জবিতে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামছুল আরেফিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন অনিকের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে সদস্য সচিব শামছুল আরেফিন ও তার অনুসারীরা ধাওয়া খেয়ে ক্যাম্পাস ছেড়ে পালিয়েছেন বলে দাবি নাহিয়ান বিন হক অনিকের।
বোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের ভিক্টোরিয়া পার্কের গেটসংলগ্ন এলাকায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
জানা যায়, ভিক্টোরিয়া পার্কের গেটের পাশে একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় নাহিয়ান বিন অনিক গ্রুপের উপর শামছুল আরেফিনের অনুসারীরা রড নিয়ে হামলা চালান। পরে আত্মরক্ষার্থে তারা পাল্টা ধাওয়া দিলে শামছুল আরেফিনসহ তার অনুসারীরা ক্যাম্পাসের দিকে চলে যান।
সংঘর্ষের পেছনে সম্প্রতি সদস্য সচিব শামছুল আরেফিনের আয়োজিত একটি পাঠচক্রকে ঘিরে বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ রফিক ভবনে ‘শিক্ষা ভাবনা, ওরিয়েন্টালিজম এবং চিন্তার মৌলিকত্ব’ শীর্ষক পাঠচক্র আয়োজন করেন শামছুল আরেফিন। এ আয়োজন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাহিয়ান বিন হক অনিক একটি সমালোচনামূলক পোস্ট দেন। পরে পোস্টটি মুছে ফেলা হয়। ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে।
নাহিয়ান বিন হক অনিক বলেন, আমাদের উপর ভেক্টরিয়া পার্কে তারা হামলা করে। এরপর রড নিয়ে তাদেরকেও আত্মরক্ষার্থে আমরাও ধাওয়া দেই। ধাওয়া খেয়ে ক্যাম্পাস থেকে সদস্য সচিব সামছুল আরেফিনসহ তার কর্মীরা পালিয়ে যায়। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তারা কোনো ধরনের সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিয়ে সেখানে অবস্থান করছিলেন না। ভিক্টোরিয়া পার্কের গেটসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় তাদের ওপর হামলা করা হয়।
নাহিয়ান আরও বলেন, ওরা রড নিয়ে আমাদের উপর হামলা করছে এবং আমাদের একুশতম আবর্তনের একজনের হাত ভাঙছে। আহত ওই শিক্ষার্থী অর্থনীতি বিভাগের বলে দাবি করেন তিনি।
নাহিয়ানের অভিযোগ, সংঘর্ষের আগে ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হলেও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। হামলাকারীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী নন, এমন ব্যক্তিরাও ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতিকেও দায়ী করেন নাহিয়ান। তার ভাষ্য, আগেই হুমকির বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। এরপরও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে সংঘর্ষের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামছুল আরেফিনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল কেটে দেন। ফলে এ ঘটনায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
জবি প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম আজম বলেন, নাহিয়ান বিন হক অনিক এসে অভিযোগ দিয়ে গেছেন। আমরা সবকিছু পর্যবেক্ষণে রাখছি। কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
.png)