শিরোপার জন্য মুখিয়ে থাকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে হারিয়ে লিগ কাপ ঘরে তুলেছে। দীর্ঘ ছয় বছর পর শিরোপা জয়ের উল্লাসে মেতে উঠল ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী দলটি।
লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে রবিবার ফাইনালে ২-০ গোলে জিতেছে টেন হাগের দল। কাসেমিরো দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর ব্যবধান দ্বিগুণ হয় সভেন বোটমানের আত্মঘাতী গোলে।
.png)
২০১৬-১৭ মৌসুমে এই দিনেই সাউদাম্পটনকে হারিয়ে সর্বশেষ লিগ কাপ শিরোপা জিতেছিল ম্যানচেস্টারের দলটি। ওই মৌসুমেই তারা জিতেছিল ইউরোপা লিগ। সেই থেকে মাঝে আর কোনো শিরোপা সাফল্য পায়নি তারা।
ওয়েম্বলির এই ফাইনালের প্রথমার্ধে কোনো দলই আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে পারেনি। তবে মাত্র ছয় মিনিটের ব্যবধানেই নির্ধারিত হয়ে যায় ম্যাচের ভাগ্য। ৩৩ মিনিটে কাসেমিরোর গোলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এগিয়ে যাওয়ার পর ৩৯ মিনিটেই নিউক্যাসল সমর্থকদের হৃদয় ভেঙে দেন তাদেরই বটমান। তাঁর আত্মঘাতী গোলেই মূল সর্বনাশটা হয় এবারের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে দীর্ঘ সময় শীর্ষ চার দলের মধ্যে থাকা নিউক্যাসল ইউনাইটেডের।

৩৩তম মিনিটে বাঁ দিক থেকে দারুণ ফ্রি কিকে ডি-বক্সে ক্রস বাড়ান লুক শ। আর কোনাকুনি হেডে দলকে এগিয়ে নেন ব্রাজিলিয়ান তারকা মিডফিল্ডার কাসেমিরো।
ক্যারিয়ারের সেরা সময় কাটানো র্যাশফোর্ডের নৈপুণ্য আর সৌভাগ্যের ছোঁয়ায় ছয় মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। ডাচ ফরোয়ার্ড ভাউট বেহর্স্টের ছোট করে দেওয়া থ্রু বল ডি-বক্সে ধরে বাঁ পায়ের কোনাকুনি শট নেন র্যাশফোর্ড, বল ডাচ ডিফেন্ডার বোটমানের পায়ে লেগে জালে জড়ায়।
দ্বিতীয়ার্ধের চাপ বাড়ায় নিউক্যাসল। বেশ কিছুটা সময়ে ধরে করতে থাকে আক্রমণ, যদিও প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক দাভিদ দে হেয়ার তেমন কোনো পরীক্ষা নিতে পারছিল না তারা।
শেষ পর্যন্ত জাল অক্ষত রেখেই ট্রফি উঁচিয়ে ধরে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের দলটি। সেই সঙ্গে দারুণ এক রেকর্ড নতুন করে লেখেন দে হেয়া। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ক্লাবের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৮১ ম্যাচে ‘ক্লিন শিট’ রাখলেন এই স্প্যানিয়ার্ড, ছাড়িয়ে গেলেন সাবেক ডেনিশ গোলরক্ষক পিটার স্মাইকেলকে।
এর আগে সবশেষ যে শিরোপাটি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড জিতেছিল, তাও এসছিল জোসে মরিনিয়োর হাত ধরে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে তার বিদায়ের পর পূর্ণ বা অন্তর্বর্তীকালীন মেয়াদে তিন জন কোচ এসেছেন, কিন্তু কেউই দলটিকে এনে দিতে পারেনি কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।
এই মৌসুমের শুরুতে দায়িত্ব দেওয়া হয় টেন হাগকে। তারকা ফরোয়ার্ড ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে বেঞ্চে বসিয়ে এবং স্কোয়াডের বাইরে ঠেলে দিয়ে বিতর্কেরও জন্ম দেন এই ডাচ কোচ। তবে এবার যেন সব বিতর্ক এক ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিলেন তিনি। ক্লাবকে যে এনে দিলেন সেই কাঙ্ক্ষিত শিরোপা।