ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

‘প্রথমে জাপটে ধরে খুনি রিফাতের ভাই রিশান ফরাজী’

রিফাতের স্ত্রীর রোমহর্ষক বর্ণনা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪:৪৯, ২৭ জুন ২০১৯
‘প্রথমে জাপটে ধরে খুনি রিফাতের ভাই রিশান ফরাজী’
ফাইল ছবি

এক ভিডিওতেই নড়েচড়ে বসেছে পুরো দেশ। দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে যুবককে কুপিয়ে হত্যা! এরচেয়ে রোমহর্ষক আর কী হতে পারে! ভিডিওটি অনেকে দেখতে গিয়েও দেখতে পারছেন না—কী বীভৎস দৃশ্য। অথচ স্বামী রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করার দৃশ্য নিজ চোখে দেখলেন  স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। এ সময় বারবার সন্ত্রাসীদের হাত থেকে স্বামীকে বাঁচাতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি।

চোখের সামনে স্বামীকে হত্যার বর্ণনা দিতে গিয়ে বারবার কেঁদে উঠেন মিন্নি। চোখ থেকে পানি ঝরছিলো ঝর ঝর করে। এমন দৃশ্য দেখলে যে কারো বুকে হাহাকার লেগে থাকার কথা। মিন্নি বলেন, নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী চাপাতি নিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রিফাত শরীফকে জাপটে ধরে রিফাত ফরাজীর ছোট ভাই রিশান ফরাজী। এরপরই রিফাত শরীফকে নির্মমভাবে চাপাতি দিয়ে কোপাতে থাকে নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী। আমি তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কিছুতেই তাদের থামাতে পারিনি। রিফাতকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে চলে যায় তারা।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে বরগুনা পুলিশ লাইনের কাছে বাবার বাড়িতে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন। আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি বলেন, সকাল ৯টার দিকে স্বামী রিফাত শরীফের সঙ্গে বরগুনা কলেজে আসি আমি। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলেজ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য রওনা দেই আমরা। বরগুনার কলেজ সড়কের ক্যালিক্স কিন্ডার গার্টেনের সামনে পৌঁছালে বেশ কয়েকজন যুবক আমাদের গতিরোধ করে। সেই সঙ্গে রিফাত শরীফকে মারধর শুরু করে তারা। এর মধ্যেই চাপাতি নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয় নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী।

Advertisement

মিন্নির কথায়, পরে স্থানীয় লোকজন রিফাত শরীফকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে রিফাত শরীফের মৃত্যু হয়।

এদিকে, রিফাত শরীফ হত্যার ঘটনায় ১২ জনকে অভিযুক্ত করে বুধবার রাতে একটি হত্যা মামলা করেছেন নিহতের বাবা দুলাল শরীফ। এ মামলার ৪ নম্বর আসামি চন্দনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বরগুনার এসপি মো. মারুফ হোসেন বলেন, রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় চন্দন নামের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!