বুধবার বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আসাদুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করা হয়। রায় শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন মিন্নি। সন্তোষ প্রকাশ করেন রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ।
এদিকে, রায় দেয়ার পর মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, আমরা আদালতে সঠিক রায় পাইনি। এ নিয়ে উচ্চ আদালতে যাবো।
.png)
আরো পড়ুন: মৃত্যুর আগে মাটিতে লিখে গেলেন হত্যাকারীদের নাম
রায়ের পর আদালত প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, রিফাত হত্যাকাণ্ড শুধু বরগুনা নয়, সারা দেশেই আলোচিত। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। গত বছরের ২৬ জুন রিফাত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আর শুরু থেকেই আমরা বলেছি এ হত্যাকাণ্ডের মাস্টার মাইন্ড ছিল রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিক মিন্নি। এ ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল ছয়জন। সেই ছয়জনকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। চারজনকে যে খালাস দিয়েছে এ নিয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। এ মামলার ৭৬ সাক্ষীর সবাই মিন্নিকে দোষী করেছে। তারা বলেছে মিন্নির ষড়যন্ত্রের কারণেই এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে। নয়নের সঙ্গে বিয়ে গোপন করে রিফাতকে বিয়ে করেছিল মিন্নি।
আদালতে মিন্নির দোষ প্রমাণিত হওয়ার বিষয়ে তিনি আরো বলেন, আদালতই পর্যবেক্ষণ দিয়েছে, এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিল মিন্নি। মিন্নি না থাকলে এ হত্যাকাণ্ড হতো না। আদালতের পর্যবেক্ষণই এটা ছিল যে মিন্নির কারণেই এ হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে।
এছাড়া রায় দেয়ার পরপরই আদালত মিন্নিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী।
আরো পড়ুন: সড়কে যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন গলা কাটা যুবক, অতঃপর...
এর আগে, সকাল ৯টায় বাবা মোজাম্মেল হক কিশোরের সঙ্গে মিন্নি আদালত প্রাঙ্গণে আসেন। এরপর কারাগার থেকে ৮ আসামিকে নেয়া হয় আদালতে। দুপুর ১টা ২০ মিনিটে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ রায় ঘোষণা শুরু করেন।
১৬ সেপ্টেম্বর এ মামলার দুই পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আসাদুজ্জামান রায়ের জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন।
২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে নয়ন বন্ড ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে গুরুতর আহত করে। এরপর বীরদর্পে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ছাড়েন তারা। গুরুতর আহত রিফাত বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওইদিনই মারা যান।
আরো পড়ুন: একে একে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে আট ধর্ষক
ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। একইসঙ্গে রিফাত হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত। ৮ জানুয়ারি একই মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বরগুনার শিশু আদালত।