ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]

আইসিসির হল অব ফেমে চন্দরপল, শার্লট এডওয়ার্ডস ও আব্দুল কাদির

স্পোর্টস ডেস্ক:
প্রকাশিত: ১৭:১৮, ১০ নভেম্বর ২০২২
আইসিসির হল অব ফেমে চন্দরপল, শার্লট এডওয়ার্ডস ও আব্দুল কাদির
ছবি: ইএসপিএন ক্রিকইনফো

ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম সম্মান হল আইসিসির ‘হল অব ফেম’। বিশ্ব ক্রিকেটের দেশগুলোর নামকরা সব কিংবদন্তি ক্রিকেটাররা তাদের কীর্তির জন্য জায়গা পান আইসিসির হল অব ফেমে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি শিবনারায়ণ চন্দরপল, ইংল্যান্ডের সাবেক নারী ক্রিকেটার শার্লট এডওয়ার্ডস এবং পাকিস্তানের আব্দুল কাদির।

সাধারণত আইসিসির বড় কোনো আসরের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর আগে হল অব ফেমে জায়গা পাওয়াদের সম্মানিত করা হয়। তারই ধারায় টি-২০ বিশ্বকাপের চলতি আসরে নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের মধ্যকার প্রথম সেমিফাইনালের আগে এই ত্রয়ীকে সম্মানিত করে আইসিসি।

হল অব ফেমের তালিকায় ১০৭তম ক্রিকেটার হিসেবে জায়গা পেয়েছেন ক্যারিবীয় ব্যাটার চন্দরপল। নিজের ট্রেডমার্ক ব্যাটিং স্টাইলের জন্য পরিচিত ছিলেন তিনি। তার ক্যারিয়ারও সোনায় মুড়ে রাখার মতো। ১৯৯৪সালে অভিষেকের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের জার্সি গায়ে ২১ বছর দলের প্রতিনিধিত্ব করেন চন্দরপল।

Advertisement

দুই যুগেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইনে মিডল অর্ডারে ভরসার প্রতীক হয়ে ওঠেন চন্দরপল। ২০১৫ সালে ক্যারিয়ারে শেষ ম্যাচ খেলে ফেলার আগ পর্যন্ত দলে একই ভূমিকা পালন করে গেছেন তিনি। ২০১৬ সালে ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন এই কিংবদন্তি খেলোয়াড়।

অবসর নেওয়ার সময়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তার মোট রান ছিল দেখার মত। ক্রিকেটের সব ফরম্যাট মিলিয়ে ২০,৯৮৮ রান করেছেন তিনি। এর মধ্যে আছে ৪১টি সেঞ্চুরি এবং ১২৫টি অর্ধশতক। কত ম্যাচে যে দলের বিপদে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন সেসব ঠিক হিসেবে কুলোবে না।

এমন সম্মান পেয়ে বেশ খুশি চন্দরপল। আইসিসির এক বিবৃতিতে চন্দরপল বলেছেন, ‘অনেক কিংবদন্তি এবং অতীতের আরও অনেক মহান ক্রিকেটারের পদাঙ্ক অনুসরণ করা একটি আশ্চর্যজনক সম্মানের। আমি এই স্বীকৃতির পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেট ভক্তদের কাছে কৃতজ্ঞ।’

আইসিসির হল অফ ফেমে ১০৮তম ক্রিকেটার হিসেবে জায়গা করে নেওয়া এডওয়ার্ডস আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করেন মাত্র ১৬ বছর বয়সে।  দুই দশক ধরে ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে একটি ওয়ানডে ও টি-২০ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছেন তিনি।  নারী ক্রিকেট ইতিহাসে তার করা ৫৯৯২ রান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

তার নামে ২০২১ সালে ইংল্যান্ডে মহিলাদের ঘরোয়া টি-২০ প্রতিযোগিতার নামকরণ করা হয় ‘শার্লট এডওয়ার্ডস কাপ’। আইসিসি থেকে এমন সম্মাননা পেয়ে এডওয়ার্ডস বলেন, ‘আইসিসি হল অফ ফেমে অন্তর্ভুক্ত হওয়া খুবই সম্মানের বিষয়। আমি আমার পরিবার, বন্ধু, সতীর্থ এবং সমস্ত কোচদের সাথে এই আনন্দ ভাগ করে নিতে চাই।'

হল অব ফেমে এবার জায়গা পাওয়া তিনজনের শেষের জন পাকিস্তানের কিংবদন্তি লেগস্পিনার আব্দুল কাদির। যিনি ২০১৯ সালে ৬৩ বছর বয়সে মারা গিয়েছিলেন। কাদির পাকিস্তানের হয়ে ৬৭টি টেস্ট ম্যাচ খেলে নিয়েছিলেন ২৩৬ উইকেট। যার মধ্যে ১৯৮৭ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫৬ রানে ৯ উইকেট নিয়ে ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে আছেন।

কাদিরের এই পুরস্কার প্রাপ্তিতে তার ছেলে উসমান বলেছেন, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে, আমি আমার বাবাকে হল অফ ফেমে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আইসিসিকে অনেক ধন্যবাদ জানাতে চাই। এই খবরটি পরিবারের জন্য এটি একটি খুব বড় সম্মানের বিষয়। আমরা এটিকে একটি বিশাল কৃতিত্ব হিসাবে দেখি। আজ বাবা থাকলে তবে এটি নিয়ে খুব গর্বিত হতেন।’

এর আগে ২০২১ সালের নভেম্বরে জ্যানেট ব্রিটিন, মাহেলা জয়াবর্ধনে এবং শন পোলককে হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তারও আগে অন্তর্ভুক্ত হওয়া পাঁচজন হলেন বব উইলিস, ভিনু মানকদ, লিয়ারি কনস্টানটাইন, অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার। তাদেরকে গত বছর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের আগে এই সম্মান জানানো হয়েছিল।

আইসিসির হল অব ফেমে সম্মাননা পাওয়া প্রথম ক্রিকেটার অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ক্রিকেটার রড মার্শ। ক্রিকেটে যার অবদান অনস্বীকার্য। তার হাত ধরে ক্রিকেটে এসেছিলেন তার ছেলে ড্যানিয়েল মার্শও।

ডেইলি-বাংলাদেশ/সালি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!