ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজনীতি ]

আন্দোলনের মাধ্যমেই ফয়সালা হবে: জামায়াত আমির

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৩০, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্দোলনের মাধ্যমেই ফয়সালা হবে: জামায়াত আমির
সংগ্রহীত ছবি

সরকার বিরোধী দলের কথা না শুনলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং আন্দোলনের মাধ্যমেই এর ফয়সালা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াত বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় দেশের চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জনদুর্ভোগ, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস সংকট, তৈরি পোশাকশিল্প, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট এবং বিরোধী দলের চলমান লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়।

Advertisement

মতবিনিময়কালে শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয়েও খোঁজখবর নেন। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সমস্যা জানতে চান তিনি। কোনো সংগঠন বা কাঠামোর মাধ্যমে এসব সমস্যা ও প্রস্তাবনা তুলে ধরলে তা সমাধানে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, সাংবাদিকরা ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে। তিনি সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানান।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, দাম বাড়ার পর বিভিন্ন পণ্য ও সেবার ব্যয়ও বাড়ছে। এর প্রভাব সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দেশীয় পণ্যের উৎপাদন ও পরিবহন খাতেও পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এসব বিষয় গণমাধ্যমে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

সরকারি দলের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের লংমার্চ নিয়ে সমালোচনার জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, চাইলে আরও বড় বহর নিয়ে তারা কর্মসূচি পালন করতে পারতেন। তাঁর দাবি, লংমার্চের দাবিগুলো কোনো একক দলের নয়, এগুলো জনগণের দাবি।

১৯ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের আগে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। এ ঘটনায় বিরোধী দল জড়িত ছিল—এমন বক্তব্যের বিরোধিতা করে তিনি দাবি করেন, কর্মসূচি বানচাল করতে অন্য পক্ষ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে থাকতে পারে। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো স্বাধীন তদন্তের ফল উপস্থাপন করেননি।

পে-স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্যদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে তার বিরোধিতা করা হবে বলেও জানান শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, টাকা উপার্জনের উদ্দেশ্যে বিরোধী দল সংসদে যায়নি।

এক বছরের মধ্যে এক থেকে দেড় কোটি নতুন কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও অনেকে এখন কর্মসংস্থান হারাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন জামায়াত আমির। বিষয়টি গণমাধ্যমে যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।

সংসদে বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিরোধী দলের দেওয়া নোটিশ আলোচনায় না আনার অভিযোগও করেন শফিকুর রহমান। জ্বালানি, সার, বিদ্যুৎ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিশুধর্ষণ ও হত্যা এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে নোটিশ দেওয়া হলেও সেগুলো আলোচনায় নেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, সংসদে এসব বিষয়ে গুরুত্ব না পাওয়ায় বিরোধী দল রাজপথে আন্দোলনে নেমেছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, সাক্ষাৎকারে তাঁর দেওয়া বক্তব্য অনেক সময় ফটোকার্ডে পুরোপুরি তুলে ধরা হয় না এবং বক্তব্যের অংশবিশেষ প্রকাশের কারণে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এ ধরনের সমস্যা না থাকলে তিনি গণমাধ্যমে আরও খোলামেলা কথা বলবেন বলে জানান।

সভায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাগত বক্তব্য দেন।

এ সময় নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, আব্দুর রব, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মোবারক হোসাইন, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান ও অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!