ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ ক্যাম্পাস ]

জাবি ক্যাম্পাসে লগইন করে ওয়াইফাই ব্যবহারের সুযোগ পাবে শিক্ষার্থীরা : অধ্যাপক পাটোয়ারী

জাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:৪৭, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাবি ক্যাম্পাসে লগইন করে ওয়াইফাই ব্যবহারের সুযোগ পাবে শিক্ষার্থীরা : অধ্যাপক পাটোয়ারী
জাবির ইন্টারনেট অবকাঠামো উন্নয়ন ও ক্যাম্পাসজুড়ে ওয়াইফাই সুবিধা চালুর পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিম পাটোয়ারী।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইন্টারনেট অবকাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী প্রকল্পের আওতায় ৩২ কোরের ফাইবার অপটিক ব্যাকবোন স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ক্যাম্পাসের প্রতিটি ভবনে আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবলিংয়ের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার পাশাপাশি আবাসিক হলের প্রতিটি কক্ষ, শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষকদের কক্ষেও ওয়াইফাই সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের অতিরিক্ত ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক ও ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইআইটি) অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিম পাটোয়ারী এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

Advertisement

অধ্যাপক পাটোয়ারী বলেন, ‘আমাদের পরবর্তী প্রকল্পে ৩২ কোরের ফাইবার অপটিক ব্যাকবোন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ভবনে আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবলিংয়ের মাধ্যমে সংযোগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি হলের প্রতিটি কক্ষে ওয়াইফাই থাকবে। একটি কক্ষের চারজন শিক্ষার্থী ওই ওয়াইফাই ব্যবহার করতে পারবে।’

তিনি বলেন, ‘শুধু আবাসিক হল নয়, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষকদের কক্ষেও ওয়াইফাই সংযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে একজন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের যেখানেই থাকুক, লগইন করে ওয়াইফাই ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।’

বর্তমান ইন্টারনেট অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে অধ্যাপক পাটোয়ারী বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেট ব্যাকবোন অনেক আগে স্থাপন করা হয়েছিল। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো অনুযায়ী চার কোরের ফাইবার দিয়ে এটি তৈরি করা হয়। কিন্তু বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নতুন ভবন ও হল তৈরি হয়েছে, যেগুলো পুরোনো অবকাঠামোর অংশ ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘নতুন ভবনগুলোতে সংযোগ দিতে গিয়ে অনেক জায়গায় ওভারহেড ওয়্যারিংয়ের মাধ্যমে লাইন নিতে হচ্ছে। এতে সংযোগের কার্যকারিতা কমে যায় এবং বিভিন্ন সময় তার ছিঁড়ে গিয়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়।’

প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অটোমেশন কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে বলে জানান অধ্যাপক পাটোয়ারী। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্ভার ও সফটওয়্যার থাকলেই অটোমেশন সম্পূর্ণ হয় না; শিক্ষার্থী ও ব্যবহারকারীদের কাছে সেই সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য শক্তিশালী ইন্টারনেট অবকাঠামো প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘সফটওয়্যার যেমন দরকার, তার চেয়েও বেশি দরকার হচ্ছে সেই ‘রাস্তা’—অর্থাৎ ফাইবার অপটিক অবকাঠামো।’

উচ্চগতির ইন্টারনেটের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সিসিটিভি ক্যামেরার তথ্য সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ, অনলাইন ক্লাস, অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ, বিভিন্ন ডিজিটাল রিসোর্স শেয়ারিং—সব ক্ষেত্রেই উচ্চগতির ইন্টারনেট প্রয়োজন।’

তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের পর রক্ষণাবেক্ষণকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন অধ্যাপক পাটোয়ারী। তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসজুড়ে অসংখ্য সুইচ ও ওয়াইফাই ডিভাইস থাকবে। এগুলোর কোনোটি নষ্ট হলে মেরামত বা পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে। আবার কোনো কারণে একটি ওয়াইফাই সংযোগ কয়েক ঘণ্টা বা একদিন বন্ধ থাকলেও সেটি দ্রুত সমাধানের জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা প্রয়োজন হবে।’

ইন্টারনেটের অপব্যবহারের আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইন্টারনেট সহজলভ্য হলে কিছু অপব্যবহার অবশ্যই হতে পারে। কিন্তু সেটি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বরং প্রযুক্তি ও বিশ্বের বিভিন্ন জ্ঞান-সম্পদকে শিক্ষার্থীদের হাতের মুঠোয় নিয়ে আসার সুবিধাটাই বেশি।’

বর্তমানে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও অ্যাসাইনমেন্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার প্রসঙ্গে অধ্যাপক পাটোয়ারী বলেন, ‘এআই ব্যবহারের সমালোচনা থাকলেও শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির বাইরে রাখা যাবে না; বরং প্রযুক্তির সুবিধা কীভাবে সঠিকভাবে নেওয়া যায়, সেই শিক্ষাটা দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে শিক্ষাদান ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আসছে। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এআই মোকাবিলায় বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করছে এবং এখনো তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও সময়ের সঙ্গে শিক্ষাদানের পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে।’

প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে অধ্যাপক পাটোয়ারী বলেন, ‘এই প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। বর্তমানে এটি বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে। ইউজিসির সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের মাধ্যমে কাজটি এগিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যে প্রস্তাব দিয়েছিলাম, সেটি প্রত্যাশা অনুযায়ী বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাওয়ায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।’

ডেইলি-বাংলাদেশ//জেডআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!