ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজনীতি ]

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের কাছে দুঃখ প্রকাশ হাসনাত আব্দুল্লার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪:৩৭, ২৯ আগস্ট ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের কাছে দুঃখ প্রকাশ হাসনাত আব্দুল্লার
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষকে নিয়ে নিজের বক্তব্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দুঃখপ্রকাশ করেন।

Advertisement

পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংসদে দেওয়া তার বক্তব্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করেছে। এ কারণে তিনি দুঃখ প্রকাশ করছেন।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও সিনেমা প্রায় নিষিদ্ধের মতো পরিস্থিতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছিলেন। হাসনাতের দাবি, এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের ওপর চাপানো হয়েছে এবং স্থানীয় আলেম-ওলামাদের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের একটি কনসার্ট বন্ধ হওয়ার ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে যে চিত্র উঠে এসেছিল, বাস্তবতা তার চেয়ে ভিন্ন ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

হাসনাতের ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে উচ্চ শব্দের কারণে একটি মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছিল। এ কারণে শিক্ষার্থীরা কনসার্টের শব্দ কমানোর অনুরোধ করেন। এ নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় এবং পরবর্তী সময়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হন।

তিনি দাবি করেন, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করেননি; তারা কেবল উচ্চ শব্দ কমানোর কথা বলেছিলেন। ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ—এমন ধারণা সঠিক নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে নৌকাবাইচের প্রসঙ্গে নিজের বক্তব্যে তথ্যগত ভুলের কথা স্বীকার করেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, সিলেটের পরিবর্তে ভুলবশত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাম উল্লেখ করেছিলেন। এ অনিচ্ছাকৃত ভুলে যে পরিস্থিতি ও ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

হাসনাত বলেন, সংসদে তিনি মূলত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের জবাবদিহিতার প্রশ্ন তুলতে চেয়েছিলেন। তবে সম্পূরক প্রশ্নে সময় সীমিত থাকায় বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার সুযোগ পাননি।

নিজের বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, তিনি ও তার দল জুলাইয়ের আদর্শে বিশ্বাস করেন এবং একটি সর্বজনীন সমাজ গঠনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন।

তার মতে, এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে ধর্ম, মত ও দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা থাকবে, তবে কেউ কারও ওপর নিজের মত জোর করে চাপিয়ে দিতে পারবে না।

হাসনাত বলেন, বাংলাদেশ সবার। এখানে মসজিদ, মন্দির, গান, ওয়াজ, মাজার, কনসার্ট, মাহফিল, রথযাত্রা ও সিনেমা উৎসব—সবকিছুর সহাবস্থান থাকবে। প্রত্যেক মানুষ নিজের পছন্দ ও মত অনুযায়ী কার্যক্রমে অংশ নেবেন এবং সরকার নিশ্চিত করবে যেন কেউ অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে না পারে।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার বর্তমানে সবার নিরাপত্তা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে এবং একটি সমতার বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এ আর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!