ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ খেলা ]

বেয়ারস্টোর ব্যাটে রেকর্ড গড়ে ইংল্যান্ডের অবিশ্বাস্য জয়

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩:৫৯, ১৫ জুন ২০২২
বেয়ারস্টোর ব্যাটে রেকর্ড গড়ে ইংল্যান্ডের অবিশ্বাস্য জয়
ছবি: সংগৃহীত

টেন্ট ব্রিজ টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে বেন ফোকস বলছিলেন, লক্ষ্যটা ৩০০’র নিচে হলে সেটা ‘চেজেবল’। তবে সেক্ষেত্রে একটা শর্তও বেধে দিয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন ‘দারুণ ভালো’ ব্যাট করতে হবে।

দিনের প্রথম ১৬ ওভারে ৬০ রান খরচায় নিউজিল্যান্ডের ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ইংলিশ বোলাররা ফোকসের শর্তের প্রথম অংশটা পূরণ করেই দিয়েছিলেন। তবে ব্যাট করার পালা যখন এলো, ইংলিশরা আরেকটু হলেই ব্যর্থ হওয়ার পথ ধরেছিল।

একপর্যায়ে ১০০ রান না পেরোতেই ইংল্যান্ড হারিয়ে বসেছিল ৪ উইকেট। স্বাগতিকদের জন্য তখন ম্যাচটা জেতা অসম্ভবই মনে হচ্ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ম্যাচে বিজয়ীর হাসি হেসেছে ইংল্যান্ডই। কারণ জনি বেয়ারস্টো নামের একজন যে ছিলেন তাদের দলে। খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে গেলেন সঙ্গী বেন স্টোকসকে নিয়ে।

এদিন বেয়ারস্টো ৯২ বলে ১৩৬ রানের এক ‘তাণ্ডব’ বইয়ে দিলেন নটিংহ্যামের টেন্ট ব্রিজে। তাতে ভর করে এই মাঠে সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড গড়ে ইংলিশরা পেল ৫ উইকেটের ‘অবিশ্বাস্য’ এক জয়।

মঙ্গলবার (১৪ জুন) পঞ্চম দিনে ২৯৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে ইংল্যান্ড। ট্রেন্ট বোল্ট, টিম সাউদি আর ম্যাট হেনরির তোপে পড়ে মাত্র ৯৩ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। টপ অর্ডারের ব্যর্থতার পর ইংল্যান্ডের পরাজয়ের শঙ্কাই যেন উঁকি দিচ্ছিল। কিন্তু দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলেন বেয়ারেস্টো আর স্টোকস জুটি।

শেষ বিকেলে চা বিরতির পর ২৭ ওভারে দরকার ছিল ১২০ এর বেশি রান। তখন কেউ খেলা দেখে থাকলে নিশ্চিত দ্বিধায় পড়তেন টেস্ট নাকি টি-২০ ম্যাচ চলছে। স্টোকস একপ্রান্ত আগলে রাখলেও অন্য প্রান্তে ঝড় তোলেন বেয়ারেস্টো। টি-২০ মেজাজে ব্যাট করে দলের জয়কে আরো কাছে নিয়ে আসেন তিনি।

জয়ের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে আউট হয়ে যান বেয়ারেস্টো। তবে আউট হওয়ার আগে মাত্র ৯২ বলে ১৩৬ রানের অনবদ্য ইনিংস উপহার দেন তিনি। বেয়ারেস্টো সাজঘরে ফিরলেও নাটাই ধরে রাখেন অধিনায়ক স্টোকস। ইংলিশ অধিনায়ক শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৭০ বলে ৭৫ রানে। এছাড়া বেন ফোকস অপরাজিত ছিলেন ১২ রানে। ইংল্যান্ডের জয় পাঁচ উইকেটে।

এর আগে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯৯ রানের বড় টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ওপেনার জ্যাক ক্রাউলিকে হারায় ইংল্যান্ড। কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন তিনি। তবে আরেক ওপেনার অ্যালেক্স লিস ৪৪ রান করতে পেরেছিলেন। ব্যর্থ হন বিশ্বসেরা ব্যাটার জো রুটও। বোল্টের শিকার হওয়ার আগে করতে পেরেছেন কেবল ৩ রান।

ট্রেন্ট ব্রিজে দুদলের লড়াইটা চলছিল সমানে সমান। প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের করা ৫৫৩ রানের জবাব দারুণভাবেই দেয় স্বাগতিকরা। তবে চতুর্থ দিন ইংল্যান্ড শুরু করেছিল ৫ উইকেটে ৪৭৩ রান নিয়ে। এরপর মাত্র ২৩ রানের ব্যবধানে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে ৫৩৯ রানে থামে ইংল্যান্ড। যার ফলে ১৪ রানের লিড পেয়ে যায় সফরকারীরা।

১৪ রানের লিড নিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে প্রথম ওভারেই অধিনায়ক টম ল্যাথামের উইকেট হারিয়ে বসে নিউজিল্যান্ড। জেমস অ্যান্ডারসনের ইনসুইং বলে বোল্ড হন ল্যাথাম। যে উইকেট পেয়েই ইতিহাসে নাম লেখান অ্যান্ডারসন। টেস্ট ইতিহাসে প্রথম পেসার হিসেবে ৬৫০ উইকেট পান বুড়ো অ্যান্ডারসন।

অধিনায়ককে হারানোর পর ডেভন কনওয়ে ও উইল ইয়ং দ্বিতীয় উইকেটে ১০০ রান যোগ করেন। ৫২ রান করেন কনওয়ে। ৫৬ রানের ইনিংস আসে উইল ইয়ংয়ের ব্যাট থেকে। কিন্তু এরপর ২৭ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে নিউজিল্যান্ড। তবে শেষ পর্যন্ত সফরকারীদের লিড দাঁড়ায় ২৯৯ রানে। এদিকে ট্রেন্ট ব্রিজে ১২৩ বছরের ইতিহাসে এটাই প্রথম, যেখানে দুদলের প্রথম ইনিংসের রানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৯২।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএল
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!