ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ খেলা ]

ফুচকা বিক্রেতা থেকে রাজস্থানের কাণ্ডারি জয়সওয়াল

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:৩৩, ১ মে ২০২৩
ফুচকা বিক্রেতা থেকে রাজস্থানের কাণ্ডারি জয়সওয়াল
ছবি- সংগৃহীত

রোববার ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) মুম্বাই ইন্ডয়ান্সের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল রাজস্থান রয়েলস। এ ম্যাচে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন রাজস্থানের ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল। তবে টিম ডেভিড ঝড়ে জয়সওয়ালের সেঞ্চুরি ম্লান করে জয় পেয়েছে রোহিত শর্মার দল। 

এদিন ৬২ বলে ১২৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন জয়সওয়াল। মূলত তার সেঞ্চুরিতে ভর করেই ২১২ রানের সংগ্রহ পায় রাজস্থান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৯.৩ ওভারে সেই রান টপকে যায় মুম্বাই।

ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে হারলেও ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন রাজস্থানের ব্যাটার যশস্বী জয়সওয়াল। একই সঙ্গে ক্রিকইনফো মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ারও নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

মুম্বাই ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে চলমান আইপিএলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও বনে গেছেন জয়সওয়াল। ২০২৩ সালের সেরা রান সংগ্রাহকের টুপি এখন তার মাথায়। এখন পর্যন্ত ৯ ম্যাচ খেলে ৪২৮ রান করেছেন এ বাঁহাতি ব্যাটার।

তবে ক্রিকেটের যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না যশস্বী জয়সওয়ালের। ভারতের উত্তরপ্রদেশের ভাদোহি জেলার সুরিয়া এলাকায় জন্ম নেয়া জসওয়ালের ক্রিকেটার হয়ে ওঠা রূপকথার গল্পের মতো। তার বাবা ভূপেন্দ্র রং বিক্রি করতেন, বেসরকারি স্কুলে পড়াতেন মা কাঞ্চন। চার সন্তানের লালন-পালনের পর যশস্বীকে ক্রিকেটার বানানোর খরচ জোগানো অসম্ভব হয়ে যায়। 

মাত্র দশ বছর বয়সে মুম্বাই চলে আসেন জসওয়াল। রুটি-রুজির জন্য কখনও ফুচকা কখনও ফল বিক্রি করতেন। অন্যের দোকানেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। কাজের ব্যস্ততার কারণে মুম্বাইয়ের আজাদ মাঠে সেভাবে অনুশীলনের ফুসরত ছিল না।

সেই সময়ে আজাদ মাঠের এক কর্মীর সঙ্গে পরিচয় হয়ে যাওয়ায় তার সঙ্গে তাঁবুতে রাত কাটানোর সুযোগ পান জসওয়াল। সেখানে বিদ্যুৎ ছিল না, খাওয়ার পানিও ছিল না। শুধু ছিল ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন। 

আজাদ মাঠে অনুশীলন করার সুবাদে পরিচয় হয় সেখানকার জনপ্রিয় কোচ জ্বালা সিংহের সঙ্গে। তিনি জসওয়ালকে বাড়িতে নিয়ে হবু স্ত্রী বন্দনাকে বলেন, এই ছেলেটাকে নিজের ছেলের মতোই গড়ে তুলতে হবে। বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন। এরপর আর তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি জসওয়ালকে। 

জ্বালাকে জসওয়াল শুধু বলেছিলেন, আমি ক্রিকেট খেলা ছাড়া আর কিছু করতে পারি না। আমি আপনার সব কাজ করে দেব। যা বলবেন সব করব। ঘর পরিষ্কার করব, জুতো পালিশও করে দেব। শুধু ক্রিকেট খেলতে দেবেন।

মুম্বাইয়ের সান্তাক্রুজে নিজের অ্যাকাডেমি রয়েছে জ্বালার। সেখানেই ক্রিকেট সাধনা শুরু হয় জnওয়ালের। তার চেষ্টা বিফলে যায়নি। ২০১৫ সালে স্কুল ক্রিকেটে ৩১৯ রানের ইনিংস এবং ৯৯ রান দিয়ে ১৩ উইকেট জায়গা করে নেয় লিমকা বুক অব রেকর্ডসে। 

এরপর সুযোগ পান ভারতের অনূর্ধ্ব-১৬ দলে। ধীরে ধীরে জায়গা করে নেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলেও। এরপর ২০২০ সালে যুব বিশ্বকাপের ৪০০ রান করে টুর্নামেন্ট সেরা হন। সেমিফাইনালে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ম্যাচ জিতে ভারত। 

মুম্বাইয়ের বিপক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে জসওয়াল বলেন, পদ্ধতি ঠিক রেখে শুধু কঠোর পরিশ্রম করে যেতে চাই। পরিশ্রম করলে সফলতা আসবেই। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআইএ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!