ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ করোনাভাইরাস ]

মৃত্যুর আগে পরিবারকে উবার চালকের শেষ হৃদয়বিদারক বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
প্রকাশিত: ২১:০৫, ১১ এপ্রিল ২০২০
মৃত্যুর আগে পরিবারকে উবার চালকের শেষ হৃদয়বিদারক বার্তা
মৃত আইযুব আখতার (বামে), পরিবারের সঙ্গে আইযুব (ডানে)

ট্যাক্সিতে উঠা এক নারী যাত্রীর অনবরত কাশির এক সপ্তাহ পর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ লন্ডনের এক উবার চালকের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর আগে ওই চালক পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। তাই মুঠোফোনে শেষ হৃদয়বিদারক বার্তা পাঠান তিনি।-খবর ডেইলি মেইলের।

সংবাদমাধ্যমটি জানায়, শুক্রবার সেন্ট জর্জ'স হাসপাতালে আইয়ুব আখতার নামের ওই শক্তিশালী উবার চালক মারা যান। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৩৩ বছর। মৃত্যুর আগে আইসিইউ থেকে পরিবারকে একটি শেষ বার্তা পাঠান। ওই বার্তায় আইযুব লিখেন, ‘আমি সত্যিই আতঙ্কিত…. আমার জন্য দোয়া কর’। 

আইয়ুবের ভাই ইয়াসিন বলেন, ভাইয়ের চালানো ট্যাক্সিতে এক নারী যাত্রী উঠেছিলেন। তিনি একনাগাড়ে কাশি দিচ্ছিলেন। সেই থেকে ভাই আতঙ্কে ছিলেন। কয়েকদিন পর তারও কাশি শুরু হয়। এক রাতে ভাইয়ের হৃদয়বিদারক কাশির শব্দ শুনতে পেয়েছিলাম। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট পাচ্ছিলেন তিনি।

Advertisement

তিনি আরো বলেন, পরিস্থিতি খারাপের এক পর্যায়ে আমরা অ্যাম্বুলেন্স ডাকি। প্রথমে ক্রাইডনের মেডে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কোভিড-১৯ শনাক্ত হলে ভাইকে সেন্ট জর্জ'স হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। 

আমরা ভাইকে দেখতে পারিনি। তার অবস্থা খারাপ ছিল। তাকে কোনো বার্তা পাঠালে পরের দিন উত্তর দিতেন। সর্বশেষ তিনি আতঙ্কিত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তার জন্য দোয়া করতেও শেষ বার্তা পাঠান। এরপর  মৃত্যুবরণ করেন তিন। আমরা তাকে ভালোবাসি। তিনি আমাদের পরিবারকেও অনেক ভালোবাসতেন।

ইয়াসিন আরো বলেন, মৃত্যুর আগে ফুসফুস দিয়ে শ্বাস নিতে না পারায় ভয় পান। কারণ চিকিৎসকরা শ্বাস নিতে বারবার অনুরোধ করছিলেন। ভাইয়ের মৃত্যুর পর তাকে দেখার অনুমতি পাইনি। তার দাফন সম্পর্কে জানি না। তবে মৃত্যুর দুই এক দিনের মধ্যে আমাদের ধর্মে মরদেহ দাফনের রীতি রয়েছে।

আইযুবের ভাই ইসাসিন আসলেম ইউনাইটেড প্রাইভেট হায়ার ড্রাইভারস অ্যাসোসিশনের প্রধান। তিনি বলেন, চালকদের জন্য দুই মিটার সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকা অসম্ভব। তবে লোকদের বহন করার বিরুদ্ধে আমরা কথা বলছি না। আমাদের একটি সঠিক গাইডলাইন প্রয়োজন।

ভাইকে কঠিন পরিশ্রমী উল্লেখ করে ইয়াসিন বলেন, বাড়ির ভবন বাড়াতে ভাই কঠিন পরিশ্রম করছিলেন। বাড়ির নির্মাণ শেষে বিয়ে করার পরিকল্পনা ছিল তার।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!