হাকিমি ও তার মা, অজানা এক লড়াইয়ের গল্প
এবারের বিশ্বকাপে মরক্কোর ম্যাচে একটি দৃশ্য অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিয়েছে। দৃশ্যটা মা ও ছেলের আলিঙ্গনের। যার পেছনে রয়েছেন মরক্কোর তারকা আশরাফ হাকিমি ও তার মা। মরক্কোর জয়ী ম্যাচে মা-ছেলের এই ভালোবাসা সবার নজর কেড়েছে। এই ভালোবাসার পেছনে রয়েছে এক সংগ্রামী জীবনের লড়াইয়ের গল্প।
আশরাফ হাকিমির জীবন সহজ ছিলো না। সংগ্রাম করেই নিজের অবস্থান তৈনি করতে হয়েছে তাকে। আর এই সংগ্রামের পেছনে অন্যতম যোদ্ধা তার মা সাইদা মু। মায়ের সংগ্রামী জীবনের কারনেই আজকের অবস্থানে আশরাফ হাকিমি। ছেলেকে ফুটবলার হিসেবে গড়ে তুলতে এই মা স্পেনে করেছেন বাসাবাড়ি পরিষ্কারের কাজ।
নিজের জীবনের গল্প নিয়ে কোনো লুকোচুরি করেননি হাকিমি। অকপটে স্বীকার করেছেন জীবনের কঠিন অধ্যায়। বুন্দেসলিগার ওয়েবসাইটে নিজের জীবন সংগ্রামের কথা বলেছিলেন হাকিমি। সেখানে বলেছিলেন, ‘আমার মা ঘর পরিষ্কার করতেন। বাবা ছিলেন রাস্তায় ভাসমান বিক্রেতা। আমরা একটি সাধারণ পরিবার থেকে এসেছি। '
জীবন সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে হাকিমি বলেন, 'আমরা জীবিকার জন্য সংগ্রাম করেছিলাম। আজ আমি প্রতিদিন তাদের জন্য লড়াই করি। তারা আমার জন্য নিজেদের উৎসর্গ করেছেন। তারা (মা-বাবা) আমার ভাইদের আমার সফলতার জন্য অনেক কিছু থেকে নিজেদের বঞ্চিত করেছিলেন। ’
জাতীয়তা মরক্কান হলেও স্পেনের রিয়াল মাদ্রিদে জন্ম আশরাফ হাকিমির। শিকড়ের প্রতি আশরাফ হাকিমির টানও প্রশংসনীয়। কারণ, তিনি ইচ্ছে করলে স্পেনের জন্য খেলতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে খেলছেন মরক্কোর জন্য। এটি তার পিতৃভূমি। জন্মসূত্রে স্পেনের নাগরিক হলেও তিনি মরক্কোরও নাগরিক।
কাতারে হাকিমি ও তার মায়ের আলিঙ্গনের সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্যটা দেখে গেল বেলজিয়ামের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে জয়ের পর গ্যালারির দিকে ছুটে যান হাকিমি। নিজের মাকে জড়িয়ে ধরেন ফরাসি ক্লাব পিএসজি’র এই তারকা। কীর্তিমান ছেলের কপালে আবেগমিশ্রিত চুমু এঁকে দেন রত্মগর্ভা মা সাইদা মু।
আশরাফ হাকিমি এবং তার মায়ের এমন ভালোবাসার দৃশ্য মোহিত করেছিল বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীকে। পরের ম্যাচে কানাডর সঙ্গে হারলেও শেষ ষোলো নিশ্চিত হয়। আর শেষ ষোলেতে জন্মভূমি স্পেনকে হারিয়েই মায়ের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করতে ভুললেন না হাকিমি। এই ম্যাচে জয়ের পরই অবতারনা হলো সেই স্বর্গীয় দৃশ্যের