অস্ফুটমঞ্জরি কুঞ্জবনে
সংগীতশূন্য বিষণ্ণ মনে
পরিরানি পরিরাজের প্রতিপক্ষ। পরিরানি এতদিন পরিরাজকে বহুবিধ যন্ত্রণার স্বাদ জুগিয়ে এসেছে। তবুও পরিরাজকে দেখে পরিরানির মনটা যেন বিষণ্ণ বেদনাবিধুর হয়ে উঠল। পরিরাজ বলল: পরিরানি, তোমার সঙ্গে এ কী অমঙ্গলের দেখা!
পরিরানি ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে বলল, তুমি! এখানে কী মনে করে তোমার উদয় ঘটল আমার ভিন্নদেশি ও হিংসুটে পরিরাজ? তোমার ছায়া মাড়ানোই পাপ। এক্ষুনি আমাকে আমার দলবল নিয়ে এই স্থান পরিত্যাগ করা উচিত।
.png)
পরিরাজ দরাজ গলায় বলল: দাঁড়াও দর্পিতা নারী, তুমি কি আমাকে পরিরাজ হিসেবে মেনে নিতে চাও না, নাকি মেনে নিতে দ্বিধাবোধ করছ?
পরিরানির গলাটা হঠাৎ বুজে এল। কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থেকে বলল, তুমিও কি আমাকে পরিরানি হিসেবে গণ্য করো?
পরিরাজ ক্ষুণ্ণভাবে বলল, গণ্য করতে আপত্তি কীসের!
পরিরানি এবার হেসে উঠল। বলল: হাসালে! তুমি ভাবছ, তোমার কোনও খবরই রাখি না।
পরিরাজ একটু নড়েচড়ে দাঁড়াল। তারপর আহত কণ্ঠে বলল : ভালো, ভালো। কী খবর রাখো একটু সুধাও শুনি?
পরিরাজের প্রশ্নে পরিরানি একটুকুও বিচলিত হয় না। অবাকও হয় না। গভীর গলায় বলল: অনেক দেশ ঘুরে বেড়িয়ে তোমার আর কী বেড়েছে জানি না, তবে দুঃসাহস যথেষ্ট বেড়েছে। কিন্তু শুনে রাখো—যদি জগতের সবাইকে ক্ষমা করতে পারি, তবুও আমার জীবনের শনিকে পারি না।
পরিরাজ কাঁপা কাঁপা আর ভাঙা ভাঙা স্বরে বলল: আমি... আমি তোমার শনি!
পরিরাজের গলার স্বরটা প্রায় বুজে আসার মতো শোনায়। এটা হয়তো বাক্যে যবনিকা পাতের ইশারা। কিন্তু পরিরানি যবনিকা পাত করতে দেয় না। দৃঢ়কণ্ঠে বলল, অবিশ্যি। শনি না হলে কি তুমি পরিদেশ থেকে পালিয়ে মেষপালকের ছদ্মবেশে সারাদিন বৃন্দাবনে রাধিকাকে বাঁশি বাজিয়ে প্রেমনিবেদন করতে?
পরিরাজ বিব্রত বোধ করে। চিরকালের পাগল পরিটা কী-না-কী বলে ফেলে। কে জানে কী সংকল্প করে এমন তোড়জোড়ে তার সঙ্গে কথা বলছে! মুহূর্তের মধ্যে এই চিন্তা খেলে যায় পরিরাজের মাথায়। পরমুহূর্তে প্রায় হাসির সঙ্গে উচ্চারণ করল: কী বললে? আর কী খবর জানো, তাড়াতাড়ি বলে ফেলো, দেরি সহ্য হয় না।
তুমি এই মণিপুর রাজ্যে কেন এসেছ তা আমার অজানা নয়।
উত্তম, উত্তম। কেন এখানে এসেছি সেই কথাটি বলে ফেলো।
পরিরানি গম্ভীর হাস্যে মৃদু কিন্তু দৃঢ় স্বরে বলল: তোমার মণিপুরী প্রেমিকা চিত্রাঙ্গদা, যে বর্ম এঁটে যোদ্ধার বেশে পুরুষ সৈনিকের সঙ্গে যুদ্ধ করে, তারই সঙ্গে অর্জুনের বিয়ে হতে যাচ্ছে, তাই তুমি দিশেহারা হয়ে এই অরণ্যে ছুটে এসেছ।
এর চাইতে অসম্ভব অসমসাহসিকতা আর কী হতে পারে? পরিরাজ যেন সাপের ছোবল খেয়েছে। নির্নিমেষ পরিরানির দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, আমার সামনে দাঁড়িয়ে এমন কথা বলতে তোমার লজ্জা হয় না?
পরিরানি রুদ্ধকণ্ঠ হয়ে যায়। তারপর স্তম্ভিত কণ্ঠেই বলল : সত্য বলতে আপত্তি কীসের!
