খুলনায় আ’লীগের সাবেক এমপিসহ ৩জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
খুলনার তিন রাজনৈতিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আসামিরা হলেন খুলনা-৬ আসনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মো. রশীদুজ্জামান, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মেমরী সুফিয়া রহমান শুনু এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মো. ফারুক আহমেদ। একটি মামলায় স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই আসামি করা হয়েছে।
আয়ের সঙ্গে সম্পদের অসংগতি ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুদকের সহকারী পরিচালক মো. জাহিদ ফজল বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করেন। তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের অভিযোগ, সংসদ সদস্য থাকাকালে অসাধু উপায়ে ৭৫ লাখ ৯০ হাজার ২০৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেন রশীদুজ্জামান। তাঁর নামে ১ কোটি ৭ লাখ ৩৩ হাজার ৪৪৩ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পেয়েছে কমিশন। বিপরীতে তাঁর গ্রহণযোগ্য আয় ছিল ৪৩ লাখ ৫ হাজার ২৩৬ টাকা। পারিবারিক ব্যয় বাদে নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৩১ লাখ ৪৩ হাজার ২৩৬ টাকা। দুদকের হিসাবে, তাঁর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের পরিমাণ ৭৫ লাখ ৯০ হাজার ২০৭ টাকা। এ অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় দায়ের করা মামলাটির নম্বর ১৪।
অন্য মামলায় সাবেক কাউন্সিলর মেমরী সুফিয়া রহমান শুনুর বিরুদ্ধে ৩৬ লাখ ৯১ হাজার ৬০৯ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তার স্বামী শেখ মো. ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, স্ত্রীর নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনে তিনি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, শুনুর নামে স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ৭২ লাখ ৯৫ হাজার ৬৬২ টাকার সম্পদ রয়েছে। একই সময়ে তার গ্রহণযোগ্য আয় ছিল ৪৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫৩ টাকা। পারিবারিক ব্যয় ছিল ৯ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। কমিশনের অভিযোগ, এসব হিসাবের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে তিনি আইন লঙ্ঘন করেছেন। এ মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাটির নম্বর ১৬।
ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলায় ১ কোটি ১৭ লাখ ২৯ হাজার ১৩২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনেছে দুদক। কমিশনের তথ্যমতে, তাঁর নামে মোট ১ কোটি ৪২ লাখ ৩৭ হাজার ১৪৯ টাকার সম্পদ রয়েছে। একই সময়ে তার গ্রহণযোগ্য আয় ছিল ৭০ লাখ ৭৫ হাজার ৫০৫ টাকা এবং ব্যয় ৪৫ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৮ টাকা। দুদকের অভিযোগ, আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এ মামলার নম্বর ১৫।