রিফাত শরীফের হত্যাকাণ্ডের পর থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অন্য আসামিদের ছবি খুব একটা না দেখা গেলেও টিকটক হৃদয়ের বিভিন্ন স্টাইলের ছবি ঠিকই প্রকাশ করা হয়েছে।
বুধবার বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। এতে রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি ও টিকটক হৃদয়সহ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।
.png)
দণ্ডপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন, রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি, আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত ও মো. হাসান।
রায়ে খালাস পেয়েছেন রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মো. সাগর, কামরুল ইসলাম সায়মুন ও মো. মুসা।
রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্তদের বিভিন্ন তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভেসে বেড়াতে শুরু করে। এরমধ্যে অন্যতম হলেন টিকটক হৃদয়। তাকে নিয়ে বের হয় নানা রোমাঞ্চকর কাহিনি।
২০১৯ সালের ২৬ জুন প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রিফাত শরীফকে। এরপর ৩০ জুন বরগুনার এসপি মারুফ হোসেন টিকটক হৃদয়সহ আরেকজনকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তখন ১২ আসামির মধ্যে মোট আটজনকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
জানা যায়, মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ডের সঙ্গে ছিল মিন্নির ঘনিষ্ট সম্পর্ক। টিকটক ভিডিও করে তাদের ঘনিষ্ট ও আস্থাভাজন হয়ে উঠেন টিকটক হৃদয়। নয়নের খুব কাছের লোক হওয়ার কারণে এক সময় টিকটক হৃদয়ও মিন্নির খুব কাছের মানুষ হয়ে পড়েন। যেকোনো শলা-পরামর্শ তারা একসঙ্গে করতেন। নয়ন বন্ডের নির্দেশেই পরিচালিত হতো তাদের ০০৭ ফেসবুক গ্রুপ। এ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ছিলেন টিকটক হৃদয়। নয়ন বন্ড ও মিন্নির সম্পর্কের সূত্র ধরেই তাদের গ্রুপের আলোচিত ব্যক্তি হয়ে উঠেন তিনি।
বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে নয়ন বন্ড ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে গুরুতর আহত করার পর বীরদর্পে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ছাড়েন তারা। গুরুতর আহত রিফাত বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওইদিনই মারা যান।
ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। একইসঙ্গে রিফাত হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত। ৮ জানুয়ারি একই মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বরগুনার শিশু আদালত।
এ মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মো. মুসা এখনো পলাতক রয়েছেন।