ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ করোনাভাইরাস ]

ওয়ারী লকডাউন: দৃষ্টি কেড়েছে স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিকতা

সালাহ উদ্দিন চৌধুরী
প্রকাশিত: ১৫:৩৭, ১৮ জুলাই ২০২০
ওয়ারী লকডাউন: দৃষ্টি কেড়েছে স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিকতা
ফাইল ফটো

লকডাউনের ১৫তম দিন অতিবাহিত করছে রাজধানীর ওয়ারীর একাংশের বাসিন্দারা। দুই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক আর প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের অক্লান্ত পরিশ্রম দৃষ্টি কেড়েছে সবার। যদিও লকডাউনের মধ্যেও এখানকার বাসিন্দাদের করোনা পরীক্ষা করার বিষয়ে অনাগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

তবে পরীক্ষার পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য নানাভাবে এলাকাবাসীদের অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবকরা। এজন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আইইডিসিআর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি  কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ১০০ জন স্বাস্থ্য কর্মীর ২৮টি টিম কাজ করে যাচ্ছে। বিনামূল্যে করোনা টেষ্ট করানোর জন্য এলাকায় চলছে মাইকিং। নমুনা সংগ্রহের জন্য বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন কর্মীরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে রোববার থেকে মেয়রের পক্ষ থেকে করোনা আক্রান্তদের বাসায় ফলের ঝুড়ি নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কিন্তু কিছুতেই এলাকাবাসীকে নমুনা দিতে আগ্রহী করা যাচ্ছে না।

জানা যায়, ওয়ারীতে গত ৪ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত নমুনা দেন ১২০ জন। এরমধ্যে কোভিড-১৯ পজেটিভ হয় ৫১ জনের। এরপর শেষ ৬ দিনে আরো ৮৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৯ জনের করোনা পজেটিভ আসে। অর্থাৎ গত ৪ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয় ২০৪ জনের। যার মধ্যে ৮০ জনের করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে।

Advertisement

এ বিষয়ে ওই এলাকার কাউন্সিলর সারোয়ার হাসান আলো বলেন, লকডাউনে করোনা সংক্রমণের হার হ্রাস-বৃদ্ধির পরিমাণ জানতে পরীক্ষার বিকল্প নেই। তাই আমরা এলাকবাসীকে উৎসাহিত করছি করোনা টেষ্ট করতে। এজন্য সরকার নির্ধারিত যে ২শ’ টাকা ফি আছে আমরা তাও নিচ্ছি না। করোনা টেষ্টের জন্য করা হয়েছে বুথ।

তিনি বলেন, এছাড়া আমাদের স্বাস্থ্য কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়েও নমুনা সংগ্রহের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু কেন যেন মানুষ টেস্ট করাতে আগ্রহী হচ্ছে না। তবে আমরা চেষ্টা অব্যহত রেখেছি। সরকার জেনে বুঝেই লকডাউন দিয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত সঠিক। 

তিনি আরো বলেন, লকডাউনের শুরু থেকেই ওয়ারী এলাকায় ২০০ জন স্বেচ্ছাসেবক তিন শিফটে ভাগ হয়ে কাজ করছেন। চেষ্টা করে যাচ্ছেন এলাকাবাসীকে সহযোগিতা করতে। এলাকাবাসী যখন যেভাবে চাচ্ছে সেভাবেই সাড়া দিচ্ছেন তারা। তাদের কাজে এলাকাবাসী সন্তুষ্ট। এছাড়া বেশ কিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানও নিয়োজিত আছে পণ্য সরবরাহের কাজে।

স্বেচ্ছাসেবকরা বলছেন, আমরা এলাকাবাসীকে সহযোগিতা করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তারা যখন যা এনে দিতে বলছে, হাসিমুখে তাই এনে দিচ্ছি।

এদিকে এখনো এলাকার কিছু মানুষ স্বেচ্ছাসেবকদের চোখ ফাঁকি দিয়ে এলাকার বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানা যায়। তবে এ সংখ্যা আগের তুলনায় এখন অনেকটা কম।

ওয়ারী থানার এসআই রুবেল মল্লিক জানান, আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। আগের চেয়ে মানুষ কম বাইরে বের হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী আমরা শুধু ডাক্তার, নার্স ও রোগীদের বের হতে দিচ্ছি।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ওয়ারীর একাংশকে রেড জোন ঘোষণা করে গত ৪ জুলাই থেকে সেখানে লকডাউন বাস্তবায়ন করে সরকার।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!