কোহলির জরিমানার অর্থমূল্য ১.০৭ কোটি ভারতীয় রূপি। অপরদিকে গম্ভীর যেহেতু কোচিং স্টাফের সদস্য, তার জরিমানা শতভাগ হলেও পরিমাণ কোহলির চার ভাগের প্রায় এক ভাগ। গম্ভীরের জরিমানার অর্থমূল্য আসে ২৫ লাখ রূপি।
মূলত আইপিএল কোড অব কন্ডাক্টের লেভেল-২ এর অপরাধ করায় কোহলি এবং গম্ভীর এই শাস্তি পেয়েছেন। তাছাড়া একই তর্কে জড়িয়ে জরিমানা গুণতে হচ্ছে নাভিন উল হককেও। এই আফগান পেসার লেভেল-১ এর অপরাধ করায় তার ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে।
.png)
ঘটনার সূত্রপাত ম্যাচ শেষে দুই দলের ক্রিকেটারদের হাত মেলানোর সময়। ম্যাচ চলাকালীন লখনৌয়ের উইকেট পড়ার পরে নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে উল্লাস করছিলেন কোহলি। এসময় লখনৌয়ের ডাগআউটের দিকে তাকিয়ে মুখে আঙুল দিয়ে চুপ করে থাকার ভঙ্গি দেখান ব্যাঙ্গালুরুর সাবেক এই অধিনায়ক।
আফগানিস্তানের ক্রিকেটার নাভিন উল হক আউট হওয়ার সময়ও উত্তেজিত হয়ে উল্লাস করেন কোহলি। টুপি খুলে মাটিতে ছুড়ে ফেলেন। সেটা হয়তো ভালোভাবে নেননি নাভিন। তাই হাত মেলানোর সময় কোহলিকে কিছু একটা বলতে দেখা যায় এই আফগান ক্রিকেটারকে।
সঙ্গে সঙ্গে জবাবও দেন কোহলি। তার পরই সেই বিতর্কে যোগ দেন গম্ভীর। আর তাতেই বিবাদ বেড়ে যায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হচ্ছে দেখে সেখানে এসে উপস্থিত হন দু’দলের বাকি ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফরা।
কোহলি ও গম্ভীর দু’জনেই দিল্লির। লখনৌয়ের স্পিনার অমিত মিশ্র ও সহকারী কোচ বিজয় দাহিয়াও একসময় দিল্লির হয়ে খেলেছেন। সেই কারণে তারা কোহলি-গম্ভীরকে ভালো ভাবে চেনেন। তাই তারাই বেশি উদ্যোগী হয়ে দু’জনকে সামাল দেন।
লখনৌয়ের অধিনায়ক লোকেশ রাহুলও ছিলেন সেখানে। গম্ভীরকে শান্ত করার চেষ্টা করেছেন লখনৌ অধিনায়ক। আর কোহলিকে সরিয়ে নিয়ে যান আরসিবির ব্যাঙ্গালুরু অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি।
কিন্তু সেখানেই সব থেমে যায়নি। তিনি যে গম্ভীরের কথা ভালোভাবে নেননি সেটা কোহলির চোখ-মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছিল। বাউন্ডারির ধারে দাঁড়িয়ে রাহুলের সঙ্গে অনেকটা সময় কথা বলেন তিনি। ঠিক সেই সময় সেখানে উপস্থিত হন লখনৌয়ের মালিক সঞ্জীব গোয়েনকা। তার সঙ্গে অবশ্য হাত মেলান কোহলি।
কোহলির সঙ্গে গম্ভীরের বিবাদ এটাই প্রথম নয়। এর আগে গম্ভীর যখন কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক ছিলেন তখনও দু’জনের মধ্যে মাঠে বিবাদ হয়েছে। একে অপরের দিকে তেড়ে গিয়েছেন তারা। এত বছর পরেও দুজনের সম্পর্কে উন্নতি হয়নি।