বুধবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে আইসিসি। হল অব ফেমে ভারতের প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে জায়গা পেয়েছেন নীতু দ্রাবিড়। এছাড়াও তার সঙ্গী হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ক্রিকেটার এবি ডি ভিলিয়ার্স ও ইংল্যান্ডের অ্যালিস্টার কুক।
এবি ডি ভিলিয়ার্স
.png)
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১১৪ টেস্টে ৫০.৬৬ গড়ে ৮,৭৬৫ রান করেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক। পার্ট তাইম এই বোলারের ঝুলিতে আছে ২ উইকেট। ২২৮ ওয়ানডেতে ৫৩.৫০ গড়ে তার ব্যাটে এসেছিল ৯,৫৭৭ রান। বল হাতে নেন ৭ উইকেট। প্রোটিয়াদের জার্সিতে টি-২০ ম্যাচ খেলে ২৬.১২ গড়ে করেছিলেন ১,৬৭২ রান।
সকল ধরণের বোলারদের বিপক্ষে সম্পূর্ণ শট নিয়ে মাঠের চারপাশে রান করতে সক্ষম ডি ভিলিয়ার্স আধুনিক খেলার অন্যতম উদ্ভাবনী এবং ধ্বংসাত্মক ব্যাটার হিসেবে বিবেচিত হন। এ জন্য তাকে মি. ৩৬০ ডিগ্রি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
১৪ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনটি ফরম্যাটে ২০ হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক রান করেন। একইসঙ্গে খেলাটির সর্বশ্রেষ্ঠ ফিল্ডারদের একজন হিসেবে চিহ্নিত হন।
ওয়ানডেতে দ্রুততম সেঞ্চুরি, একাধিকবার আইসিসি পুরুষদের ওয়ানডে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার লাভ এবং বহুবার আইসিসি টেস্ট দলে নির্বাচিত হওয়া ডি ভিলিয়ার্সকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। টি-২০ ফরম্যাটেও হয়ে উঠেছিলেন অপরিহার্য। ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও তার আবেদন এখনো ফুরায়নি।
স্বীকৃতি পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় ডি ভিলিয়ার্স বলেন, ‘আইসিসি হল অফ ফেমে অন্তর্ভুক্ত হওয়া ও একটি নির্বাচিত গ্রুপে যোগদান করা অসাধারণ সম্মানের বিষয়।’
‘আমি জানি প্রিটোরিয়ার স্কুলে আমার প্রথম দিন থেকে, টাইটান্সে এবং দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সাথে অনেক স্মরণীয় দিন পেরিয়ে অনেক সতীর্থ, কোচ এবং সহায়তা কর্মীদের সাহায্য এবং সমর্থন ছাড়া আমি কিছুই অর্জন করতে পারতাম না। সত্যিই সারাবিশ্বে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটটাও।’
অ্যালিস্টার কুক
টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সেরা ওপেনিং ব্যাটারদের একজন হিসেবে তার নাম উচ্চারিত হয়। ১৬১ টেস্টে ৪৫.৩৫ গড়ে ১২,৪৭২ রান করেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক। ৯২ ওয়ানডেতে ৩৬.৪০ গড়ে তার ব্যাটে এসেছিল ৩,২০৪ রান। ইংল্যান্ডের জার্সিতে মাত্র চারটী টি-২০ ম্যাচ খেলে ১৫.২৫ গড়ে করেছিলেন ৬১ রান।
ধৈর্য, কৌশল এবং অটল মানসিকতার জন্য সুপরিচিত কুকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে স্থায়ী ছিল। এ সময় তিনি টেস্ট ওপেনার হিসেবে ধারাবাহিকতাকে আলাদাভাবে সংজ্ঞায়িত করেছিলেন, ভেঙেছিলেন প্রচুর রেকর্ড।