পরিরাজ জ্বলে উঠে বলল: সত্য কথা যদি বলতে চাও, তাহলে তোমার ও অর্জুনের গোপন প্রেমকাহিনিটি সব্বাইকে জানিয়ে দিলেই ভালো হয়! নাকি সত্যকে মিথ্যে দিয়ে আড়াল করে রাখতে তোমার পছন্দ? এই কাজে অবশ্য তোমাকে হার মানাতে কেউ পারে না।
পরিরানি এই অপমানে রেগে ওঠে না, বরং হেসে উঠে বলল, স্মরণশক্তিটা আমার বড় কম। মনে করিয়ে দিয়ে ভালোই করলে। বলে যাও মন উজাড় করে মিথ্যে কথা!
পরিরাজ হতভম্ব হয়। পরক্ষণে শব্দ করে হেসে ওঠে। বলল, মিথ্যে বলব কেন! তুমি কি অস্বীকার করতে পার, অর্জুন কাউকে বিয়ে করার চেষ্টা করলে তা তুমি ভেঙে দাওনি? এমনকি পাণ্ডবশিরোমণি অর্জুনকে নিষ্কামরূপে প্রতিষ্ঠিত করে দ্রৌপদীকে পঞ্চস্বামীর মধ্যে ভাগ করে দিলে, যাতে তোমার ইচ্ছে চরিতার্থ করতে পার নিরবিচ্ছিন্নভাবে।
বড় বেশি উত্তেজিত দেখায় পরিরানিকে। তার স্বভাবের ব্যতিক্রম এটা। হঠাৎ ঠোঁটের কোণে একটু বাঁকা হাসির আভাস দেখা দেয় পরিরানির, সেটা তাড়াতাড়ি চাপা দিতে দিতে বলল, এসব তোমার নিষ্ফল আক্রোশের কথা ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না।
কটূক্তি হজম করে পরিরাজ বলল, এবার তুমি সত্যি সত্যিই হাসালে! বড্ড হাসি পাচ্ছে!
নির্দ্বিধায় হেসে যাও। প্রাণ খুলে হেসে যাও। আমার কিচ্ছু যায়-আসে না। কিন্তু তুমি কেন আমার পরিদের কাজে বাধা দিচ্ছ?
পরিরাজ আক্ষেপ কণ্ঠে বলল, কীভাবে!
পরিরানির মনটা যেন ইহকাল পরকালের প্রাচীর ভেঙে দিতে চায়। যেন তার অদেখা কষ্টটা সেই ভাঙা প্রাচীরের ওধারে নিয়ে গিয়ে বিকশিত করতে চায়। বলল, তোমার অপকর্মের কারণেই তো ফসলের ক্ষেতে আমরা নাচতে ব্যর্থ হচ্ছি। ফলে নদীর জল বৃদ্ধি পেয়ে কৃষকের ক্ষেত প্লাবিত হচ্ছে। এই অশান্তি, খাপছাড়া পরিবেশ তোমার অপকর্মের কারণেই সৃষ্টি হয়েছে।
পরিরাজের মুখটা শক্ত হয়ে উঠল। রুঢ়রুক্ষ, নীরেটনির্বোধ কণ্ঠে বলল: সবই তোমাদের কারসাজি। আমি শুধু তোমার স্নেহের মনুষ্যপুত্রটিকে চাই। একটু ভালো করে ভেবে দেখো, যে ভুল এখন শোধরানোর বাইরে চলে যায়নি সেটা শোধরানোর সুযোগ দিচ্ছি, কেবলমাত্র তোমার একটু সম্মতির বদলে। আর তুমি সম্মতি দিলেই সব ঝঞ্ঝাট মিটে যায়।
ক্রুদ্ধকণ্ঠে চাপা গর্জন করে পরিরানি বলল: আমিও সুস্পষ্ট ভাষায় বলে দিচ্ছি, আমার স্নেহের মনুষ্যপুত্রটিকে তোমার হাতে তুলে দেব না, দিতে পারিও না। সেও যাবে না।
পরিরানির এই পরিষ্কার ইঙ্গিতটা সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে পরিরাজ জোর করে একটু হেসে বলল: দেবে না—সেটাই হয়তো প্রকৃত কথা, তবু তোমাকে আবারও অনুরোধ করছি পরিরানি।
পরিরানির পক্ষে আর ধৈর্যের বাঁধ রাখা ক্রমশই কঠিন হয়ে পড়ছে। না, আর প্রশ্রয় দেওয়া যায় না। ভদ্রতার আবরণটুকু ঝেরে ফেলে দিয়ে দূর হও কথাটিই বোধ হয় বলতে যাচ্ছিল, থামতে হল। পরিরাজ প্রসঙ্গ পালটে বলল: পরিরানি, আর কত দিন তুমি এই মণিপুরের অরণ্যে অবস্থান করার ফন্দি করেছে?
