ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজধানী ]

ফেরিওয়ালার ছেলে আরাভ যেভাবে বিত্ত-বৈভবে অপরাধ জগতে হলেন ‘কিং’ 

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯:৩৪, ১৯ মার্চ ২০২৩
ফেরিওয়ালার ছেলে আরাভ যেভাবে বিত্ত-বৈভবে অপরাধ জগতে হলেন ‘কিং’ 
আরাভ খান- ছবি: সংগৃহীত

দুবাইয়ের আলোচিত সোনা ব্যবসায়ী ও পুলিশ খুনের মামলার আসামি আরাভ খান সম্পর্কে একের পর এক বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।  ছোটবেলা থেকেই আরাভের ফিল্মে কাজ করার ছিল ইচ্ছা। একটা সময় এফডিসিতে যাওয়া-আসাও শুরু করেন। 

আর তখনই সেলিব্রেটিদের সঙ্গে গড়ে উঠে সখ্যতা। এই পথ ধরেই ধীরে ধীরে অপরাধ জগতে প্রবেশ করেন আরাভ। ফেরিওয়ালার ছেলে হয়েও ধীরে ধীরে বিত্ত-বৈভবের সঙ্গে অপরাধ জগতে হয়ে উঠলেন ‘কিং’। অপরাধের মাধ্যমে গড়লেন হাজার হাজার কোটি টাকা।

আর পূর্বের যোগাযোগ ও নগদ টাকার জোরে নায়ক-নায়িকাদের সহজেই কাছে পান আরাভ খান। যেটির প্রমাণ পাওয়া গেছে, তার সোনার দোকানের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে। 

Advertisement

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভাব-অনটনের সংসার ছিল আরাভ খান ওরফে রবিউল ইসলামের। ফেরিওয়ালা বাবার সামান্য উপার্জনের টাকা দিয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া তার জন্য সহজ ছিল না। এজন্য বাগেরহাটের চিতলমারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে (এসএম মডেল স্কুল) পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে পাড়ি জমান ঢাকায়। 

এরপরই যাতায়াত শুরু করেন এফডিসিতে। নানা কৌশলে মডেলিংয়ের জগতে প্রবেশ করেন। উঠতি বয়সি অনেক নারী মডেলের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের টার্গেট করে ঐ মডেলদের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকেন। এভাবে প্রভাবশালী অনেক ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। 

একপর্যায়ে মডেলিং থেকে হাঁটতে শুরু করেন অপরাধজগতে। জড়িয়ে পড়েন খুনসহ নানা অপরাধে। এতে তার সঙ্গী ছিল দেশের আরো কয়েক বিতর্কিত মডেল ও কথিত প্রযোজক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও চিতলমারীর স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে এসব তথ্য। 

আরাভের উত্থান নিয়ে বেশ কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে, আরাভের স্কুলে পড়া অবস্থাতেই ইচ্ছা ছিল ফিল্মে কাজ করার। এরপর পালিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। দীর্ঘ সময় এফডিসির আশপাশে ঘোরাফেরা করেন। এর মধ্যে হোটেল বয় হিসেবে কাজ করেন। জড়িয়ে পড়েন ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে। পরবর্তীকালে ফিল্ম পরিচালক হিসাবে নাম ও নম্বর দিয়ে কিছু কার্ড ছাপান। সেগুলো হাতিরঝিলসহ আশপাশের এলাকায় বিতরণ করেন। দৈনিক ৩০০-৪০০ কার্ড বিতরণ করলে ১০-১৫ জন তাতে সাড়া দিতেন। তারা মডেলিং করার আশায় আরাভের দেওয়া স্থানে চলে যেতেন। 

এমন অনেকের কাছ থেকে আরাভ টাকা-পয়সাও নিয়েছেন। পরে তিনি কিছু শর্ট ফিল্ম করেছিলেন। এগুলো করতে গিয়ে অনেক মেয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তাদের দিয়ে গুলশান-বনানীকেন্দ্রিক বড় চক্র গড়ে তোলেন। বদলে যেতে থাকে তার চলাফেরা ও চালচলন। শূন্য হাতে ঢাকায় আসা যুবক হয়ে ওঠেন প্রভাবশালী। এরপর তার বিরুদ্ধে অনেকের থেকে অন্যায়ভাবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আসতে থাকে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বুধবার দুবাইয়ে ‘আরাভ জুয়েলার্স’ উদ্বোধনে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের মতো তারকার নাম আসায় চাপা পড়ে যায় আরো অনেকের কার্যক্রম। যারা আরাভের আমন্ত্রণে সেখানে গিয়েছেন। এমন অন্তত সাতজনের নাম রয়েছে ডিবির হাতে। যাদের কয়েকজন কেবল আরাভের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন এমন নয়, বরং দেশে তার উত্থান ও অপকর্মের সহযোগী। তাদের মধ্যে এরই মধ্যে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার কথিত এক প্রযোজক এবং তার স্ত্রীও রয়েছেন। তার স্ত্রী ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেছেন বলেও জানিয়েছে ডিবির একটি সূত্র। 

আর ঐ প্রযোজক আরাভের ‘গুরু’ হিসেবে পরিচিত। এ চক্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ রয়েছে ঢাকা মহানগর ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতার আরেক বিতর্কিত নারী মডেলের। যিনি এখন জামিনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, পরিদর্শক হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত ৮নং আসামি রবিউল ইসলাম ওরফে আরাভ। ২০১৮ সালের ৭ জুলাই রাজধানীর বনানীর একটি ফ্ল্যাটে খুন হন পুলিশ পরিদর্শক মামুন। এই হত্যাকাণ্ডের পর রবিউল ভারতে পালিয়ে যান। ২০২০ সালে রবিউল ভারতের পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন। তার ভারতীয় পাসপোর্ট নং ইউ ৪৯৮৫৩৮৯। ঐ বছরের ২৮ জুলাই কলকাতা থেকে ইস্যু করা পাসপোর্টে রবিউলের নাম আরাভ খান হিসাবে উল্লেখ করা হয়। রবিউল তার নামে একজনকে আত্মসমর্পণ করার জন্য ভাড়া করেছিলেন। ভাড়া করা ঐ ব্যক্তি আত্মসমর্পণের পর ৯ মাস কারাগারে ছিলেন। এই মামলায় ২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল ডিবি পুলিশ রবিউলসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিয়েছে। আরাভ এখন দুবাইয়ে আছেন। সেখানে গড়েছেন হাজার কোটি টাকার সম্পদ।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!