বুধবার বিকেলে উপজেলার আমলা ইউপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কুশাবাড়ীয়া এলাকায় ধানের মাঠ থেকে মেছো বাঘটি আটক করা হয়।
এলাকাবাসী জানান, গত কয়েক দিন ধরে কুশাবাড়ীয়া গ্রামের ফসলি মাঠে একটি মেছো বাঘের দেখতে পায় কৃষকরা। ওই এলাকায় এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি হাঁস-মুরগি ধরে খেয়েছে মেছো বাঘটি। এ ঘটনার পর থেকে গ্রামের মানুষের মাঝে ‘মেছো বাঘ’ আতংক ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার বিকেলের দিকে ওই মাঠে মেছো বাঘটি দেখা গেলে গ্রামবাসী একজোট হয়ে তেড়ে ধরে ফেলে। তারা বিভিন্ন কৌশলে মেছো বাঘটিকে আটক করে। এসময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে মেছো বাঘটি গুরুতর আহত হয়। পরে উদ্ধার করে আমলা ইউপি চেয়ারম্যানকে জানায় তারা।
.png)
আমলা ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে মেছো বাঘ আটকের বিষয়টি ইউএনওকে জানিয়েছি। স্থানীয়দের মাধ্যমে বাঘটি সন্ধ্যার পর পাঠিয়ে দিয়েছি।
ভেটেরিনারি সার্জন ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. সোহাগ রানা বলেন, এলাকাবাসী মেছো বাঘটিকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছেন। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে অবস্থা গুরুতর।
মিরপুরের ইউএনও লিংকন বিশ্বাস বলেন, বুধবার বিকেলে আমলা ইউপির কুশাবাড়ীয়া এলাকার ফসলের মাঠে মেছো বাঘটিকে তেড়ে ধরে এবং পিটিয়ে গুরুতর আহত করে স্থানীয়রা। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি জানানোর পর আমরা বাঘটি উদ্ধার করেছি। চিকিৎসা চলছে। তবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। মেছো বাঘটি সুস্থ হলে বনবিভাগের সঙ্গে কথা বলে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
কুষ্টিয়া বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ছালেহ মো. শোয়াইব খানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
কুষ্টিয়ার পশুপাখি, প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা মানুষ মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাহাবুদ্দিন মিলন ও কুষ্টিয়া বার্ড ক্লাবের সভাপতি পাখি গবেষক এসআই সোহেল জানান, এটি মূলত বিপন্ন প্রজাতির মেছো বিড়াল বা বাঘরোল। কিন্তু অনেকেই এটিকে মেছোবাঘ বলে ডাকেন। এরা মানুষের কোনো ক্ষতি করে না। ক্রমেই তাদের বসবাসের জায়গা কমে আসায় অনেক সময় লোকালয়ে তাদের দেখা যায়। এদের রক্ষা করতে সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। তা নাহলে একসময় এই প্রাণি খুঁজে পাওয়া যাবে না।