রূঢ়কঠিন কণ্ঠে পরিরানি বলল, ফন্দি! ফন্দি হবে কেন! আমি স্বইচ্ছায় আগামীকাল চিত্রাঙ্গদার বিবাহ উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিব্য আনন্দোৎসব পর্যন্ত এখানেই অবস্থান করব। তবে হার মেনে, মাথানত করে যদি আমাদের উৎসবে যোগ দিতে চাও তাহলে উত্তম। তবে তুমি যদি তা করতে অস্বীকার করো তাহলে দূরত্ব বজায় রেখে অন্য পথে চলো, এটা তোমার জন্যই মঙ্গল।
মনুষ্যপুত্রটি আমাকে দিলে ওকে ওর রাজ্যে পৌঁছে দিতে পারি। তখন তোমার উৎসবে যুক্ত হতে আমার কোনও আপত্তি থাকবে না। পরিরাজ বলল।
পরিরানি জীবনের এই দীর্ঘপথ পার হয়ে এসে জেনেছে, মনের মিল শব্দটা একটা হাস্যকর অর্থহীন শব্দ। ও হয় না। মনের মিল হয় না, মনের মতো হয় না। পরিরাজকে ওর অচেনা মনে হয়। সে অনেক দূরের। সে চায় পরিরাজের মতো অসভ্য হবে না, রূঢ় হবে না, অপ্রিয় হবে না। সে শান্ত, মৃদু ও সভ্য থাকতে চায়। শান্ত-মৃদু-সভ্য কণ্ঠেই সে বলে উঠল, আমিও তোমাকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিচ্ছি, সমগ্র পরিরাজ্যের বিনিময়েও আমার স্নেহের মনুষ্যপুত্রটিকে তোমার হাতে অর্পণ করব না।
পরিরানির চলে গেল। তার গমন পথের পানে তাকিয়ে পরিরাজ বলল, যাচ্ছ যাও এই অপমানের প্রতিশোধ তোলা রইল। তারপর কৃষ্ণপরিকে ডেকে পরিরাজ বলল, তুই তাড়াতাড়ি করে সেই অলসপ্রেমের ফুলটি নিয়ে আয়। তা দিয়ে পরিরানিকে মায়ার ঘোরে আপ্লুত করব।
কৃষ্ণপরি সঙ্গে সঙ্গেই বলল: মহারাজ, আমি অর্ধপ্রহরের মধ্যেই অলসপ্রেমের ফুলটি আপনার সম্মুখে হাজির করছি।
চলে গেল কৃষ্ণপরি। সেদিকে তাকিয়ে পরিরাজ স্বগত উচ্চারণ করল, আগে ফুলটা হাতে আসুক। তারপর পরিরানিকে উন্মাদিনীর মতো মায়ার ঘোরে আপ্লুত করব। অবশ্য আমার কাছে আরও একটা ফুল আছে যা দিয়ে সেই মায়ার ঘোর কাটানো যায়। তবে পরিরানির ঘোর কেটে যাওয়ার আগেই বালকটিকে ছিনিয়ে নিতে হবে।
পরিরাজ অস্পষ্ট কয়েকটি পায়ের আওয়াজ শুনতে পেল। মনে মনে বলল: এদিকে যেন ওরা আসছে। নিজেকে অদৃশ্য করা উচিত। অদৃশ্য থেকেই ওদের কর্মকাণ্ড অবলোকন করা আবশ্যক।
উন্মাদের মতো ছুটতে ছুটতে আদিত্য বলতে থাকে, বিন্দু, কোথায় লিন্দুচন্দ্র ও মেঘবন? তোমার কথা শুনেই উদভ্রান্তের মতো ছুটে এসেছি। এখন দেখছি সবই মিথ্যে।
বিন্দু মুখটা আরও লাল করে বলল, মিথ্যে বলেনি। স্বেচ্ছায় তোমার সঙ্গেও আসতে চাইনি। তুমিই আমাকে এখানে আসতে বাধ্য করেছ। আমি আর তোমার নিষ্ঠুর নাম মুখে আনতে চাই না, কোনওদিনই নয়।
অদ্ভুত এক অকারণ অভিমানের সঙ্গে লড়াই করতে না পেরে আদিত্য বলে উঠল: তোমাকে সুস্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিচ্ছি, তোমাকে আমি কোনওদিনই ভালোবাসিনি, আজও নয়।
বিন্দুর মধ্যে ভালোবাসা আছে, বিন্দুর মধ্যে হৃদয় আছে; তাই হয়তো বলল, কিন্তু আমি যে তোমাকে উন্মাদের মতো ভালোবাসি!
