ঢাকা,  শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

[ রাজনীতি ]

জীবন যাবে, জাতির সঙ্গে বেইমানি করব না: জামায়াত আমির

খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:৩৮, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
জীবন যাবে, জাতির সঙ্গে বেইমানি করব না: জামায়াত আমির
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘কথা দিয়ে যাচ্ছি, জীবন যাবে তবু জাতির সঙ্গে বেইমানি করব না, ইনশাআল্লাহ। আপনারা শুধু দোয়া করবেন, জাতির জন্য লড়াই করতে করতে আল্লাহ যেন আমাকে শহীদ হিসেবে কবুল করেন। মাঝখানে কোনো আপস নেই। আপস করতে জানি না। আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করতে জানি না।’

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে খুলনার শিববাড়ি মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধসহ সাত দফা দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। বরং কর্মসূচি একের পর এক আরও জোরদার করা হবে। প্রয়োজনে খুলনা থেকে ঢাকায় যাওয়ার আহ্বান জানানো হলে গ্রামবাংলার প্রতিটি ঘর থেকে মানুষ সেখানে উপস্থিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

গণভোটের ফলাফল প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, নির্বাচনের আগে যারা ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর তাঁরাই এখন সেই রায় মানতে চাইছেন না। তাঁর অভিযোগ, গণভোটে ৭০ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে মত দিলেও সংসদে সেই রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করা হচ্ছে। ক্ষমতায় গিয়ে আগের মতো দেশ পরিচালনার চেষ্টা চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, কার্ডের মাধ্যমে মানুষকে এক হাজার, দেড় হাজার বা দুই হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। অথচ গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রতি মাসে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহ না করেও বিল নেওয়া হচ্ছে, বিদ্যুৎ না পেলেও গ্রাহকদের বিল দিতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে।

কৃষকের সারসংকটের প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নতুন করে সার ডিলার নিয়োগে ২০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। অথচ কৃষক প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ গত সাড়ে ১৫ বছরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার, চাঁদাবাজি বন্ধ, দুর্নীতি ও অর্থ পাচার রোধের দাবিও জানান তিনি। জনগণকে জুলুম, চাঁদাবাজি ও লুটপাট থেকে মুক্ত করাই তাঁদের আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন।

সমাবেশে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা ১১ দলের বিজয় চাই না, আমরা এ দেশের প্রত্যেকটি নাগরিকের বিজয় ও মুক্তি চাই।’

জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পথের পাশে মানুষের উপস্থিতি এবং সমাবেশে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে পথসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব এবং লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযাহার চৌধুরী, এমডিপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. বেলাল হোসেন নেয়াজী, ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি, এনসিপির আবদুল হান্নান মাসউদ এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা হুসাইন আকন্দ, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিএস এস এম ফরহাদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি ইব্রাহিম রনি, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ খান প্রধানসহ বিভিন্ন দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

পথসভায় আল্লামা মামুনুল হক বলেন, ‘সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আমরাও আঙুল বাঁকা করতে পিছপা হব না, ইনশাআল্লাহ।’ সরকার পতনের ডাক এলে খুলনাবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/খুলনা/এমকে
ট্যাগ: খুলনা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!