ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজধানী ]

সবজি বিক্রেতা থেকে ১৫০ সদস্যের অজ্ঞান পার্টির মূলহোতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫:৪২, ৩০ জানুয়ারি ২০২৩
সবজি বিক্রেতা থেকে ১৫০ সদস্যের অজ্ঞান পার্টির মূলহোতা
সংগৃহীত ছবি

ছিলেন সবজি বিক্রেতা। ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ফেরি করে বিক্রি করতেন তরকারি। পরে মিজান জড়িয়ে পড়েন অজ্ঞান পার্টি চক্রের সঙ্গে। এরপর নিজেই গড়ে তোলেন দেড়শ’ জনের সংঘবদ্ধ একটি চক্র। যার মূলহোতা হিসেবে রাজধানীতে বিভিন্ন সময়ে মানুষকে বোকা বানিয়ে হাতিয়ে নিতেন সর্বস্ব।

সোমবার রাজধানীর শনির আখড়া থেকে এই অজ্ঞান পার্টির মূলহোতা মিজানসহ ৫ জনকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের লালবাগ বিভাগ। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ বলেন, চক্রটি কমপক্ষে ২০ বছর ধরে মানুষকে সর্বশান্ত করে আসছে চক্রটি। নানা সময়ে কমপক্ষে ৭০০টি ঘটনা ঘটিয়েছে তারা। 

তিনি বলেন, অজ্ঞান পার্টির হোতা মিজান এক সময় ছিলেন সবজি বিক্রেতা। এরপর কাজ করতেন মোজার দোকানে। পরে জড়িয়ে পড়েন অজ্ঞান পার্টির সাথে। 

Advertisement

সম্প্রতি মিজানসহ ঐ চক্রের পাঁচ সদস্যকে হাতেনাতে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবদের মিজান জানিয়েছেন কীভাবে মানুষকে অজ্ঞান করা হয়, এরপর তাদের সর্বস্ব লুটে নেয়া হয়।

মিজান বলেন, দুই থেকে তিন রকমের বিভিন্ন কেমিকেলের সঙ্গে মেশানো হয় বহুল পরিচিত আয়ুর্বেদিক ওষুধ চ্যবন প্রাশ। যা দেখতে অনেকটা হালুয়ার মতো। এই বিশেষ হালুয়া খেলে নেশার ঘোরে দিগবিদ্বিক শুন্য হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে মানুষ। এই বড়ি খাইয়েই মানুষের সর্বস্ব হাতিয়ে নেয়া হতো। 

মূলত যৌনশক্তি বৃদ্ধি ও পেটের সমস্যার উপশমের কথা বলে বিভিন্ন জায়গায় এই বিশেষ হালুয়া বিক্রি করে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা। এরপর টার্গেট করা ব্যক্তির আশপাশে অবস্থান নেয় তাদের অন্য সদস্যরা। বড়ি সেবনের পর অজ্ঞান হয়ে পড়লে লুটে নেয় সব কিছু।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান হারুন বলেন, কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলে অজ্ঞান পার্টির খপ্পর থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব। পথে ঘাটে কারও কথায় প্রলুব্ধ হয়ে কিছু না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই কর্মকর্তা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!