নোবিপ্রবিতে চালু হচ্ছে ল্যাবরেটরি স্কুল, ইন্টার্নশিপে ভাতার উদ্যোগ
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) নিজস্ব ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। একই সঙ্গে ইন্টার্নশিপ করা শিক্ষার্থীদের জন্য আগামী অর্থবছর থেকে ভাতা দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিভাগের আয়োজনে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) সেমিনার কক্ষে বিদ্যালয় ইন্টার্নশিপ বিষয়ক মতবিনিময় সভা ও শিক্ষা উপকরণ প্রদর্শনীতে এসব কথা জানানো হয়।
.png)
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে অর্জিত তাত্ত্বিক জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগের সুযোগ পায়। এর মাধ্যমে নেতৃত্বের গুণাবলিসহ পেশাগত দক্ষতা বিকশিত হয়।
তিনি জানান, শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা বর্তমানে সাতটি বিদ্যালয়ে ইন্টার্নশিপ করছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের জন্য বাইরে যেতে হবে না।
উপাচার্য বলেন, ‘আমরা একটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পর্যায়ে আছি। আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে সেই স্কুল হয়তো দৃশ্যমান হবে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনায় প্রতিষ্ঠানটিকে একটি মডেল স্কুল-কলেজ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
ইন্টার্নশিপে আর্থিক সহায়তার বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে শিক্ষার্থীদের নিজেদের অর্থায়নে ইন্টার্নশিপ করতে হয়। এতে অনেক শিক্ষার্থী অর্থসংকটের কারণে নিয়মিত ইন্টার্নশিপে অংশ নিতে পারে না। ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আগামী অর্থবছর থেকে ফোর্থ ইয়ার, ফাইনাল ইয়ার ও মাস্টার্স পর্যায়ের ইন্টার্নশিপ করা শিক্ষার্থীদের জন্য বাজেট বরাদ্দের সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও শিক্ষা বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন বলেন, ইন্টার্নশিপে ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন। আগামী বছর থেকে ইন্টার্নশিপের জন্য ছোট বা বড় পরিসরে অনারিয়াম দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। এ বিষয়ে ইউজিসিও উদ্যোগ নিতে পারে বলে জানান তিনি।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও নোয়াখালীর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল কাশেম।
শিক্ষা বিভাগের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মো. ওয়ালিউর রহমান আকন্দের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন মো. শাহরিয়ার শফিক। এতে শিক্ষা বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। পরে শিক্ষার্থীদের তৈরি বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ প্রদর্শন করা হয়।