কিন্তু আদিত্য একটা পাথরের দুর্গ গড়ে তার মধ্যে আত্মগোপন করে থাকতে চায়। হয়তো তার হৃদয়ে ভালোবাসার চাষ নেই বলেই সেটাকে নিয়ে এত সংকোচ করে। বলল: ভালোবাসা! তোমার প্রেম-ভালোবাসা সবই মিথ্যে, অসার। তোমাকে দেখলেই আমার গা জ্বালা করে।
বিন্দু আবার অন্য ধাতুর তৈরি। মানুষ নয়, মেয়েমানুষ। অন্ধভালোবাসার দাসত্ব করে চলেছে। হা-হুতাশ আর আক্ষেপের স্বরে বলে উঠল, আর আমার গা জ্বালা করে যখন তোমাকে দৃষ্টির আড়ালে রাখি। তুমি শুধু আমার নিষ্ঠুরতাই দেখলে, আমার ফেটে যাওয়া বুকটা দেখলে না। শুধু জানলে আমি কঠোর, আমি কঠিন। ভগবানও আমার অপমান আনন্দ উপভোগ করেন। যমও আমাকে ঠাট্টা করে। দেখি তবে এর শেষ কোথায়?
বিন্দুর চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল।
বিন্দুর দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে আদিত্য বলল: শেষ আজই হবে, তুমি ভুলে যেয়ো না, এটি হচ্ছে গভীর অরণ্য। তোমাকে একা পেয়ে হিংস্র জানোয়ারগুলো কুরে কুরে খাবে। যম তখন আর ঠাট্টা করবে না।
জ্বলন্তদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে তীব্রকণ্ঠে বিন্দু বলল, তুমি কেন বলছ আমি একা। তুমি তো আমার সঙ্গেই আছ। তুমি যেখানেই যাওয়ার চেষ্টা করো না কেন, আমি তোমার সঙ্গ ত্যাগ করব না।
আদিত্য অদ্ভুত অসম্ভব কণ্ঠে বলল, তোমার প্রলাপ শুনতে আর চাই না। আমাকে একা থাকতে দাও। আবারও বলছি, তুমি যদি আমাকে অনুসরণ করো তাহলে তোমার ভালো হবে না।
বিন্দুর প্রাণটা যেন সর্বদাই আদিত্যের দিকে শত বাহু বাড়িয়ে ছুটে যেতে চায়। কিন্তু আদিত্য কি তাকে টেনে নেবে তার সহস্র আকর্ষণ দিয়ে? বিন্দুর একটিই বাসনা, একটিই ইচ্ছে—আদিত্য তার ভালোবাসাকে স্বীকার করে নেবে। কে জানে এমনটা কি ঘটবে বিন্দুর ভাগ্যে? বিন্দু কাতর স্বরে বলতে লাগল, তোমাকে অনুসরণ করবই। তোমাকে ভালোবাসি আমার মনের সমস্ত সৌন্দর্য দিয়ে। এই প্রেমের জন্যই নরককে স্বর্গে পরিবর্তন করবই।
বিন্দু যেন তার জীবনের অসহায়ত্ব নিয়ে এই পৃথিবীর এক কোণে দণ্ডায়মান, তার চার পাশে, ঘোষিত সমস্ত মিথ্যের স্বরূপ এক বীভৎস মহিমায় বিরাজিত।
পরিরাজ গোপনে সব কথা শুনল। বিন্দুর প্রতি সমবেদনা জানাতেই মনে মনে বলল: সুন্দরী! এই গভীর অরণ্য থেকে ফিরে যাওয়ার আগেই আমি তোমার ভাগ্য ঘুরিয়ে দেব। এই নরাধমটাকে প্রেমে উন্মাদ করে তোমার পিছু পিছু ঘুরতে বাধ্য করব।
কৃষ্ণপরি অলসপ্রেমের ফুলটি হাতে নিয়ে ফিরে এল। ফুলটি পরিরাজের সামনে তুলে ধরে কৃষ্ণপরি বলল, এই তো সেই অলসপ্রেমের ফুল।
আমাকে দে। তারপর অলসপ্রেমের ফুলের কয়েকটি পাপড়ি ছিঁড়ে নিয়ে পরিরাজ বলল, এই নে কয়েকটি পাপড়ি। এগুলো নিয়ে তুই ছুটে যা অরণ্যের পথে। ওখানে দেখবি, একটি যুবকের পিছু পিছু একটি যুবতি ছুটছে। তুই সুকৌশলে সেই যুবকের ঘুমন্ত চোখে এই ফুলের প্রেমসুধা ঢেলে দিবি। আর তা তুই সফলভাবে সমাপন করতে পারলেই সব ঝামেলার অবসান ঘটবে।
চিন্তা করবেন না, মহারাজ। আমি আপনার আদেশ অনুযায়ীই কাজ করব। এই বলে কৃষ্ণপরি চলে গেল।