উন্নয়ন যোগাযোগ ও সৃজনশীল কনটেন্টের স্বীকৃতিতে বিসিপিএসের ‘ডেভকম অ্যাওয়ার্ড’
উন্নয়ন খাতের উদ্যোগ, মানুষের জীবন বদলে দেওয়া গল্প ও মাঠপর্যায়ের কাজ নিয়ে তৈরি কনটেন্টের জন্য জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ কমিউনিকেশনস প্রফেশনালস সোসাইটি (বিসিপিএস)। এ উদ্যোগের সম্ভাব্য নাম ‘ডেভকম অ্যাওয়ার্ড’।
এনজিও, আন্তর্জাতিক এনজিও, উন্নয়ন সহযোগী ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে তৈরি এসব কনটেন্টকে মূলধারায় তুলে আনা এবং সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ ও সৃজনশীল পেশাজীবীদের স্বীকৃতি দেওয়াই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
.png)
এ বিষয়ে আজ চ্যানেল আইয়ের সম্মেলন কক্ষে একটি পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান হারুন অর রশীদ এবং আইস্ক্রিনের প্রধান মাহবুব রহিম উদয় উপস্থিত ছিলেন। বিসিপিএসের একটি প্রতিনিধিদল সভায় অংশ নেয়।
সভায় যোগাযোগ, গণমাধ্যম ও সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়। মানসম্মত যোগাযোগ কনটেন্ট তৈরিতে যৌথ উদ্যোগ এবং পেশাজীবীদের নিজেদের কাজ ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরার সুযোগ তৈরির বিষয়ও আলোচনায় আসে।
বিসিপিএসের চেয়ারপারসন টনি মাইকেল গোমেজ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। সংগঠনের নির্বাহী কমিটির সদস্য সাহস মোস্তাফিজ, আসাদ রাসেল, নুসরাত আক্তার ও মালিহা তাবাসসুম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, “চ্যানেল আই উন্নয়নমূলক অনেক উদ্যোগের পথিকৃৎ, যা দেশের উন্নয়ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। ডেভকম বা উন্নয়ন যোগাযোগ আমাদের মূল মূল্যবোধের একটি অংশ। আমরা দেশের ভালো কাজগুলোকে স্বীকৃতি দিতে চাই এবং পরবর্তী প্রজন্মকে এই ধারাবাহিকতা এগিয়ে নিতে উৎসাহিত করতে চাই।”
প্রস্তাবিত পুরস্কারে যোগাযোগ ও সৃজনশীল কাজের বিভিন্ন ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে পুরস্কারের নাম, বিভাগ ও আয়োজনের সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
বিসিপিএসের চেয়ারপারসন টনি মাইকেল গোমেজ বলেন, “বাংলাদেশে উন্নয়ন খাতের কনটেন্ট কখনো যথাযথভাবে স্বীকৃতি পায়নি। ফলে এই খাতে কাজ করা সৃজনশীল পেশাজীবীদের জাতীয় পর্যায়ে মানুষের গল্প তুলে ধরতে এবং প্রচলিত সীমার বাইরে গিয়ে কাজ করতে উৎসাহ দেওয়ার সুযোগও তৈরি হয়নি।”
তিনি বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে যোগাযোগের কাজ গত কয়েক বছরে অনেক বদলে গেছে। ডিজিটাল মাধ্যমের বিস্তার এবং নতুন ধরনের কনটেন্ট তৈরির সুযোগ যোগাযোগের ধরনেও পরিবর্তন এনেছে। বিসিপিএস যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়ন এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।”
২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিসিপিএস উন্নয়ন যোগাযোগ, গণমাধ্যম, অ্যাডভোকেসি, প্রচারাভিযান, জনসংযোগ ও জ্ঞান ব্যবস্থাপনায় কাজ করা পেশাজীবীদের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি বিভিন্ন পেশাগত প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম আয়োজন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে উন্নয়ন যোগাযোগ সম্মেলন, নেতৃত্ব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, দৃশ্যভিত্তিক গল্প বলার কর্মশালা এবং জীবনবৃত্তান্ত লেখার সেশন।
প্রস্তাবিত পুরস্কারটি যোগাযোগ ও গণমাধ্যম ক্ষেত্রে পেশাজীবীদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরিতে বিসিপিএসের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ।