চাকসুর উদ্যোগে চবিতে 'নির্যাতনের দাগ' গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) তৎকালীন ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণামূলক গ্রন্থ 'নির্যাতনের দাগ'-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকসু প্রাঙ্গণে চাকসুর উদ্যোগে এ অনুষ্ঠান হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি, জিএস সাঈদ বিন হাবিব, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মোনায়েম শরীফ, যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক ইসহাক ভুঁইয়া, সহ দপ্তর সম্পাদক জান্নাতুন নুসরাত আদন এবং সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক হারেস মাতব্বর।
অনুষ্ঠানে ইব্রাহিম হোসেন রনি নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, ছাত্রলীগের শাসনামলে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাঁকে শনাক্ত করা হয়। এরপর তিনি নিয়মিত ক্লাসে যেতে পারেননি এবং মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়েন। শেষ দিনে ফরম পূরণের সুযোগ পেয়ে তিনি পরীক্ষা দেন এবং ৩.২৫ সিজিপিএ অর্জন করেন। তিনি বলেন, ক্লাসে উপস্থিত থাকতে পারলে ফল আরও ভালো হতো। তিনি আরও বলেন, অনেক নির্যাতিত শিক্ষার্থী নতুন করে হয়রানির আশঙ্কায় গ্রন্থের জন্য লিখতে সাহস পাননি। বর্তমান ক্যাম্পাসে ফ্যাসিবাদ ছাড়া সব মতের কথা বলার সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন কোনো ফ্যাসিবাদ গড়ে উঠলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে। তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্যাম্পাসের শহীদ তরুয়া ও ফরহাদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন।
জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, ২০১৪ সালের আগেই ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে পাঁচজনকে হত্যা করেছে এবং পরবর্তী সময়ে হল দখল, নিয়োগ বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে ক্যাম্পাসে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তিনি দাবি করেন, ছাত্রশিবির, ছাত্রদলসহ অন্যান্য সংগঠনের কর্মীরা নিজেদের বিভাগের করিডোরেও যেতে পারতেন না। তিনি আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের কড়া সমালোচনা করে সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ বিলুপ্তির আহ্বান জানান।
যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভূঁইঞা বলেন, ‘এই বইয়ের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের চিত্র উঠে এসেছে। তখনকার ক্যাম্পাসের বিভিন্ন লোমহর্ষক ঘটনা এতে স্থান পেয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নির্মম নির্যাতন এবং তাদের ত্রাসের রাজত্বের কাহিনি এই বইয়ে উঠে এসেছে।’
সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং ‘নির্যাতনের দাগ’ বইয়ের সম্পাদক হারেস মাতাব্বর বলেন, ‘এই বইয়ে ১৮ জনের নির্যাতনের বর্ণনা উঠে এসেছে। এই বইয়ের মাধ্যমে আমরা চাই, যেন ক্যাম্পাসে আর ফ্যাসিবাদ ফিরে না আসে এবং কোনো শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার না হয়। বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তারা যেন সুষ্ঠু বিচার পান। আমরা একটি সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ও স্বাভাবিক পরিবেশের ক্যাম্পাস চাই।’