গত কয়েক বছর ধরে ওয়ানডে ক্রিকেটে চলছে বাবর আজমের শাসন। বড় টুর্নামেন্টেও নিয়মিত রান করেন তিনি। সময়ের আরেক তারকা বিরাট কোহলির সঙ্গে সমানতালে টক্করও দেন। কিন্তু বিশ্বকাপ আসতেই সেই বাবরকে আর পেলো না পাকিস্তান। এ নিয়ে দেশটির ক্রিকেট সমর্থকদের আফসোসের শেষ নেই। পিসিবির কোনো পোস্ট দেখলেই সেখানে বাবরের অফ ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন করছেন। তাদের সেই প্রশ্নের সারমর্ম অনেকটা এমন, বিশ্বকাপে না পারলে আর কখন?
সবমিলিয়ে ১১৭ ওডিআই খেলা এই তারকা এবারের বিশ্বকাপে নয় ম্যাচে চারটি ফিফটি পেয়েছেন। যেখানে সর্বোচ্চ ইনিংস ৭৪, আফগানিস্তানের বিপক্ষে। যদিও তার ইনিংসটি বৃথাই যায়। কারণ ম্যাচটা জিতে নেয় আফগানরা। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চেন্নাইয়ের করেছিলেন ৫০ রান। সেটিও কোনো কাজে লাগেনি। কারণ দিন শেষে বিজয়ের হাসি ফোটে প্রোটিয়াদের মুখে।
.png)
এভাবে দলের প্রয়োজনে কাজে না লেগে গড়পড়তা রান করেছেন বাবর। ছিল না কোনো ইমপ্যাক্ট ইনিংস। যেটা কোহলি-রোহিতদের বেলায় পুরোপুরি ভিন্ন। তারা রান করেছেন দলের জন্য, তাদের রানের সুবাদে প্রতিপক্ষ পড়ে যায় মহাচাপে। আর বাবরকে যখন দরকার তখন তিনি হাল ধরতে পারেননি। ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলতে পারেননি। যে শূন্যতা অনেকটা ভুগিয়েছে পাকিস্তান দলকে।
অথচ বছরখানেক আগেও বাবরের ব্যাটিং গড় ছিল ৮৪.৮৭। সেবার ওয়ানডেতে ৯ ম্যাচে করেছিলেন ৬৭৯ রান। ছিল তিনটি সেঞ্চুরি আর পাঁচটি হাফ সেঞ্চুরি। যার মধ্যে লাহোরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দুটিতেই ছিল শতক। আরেকটিতে ফিফটি। এরপর মুলতানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে করেছিলেন ১০৩ রান। কেবল ২০২২ নয়, ২০১৯ থেকে চলে তার রাজত্ব। বাইশের আগের তিন বছরও ওয়ানডেতে তার গড় ছিল ৬০ এর বেশি। মোটামুটি তখন নামলেই অন্তত ফিফটি করে মাঠ ছাড়তেন বাবর।
আর দশজন তারকার মতো কেবল হোমে আলো ছড়িয়ে ফাস্ট হননি বাবর আজম। অ্যাওয়েতে তিনি আরো বেশি ভয়ংকর ছিলেন। সেটা পরিসংখ্যানও বলে। এখন পর্যন্ত একদিনের ক্রিকেটে হোমে ২২ ম্যাচ খেলেছেন। যেখানে রান সংখ্যা ১৪৭১। অন্যদিকে অ্যাওয়েতে ৫১ ম্যাচে ২২৬৩ রান করেছেন এই পাকিস্তানি।
তবে বিশ্বকাপে তাকে দেখা গেলো ভিন্ন পথে। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান মোকাবিলা করে নেদারল্যান্ডসকে। পুঁচকে প্রতিপক্ষ পেয়েও ঝলক দেখাতে পারেননি বাবর। মাত্র ৫ রান করে ফিরে যান সাজঘরে। এরপর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ১০ রান। ভারতের বিপক্ষে বাজে হারের দিন টেনেটুনে ফিফটি করেন বাবর।
২০১৯ বিশ্বকাপও এমন সাদাসিধা পারফরম্যান্স করতে দেখা যায়নি বাবরকে। সেবার ৮ ম্যাচে ৪৭৪ রান করেছিলেন তিনি৷ সবমিলিয়ে দুই বিশ্বকাপ খেলা বাবরের রান হলো ৭৯৪। যেখানে সেঞ্চুরি একটি, ২০১৯ সালে বার্মিংহামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে করেছিলেন। আর ফিফটি সাতটি।
২০১৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হয়েছিল বাবরের। এরপর থেকে পাকিস্তান দলকে দুহাত ভরে রান উপহার দিয়েছেন। হঠাৎ তার এমন ছন্দ পতন পাকিস্তানের ক্রিকেটে নেতিবাচক প্রভাব ফেললো। প্রায় আট বছরের পথচলায় বাবর করেছেন ৫ হাজারের বেশি রান। গড়েছেন একাধিক রেকর্ড। যার মধ্যে এক সিরিজে সর্বাধিক শতক, ওয়ানডেতে দ্রুততম ৫ হাজার, সর্বোচ্চ ব্যাটিং গড়, দলনেতা হিসেবে এক সিরিজে সবচেয়ে বেশি রান-এমন বহু রেকর্ডের মালিক এখন বাবর।
কিন্তু হুট করে তার খেই হারানো মানতে পারছেন না পাকিস্তানের ক্রীড়া অনুরাগীরা। শুধু এই বিশ্বকাপ নয়, তার আগে অনুষ্ঠিত হওয়া এশিয়া কাপেও সেভাবে দ্যুতি ছড়াতে পারেননি। যা নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়। পাকিস্তানের সাবেক তারকারাও বাবরকে এক হাত নেন। এখন অপেক্ষা কেবল তার চেনা রুপ দেখার৷ হয়তো বিশ্বকাপের পর কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজে সম্রাটের বেশে ফিরবেন বাবর।