ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

জয়পুরহাটে ভয়াবহ বাস-ট্রেন সংঘর্ষ, স্বপ্ন পূরণ হলো না দুই ভাইয়ের

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:০৭, ২০ ডিসেম্বর ২০২০
জয়পুরহাটে ভয়াবহ বাস-ট্রেন সংঘর্ষ, স্বপ্ন পূরণ হলো না দুই ভাইয়ের

জয়পুরহাট সদর উপজেলার পুরানাপৈল রেল গেট এলাকায় বাস ও ট্রেনের যে ভয়াবহ দুর্ঘটনা শনিবার ভোরে হয়েছিল তাতে নিহতদের তালিকায় ছিল জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আটুল গ্রামের আপন দুই ভাই সরোয়ার হোসেন ও আরিফুর রহমান রাব্বী।

জয়পুরহাটের পুরানাপৈল রেল গেটে ভয়াবহ বাস ট্রেন দূঘটনায় বাসে থাকা ১০ জন যাত্রী  ঘটনাস্থলেই নিহত হন, হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরো ২ জন, আর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩ বাসযাত্রী।

ওই দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিলে ছিলেন একই পরিবারের দুই ভাই সারোয়ার ও রাব্বী। তারা আটুল গ্রামের পল্লী চিকিৎসক আলতাফ হোসেনের ছেলে। আলতাফ হোসেনের ওই দুই সন্তান ছাড়া আর কোনো সন্তান নেই। বড় ছেলে সারোয়ার গ্রামীণ পশু চিকিৎসক, আর বাবা আলতাফ পল্লী চিকিৎসক। রাব্বী সবে এইচএসসি পাস করেছেন।  

Advertisement

বাবা আলতাফ হোসেন আহাজারি করতে করতে বলেন, একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এর উপর ডিপ্লোমা কোর্সে এ ভর্তির জন্য ছোট ভাই রাব্বীকে সঙ্গে নিয়ে বড় ভাই সরোয়ার গত বুধবার ঢাকা যান। ভর্তি শেষে দুই ভাই রাতে ঢাকা থেকে নৈশ কোচে বাড়ির উদ্দেশ্যে জয়পুরহাাট জেলা শহরে পৌঁছেন। পরে হিলিগামী বাধন নামে যাত্রীবাহী বাসে চড়ে পাঁচবিবি যাওয়ার পথে ওই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

দুই ছেলেকে হারিয়ে বাবা আলতাফ ও মা আম্বিয়া খাতুন বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। সান্ত্বনা দিতে আসা গ্রামবাসীরাও নির্বাক প্রায়। একই গ্রামের ছালেহা বেগম,  মাহমুদুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন মাস্টার, মামুনুর রশিদ ও সোহেল জানান, আলতাফ ও আম্বিয়া খাতুনের দুই সন্তানই। এ পরিবারে এখন বিষাদের  ছায়া, সন্তান শোকে বাবা আর মায়ের যে কী হবে তা উপরওয়ালা ছাড়া আর কেউ বলতে পারবে না।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএইচ/জেডএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!