৪ রানের ইনিংস খেলার পর এবার দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে তিনি আউট হলেন ঠিক ৭০ রানে।

পোর্ট এলিজাবেথে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে প্রোটিয়া অধিনায়ককে সাজঘরে পাঠিয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। তার করা ৩৩তম ওভারে অফস্ট্যাম্পের বাইরের সোজা চলে যাওয়া ডেলিভারিতে কট বিহাইন্ড হয়েছেন এলগার।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!