কুক সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের সর্বকালের শীর্ষ রান সংগ্রাহক হিসেবে অবসর নিয়েছিলেন। সম্প্রতি তাকে ছাড়িয়েছেন জো রুট। টেস্ট ইতিহাসে কুক এখনো শীর্ষ রান সংগ্রাহকের তালিকার ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন।
বিদেশের মাটিতে ইংল্যান্ডের দুটি সেরা সিরিজ জয়ে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ২০১০-১১ মৌসুমে অ্যাশেজ এবং ২০১২ সালে ভারতে টেস্ট সিরিজ জেতায় কুকের অবদান অনস্বীকার্য।
অসামান্য অধিনায়কত্বের জন্য তিনি ছিলেন স্বীকৃত। বেশ কয়েক বছর ইংল্যান্ডের নেতৃত্ব দিয়ে ইংল্যান্ডের বাইরে উল্লেখযোগ্য সিরিজ জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তার মানসিক দৃঢ়তা এবং স্থিরতা কর্মজীবনে বিশেষভাবে স্পষ্ট ছিল। একটানা ১৫৯টি টেস্ট খেলে গড়েছিলেন বিশ্বরেকর্ড।
আইসিসির হল অব ফেমে স্থান পাওয়ার পর কুক বলেন, ‘নিশ্চিতভাবে এটা আশ্চর্যজনক ছিল। এই তালিকায় থাকা দুর্দান্ত মানুষদের সঙ্গে যখন আপনি যোগদান করছেন। আমি খুব সম্মানিতবোধ করছি।’
‘যতবার আমি ইংলিশদের শার্ট (জার্সি) টানতাম, ততবার ভালো খেলার চেষ্টা করেছি। ক্রিকেট খেলার সেরা ২০ বছর কাটিয়েছি। চোটাক্রান্ত না হওয়ার ব্যাপারে আমি খুব ভাগ্যবান ছিলাম। কিছু দারুণ মানুষের সঙ্গে দেখা করতে, ভালো-মন্দ অনেক নিছুর অংশীদার হয়েছিলাম। আমি মনে করি এসব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এগুলো এমন স্মৃতি তৈরি করেছে, যা আমি কখনোই ভুলব না।’
নীতু দ্রাবিড়
১৯৯৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে নীতু বল হাতে এক ইনিংসে ৫৩ রান খরচায় পান ৮ উইকেট। নারীদের টেস্ট ইতিহাসে এখনো এটি সেরা বোলিং ফিগারের রেকর্ড হিসেবে টিকে রয়েছে। তিনি ১০ টেস্টে মাত্র ১৮.৯০ গড়ে পেয়েছিলেন ৪১ উইকেট। ৯৭ ওয়ানডেতে গড় আরো কম (১৬.৩৪), উইকেট সংখ্যা ১৪১। ভারতের প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডেতে শততম উইকেটের মাইলফলকে পা দিয়েছিলেন।
সম্প্রতি নীতু দ্রাবিড় ভারতের নারী দলের নির্বাচক কমিটির প্রধানের দায়িত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। আইসিসির হল অব ফেমে নিজের নাম ওঠাকে তিনিও সম্মানজনক প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন।
‘আইসিসি হল অব ফেমে অন্তর্ভূক্ত হওয়া সত্যিই একটি সম্মানের বিষয়। আমি মনে করি জাতীয় দলের জার্সি পরে খেলা যে কারোর জন্য এটি সর্বোচ্চ স্বীকৃতি।’
‘সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়দের সাথে হল অব ফেমে জায়গা খুবই সম্মানজনক। আমি এই স্বতন্ত্র ক্লাবের অংশ হতে পেরে রোমাঞ্চিত। আমি এমন স্বীকৃতি দানের জন্য আইসিসিকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। একইসঙ্গে বিসিসিআইয়ের সকলকে, আমার সতীর্থ, কোচ, পরিবার এবং বন্ধুদের যারা আমার ক্যারিয়ারজুড়ে অবিরান সমর্থনের উৎস ছিলেন।’