ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]
বিপিএল-২৩

ফিনিশার থেকে হারিয়ে যাওয়া নাসিরের অতঃপর ফিরে আসা...

আরিফুল হক বিজয়:
প্রকাশিত: ১৬:১৫, ৮ জানুয়ারি ২০২৩
ফিনিশার থেকে হারিয়ে যাওয়া নাসিরের অতঃপর ফিরে আসা...
ছবি: সংগৃহীত

নাসির হোসেন নামটা বাংলাদেশ ক্রিকেটে একটা অধ্যায়জুড়ে জ্বলজ্বলে। ফিনিশার শব্দটার সঙ্গে বাংলাদেশের পরিচিত হওয়ার শুরুটা নাসির হোসেনের হাত ধরেই। তবে ধুমকেতুর মত আগমন করে পানসে শুকতারার মতো একসময় হারিয়ে গেলেন নাসির। এরপর কতো চড়াই উতরাই। অতঃপর নাসির বিপিএল দিয়ে আবার ফিরেছেন নিজের চেনারূপে।

সময়ের হিসেবে ঘড়ির কাটা এক দশক আগের ঘরে নিয়ে যাওয়া যাক। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দলে ডাক পাওয়ার মধ্য দিয়ে নাসির হোসেনের পথচলার শুরু। এরপর সময়ের সঙ্গে হয়ে উঠেছেন দলের অন্যতম ভরসা। 

২০১১ সালের আগস্টে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক একদিনের আন্তর্জাতিকেই অর্ধশতক পেয়েছিলেন। মোটামুটি ধারাবাহিকতায় ধীরে ধীরে হয়ে উঠছিলেন বাংলাদেশের মিডল অর্ডার ব্যাটিংয়ের অন্যতম স্তম্ভ। 

Advertisement

৬৫টি ওডিআই ইনিংসে ১টি শতক ও ৬টি অর্ধশতক, ২৯.১১ গড়ে রান করেছেন এক হাজারের কিছু বেশী। ডানহাতি অফব্রেক স্পিনার হিসেবে মাঝেমধ্যে বলও হাতে নিয়েছেন নাসির হোসেন।

ধীরে ধীরে বাংলাদেশ ক্রিকেটের মেরুদন্ডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেন নাসির। দলের ব্যাটিং ধস নামলেও নাসিরের মাঝপথের ব্যাটিং অনেকবার দলকে দেখিয়েছে আশার আলো। যে আলোয় ভর করে অনেকবার ভাঙ্গা তরী নোঙ্গর করেছে তীরে।  


২০১২ সালে বাংলাদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপের কথাই ধরা যাক। দলকে ফাইনালে তুলতে শুরু থেকে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত দলকে টেনে নিয়ে গিয়েছেন এই অলরাউন্ডার। বোলিংয়েও প্রয়োজনে হাত ঘুরিয়েছেন।

জাতীয় দলে নাসির অধিনায়ক হিসেবে বেশিরভাগ সময় পেয়েছিলেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাকে। ম্যাশের অধীনে নাসির হয়ে উঠেছিলেন দুর্দান্ত। বাংলাদেশের সেরা ফিল্ডারদের তালিকা করা হলে এখনো নাসিরের নামটা উপরের দিকেই থাকবে। 

২০১৫ সালে দেশের মাটিতে ওয়ানডেতে ভারতবধের গল্পেও লেখা রয়েছে নাসিরের অনবদ্য ফিল্ডিং। এরপরই কিছুটা ফর্ম হারিয়ে ফেলেন এই অলরাউন্ডার। দলে আসা যাওয়ার মধ্যে থেকে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে দল থেকে বাদ পরেন নাসির।

তারপর থেকে আর জাতীয় দলে ছায়াও মাড়াতে পারেননি এই অলরাউন্ডার। ফেরার মঞ্চ হিসেবে প্রিমিয়ার লিগ কিংবা বিপিএলকেও কাজে লাগাতে পারেননি। এর মাঝেই ঘিরে ধরেছিল ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্কিত জঞ্জাল। সব ছাড়িয়ে নাসির ফিরলেন বিপিএলের নবম আসরে।

বিপিএলের নবম আসরে ডাকা ডমিনেটর্সের অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন নাসির। আর দায়িত্ব নিয়েই ব্যাটে-বলে হয়ে উঠলেন দলের জয়ের নায়ক। একই সঙ্গে জানান দিলেন নিজের আগমনী বার্তা।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে অধিনায়ক নাসির হোসেনের অপরাজিত ৩৬ রানের ইনিংসের সৌজন্যে ৫ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে জিতেছে ঢাকা ডমিনেটর্স। ৩৬ বলে ৩৬ রান করার আগে ২ উইকেটও নিয়েছেন নাসির। হয়েছেন ম্যাচসেরা।

নাসির জানিয়ে দিলেন তিনি হারিয়ে যাননি। অফফর্ম, বিতর্ক আর চ্যালেঞ্জকে জয় করে আবারো ফিরতে চান বাইশগজের মঞ্চে...

ডেইলি-বাংলাদেশ/সালি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!