ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ইউএনও ওয়াহিদার ওপর হামলার ঘটনায় মামলা

দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০২:২০, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
ইউএনও ওয়াহিদার ওপর হামলার ঘটনায় মামলা
ইউএনও ওয়াহিদা খানম

ইউএনও ওয়াহিদা খানমের সরকারি বাসভবনে ঢুকে তাকে হাতুড়ি দিয়ে মুখমণ্ডল ও মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পিটিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘোড়াঘাট থানায় এ সংক্রান্ত এজাহার দায়ের করেন ইউএনও’র ভাই মো. শেখ ফরিদ উদ্দিন। এজাহারে অজ্ঞাত ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করেছেন তিনি। ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ এজাহারটি আমলে নিয়ে মামলা হিসেবে লিপিবদ্ধ করেছে। 

ঘোড়াঘাট থানার ওসি আমিরুল ইসলাম জানান, ইউএনওর ভাই মো. শেখ ফরিদ উদ্দিন বাদী হয়ে এই এজাহার দায়ের করেছেন।

Advertisement

আরো পড়ুন: ‘মা তোমার কিছু হয়ে গেলে আমাকে দেখবে কে?’

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, রাত ১টা ৫ মিনিট থেকে ৪টা ২৫ মিনিটের মধ্যে দুষ্কৃতকারীরা সরকারি বাসভবনের ভেন্টিলেটর দিয়ে মইয়ের মাধ্যমে প্রবেশ করে। এ সময় ইউএনও জেগে গেলে তার কাছে আলমারির চাবি এবং কোথায় কী আছে জানতে চায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় ইউএনও অস্বীকৃতি জানালে দুষ্কৃতকারীদের হাতে থাকা লোহার হাতুড়ি দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। তাদের হাত থেকে রেহাই পেতে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি চিৎকার করেন। এ সময় পাশের ঘর থেকে ইউএনও’র বাবা আসলে তাকেও আঘাত করে দুষ্কৃতকারীরা। এতে দুজনেই অজ্ঞান হয়ে গেলে তাদেরকে মৃত ভেবে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

পরে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তার বাবা জ্ঞান ফিরে পেয়ে ভেতর থেকে ডাকাডাকি করলে নৈশ প্রহরী নাজিম হোসেন পলাশ এগিয়ে যায়। কিন্তু বাড়ির সিঁড়ির ঘরের দরজা ভেতর থেকে তালাবদ্ধ থাকায় পলাশ মই দিয়ে বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে ভেতরের শয়নকক্ষে প্রবেশ করে। সেখানে ইউএনওকে মৃতপ্রায় অবস্থায় দেখে চিৎকার চেঁচামেচি করলে কোয়ার্টারের আশেপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে এবং দ্রুত রংপুরে পাঠায়।

আরো পড়ুন: স্বজনদের কান্নার আহাজারি হয়ে বাড়িতে ফিরল রাশেদ

উল্লেখ্য, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট ইউএনও ওয়াহিদা খানমের সরকারি বাসভবনে ভেন্টিলেটর ভেঙে প্রবেশ করে তার ও তার বাবার ওপর হামলা করে দুর্বৃত্তরা। এর আগে গেটে দারোয়ানকে বেঁধে ফেলে তারা। গুরুতর আহত ইউএনও ও তার বাবাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখান থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ইউএনও ওয়াহিদাকে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিদেশে নেয়ার চেষ্টা চললেও তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয় বলে তা সম্ভব হচ্ছে না। তবে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে বৃহস্পতিবার রাতে তার প্রথম অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। তার অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!