ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

[ খেলা ]

ঘটনাপ্রবাহ: যেভাবে নির্বাসনের কবলে ভারতীয় ফুটবল

ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০:৫৭, ১৬ আগস্ট ২০২২
ঘটনাপ্রবাহ: যেভাবে নির্বাসনের কবলে ভারতীয় ফুটবল
ফাইল ছবি

তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের কারণে ভারতীয় ফুটবলকে মঙ্গলবার সবধরণের আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নির্বাসিত করেছে ফিফা। তবে এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ করেই আসেনি। বরং ধাপে ধাপে নানা ঘটনার চূড়ান্ত রূপ এই সিদ্ধান্ত।

ভারতীয় ফুটবলকে নির্বাস্যার করার আগে ছিল নানা ধাপ। চলুন দেখে নেয়া যাক কবে, কীভাবে কী হল।

১৮ মে, ২০২২

প্রফুল্ল প্যাটেল এবং এআইএফএফ-এর সব কর্মকর্তাকে তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। গড়া হয় কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটর্স (সিওএ)। তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয় এআইএফএফ-এর সমস্ত কাজ দেখার। সংস্থার নতুন নিয়ম তৈরি করার দায়িত্বও দেওয়া হয় তাদের।

সিওএ জানায় সেপ্টেম্বরের শেষে এআইএফএফ-এর নতুন নিয়ম তৈরি হবে।

১১ জুন, ২০২২

এআইএফএফ-র নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয় সিওএ। জাতীয় ক্রীড়া আইন, ফিফা এবং এএফসি-র নিয়ম অনুযায়ী যত দ্রুত সম্ভব সেই নির্বাচন হবে বলে ঠিক হয়।

২১ জুন, ২০২২

ফিফা এবং এএফসি-র দল আসে ভারতে। তাদের সঙ্গে সিওএ-র সদস্যদের বৈঠক হয়। এআইএফএফ-এর সমস্ত কাজ দেখার জন্য ১২ জনের একটি উপদেষ্টা কমিটি তৈরি করা হয়। সেই কমিটি নিয়মিত সিওএ-কে রিপোর্ট পাঠাবে এবং তাদের সম্মতি নিয়ে কাজ করবে বলে ঠিক হয়।

২৩ জুন, ২০২২

তিন দিনের সফর শেষে ফিফা এবং এএফসি-র কর্তারা ফিরে যান এই আশ্বাস নিয়ে যে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এআইএফএফ-এর নতুন নিয়ম তৈরি করা হবে এবং সেপ্টেম্বরের শেষে হবে নির্বাচন।

৬ জুলাই, ২০২২

সিওএ-র সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক হয় রাজ্য সংস্থাগুলোর। নিয়মাবলী নিয়ে আলোচনা হয় সেখানে।

১৬ জুলাই, ২০২২

এআইএফএফ-এর সমস্ত নিয়ম তৈরি করে সুপ্রিম কোর্টের কাছে জমা দেওয়া হয় অনুমোদনের জন্য।

১৮ জুলাই, ২০২২

রাজ্য সংস্থাগুলো এআইএফএফ-এর বেশ কিছু নতুন নিয়মের সঙ্গে একমত হতে পারেনি। তার পরেও তারা ওই নিয়ম মানতে রাজি ছিল। ফিফা যাতে নির্বাসিত না করে সেই কারণেই নিয়ম মানতে রাজি ছিল রাজ্য সংস্থাগুলো। রাজ্য সংস্থার সাত সদস্যের একটি প্যানেল ফিফাকে নতুন নিয়মাবলীর একটি খসড়া পাঠায়। সেই সঙ্গে কোন কোন নিয়মের সঙ্গে তারা সহমত নয়, সেটাও জানায়।

২১ জুলাই, ২০২২

খসড়া সংবিধান নিয়ে ফেডারেশন এবং রাজ্য সংস্থাগুলোর আপত্তি সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট সব পক্ষকে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে জবাব দিতে বলে। পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক হল ২৮ জুলাই।

২৬ জুলাই, ২০২২

ফেডারেশনকে ফিফা প্রস্তাব দেয়, তাদের কার্যকরী কমিটিতে ২৫ শতাংশ সাবেক ফুটবলার রাখা হোক। সিওএ-র খসড়া সংবিধানে ৫০ শতাংশ সাবেকদের রাখার কথা বলা হয়েছিল।

২৮ জুলাই, ২০২২

সুপ্রিম কোর্ট ৩ আগস্ট পর্যন্ত শুনানি পিছিয়ে দেয়। অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ আয়োজনকে অগ্রাধিকার দেয় দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় জানান, যদিও আদালত ফেডারেশনের সম্পূর্ণ কমিটি তৈরি করে দিতে পারবে না, নির্বাচন সংক্রান্ত নির্দেশ দেবে।

৩ আগস্ট, ২০২২

সুপ্রিম কোর্ট তার অন্তবর্তীকালীন রায়ে ফেডারেশনকে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন করতে বলে। অক্টোবরে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ ফুটবলের আগেই নির্বাচন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সিওএ নির্বাচনী নির্ঘণ্টের প্রস্তাব দেয়।

সেই প্রস্তাব অনুযায়ী ২৮ বা ২৯ আগস্ট নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে। আদালত সেই প্রস্তাব মেনে নিল। আদালত ‘ইলেক্টোরাল কলেজ’ তৈরির নির্দেশ দিল। সেখানে রাজ্য সংস্থার ৩৬ জন প্রতিনিধি এবং ৩৬ জন প্রাক্তন ফুটবলারকে রাখার নির্দেশ দেওয়া হল।

৬ আগস্ট, ২০২২

ফেডারেশনকে নির্বাসিত করার হুমকি দিল ফিফা। একই সঙ্গে বলা হল, অনূর্ধ্ব-১৭ মহিলা বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনের দায়িত্ব কেড়ে নেয়া হতে পারে।

৭ আগস্ট, ২০২২

ফিফাকে সিওএ কথা দিল, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফেডারেশনের অচলাবস্থা তারা দূর করবে। একই সঙ্গে বরখাস্ত সভাপতি প্রফুল্ল প্যাটেল ফেডারেশনের ব্যাপারে নাক গলাচ্ছেন বলে অভিযোগ করল।

১০ আগস্ট, ২০২২

প্রফুল্ল এবং বিভিন্ন রাজ্য সংস্থার কর্তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করল সিওএ।

১৩ আগস্ট, ২০২২

সুব্রত দত্ত এবং লারসিং মিং ফেডারেশনের নির্বাচনে লড়ার জন্য যে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছিলেন, তা খারিজ করে দিলেন রিটার্নিং অফিসার উমেশ সিংহ।

১৫ আগস্ট, ২০২২

ফিফা কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে জানায়, সাবেক ফুটবলারদের মনোনয়ন রাজ্য সংস্থাগুলোর মাধ্যমে আসতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে কেউ মনোনয়ন জমা দিতে পারবেন না।

১৬ আগস্ট, ২০২২

ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনকে নির্বাসিত করল ফিফা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএল
ট্যাগ: ফিফা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!