এ দিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের খালাসীকান্দি এলাকায় মনিরুলের গ্রামের বাড়িটি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মনিরুল হাওলাদার খালাসীকান্দি এলাকার মৃত শাজাহান হাওলাদারের ছেলে। প্রায় দেড় বছর আগে দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ইতালিতে পাড়ি জমান তিনি। ইতালিতে যাওয়ার জন্য তিনি প্রায় ২৮ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন এবং এখনো ওই অর্থের ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
.png)
স্থানীয়দের দাবি, দেশে থাকাকালে মনিরুল ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ধুরাইল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, বিদেশের মাটিতে একজন বাংলাদেশি অভিনেত্রীর ওপর হামলার অভিযোগ গুরুতর। এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে মনিরুলের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
মনিরুলের সৎভাই ওবায়দুল হাওলাদার বলেন, ‘বিদেশে বসে এ ধরনের ঘটনায় দেশের মান-সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমরা তার সঙ্গে নেই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে তার বিচার হওয়া উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মনিরুলের মা, ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। তাদের ধারণা, বাড়িতে হামলা বা কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় তারা আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে পরিবারের সদস্যরা কেন বাড়ি ছেড়েছেন, সে বিষয়ে তাদের সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মনিরুলের বাড়ির আশপাশে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কামাল আজাদ বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পরপরই মনিরুলের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কেউ যাতে বাড়িঘরে হামলা বা কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।’
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়ে মনিরুল হাওলাদারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।