ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সিন্ডিকেটের কমিশন বাণিজ্যের দখলে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস

মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:৩১, ২৬ এপ্রিল ২০২২
সিন্ডিকেটের কমিশন বাণিজ্যের দখলে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস
জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়, মাদারীপুর

মাদারীপুর সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এখন দলিল লেখক ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের সিন্ডিকেটের দখলে। সিন্ডিকেটের কমিশন বাণিজ্যের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে সেবাগ্রহীতারা। কোনো নীতিরমালা তোয়াক্কা না করে নিজেদের তৈরি নিয়মে সারা বছর কার্যক্রম চালাচ্ছে এ সিন্ডিকেট।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাদারীপুর শহরের জিরো পয়েন্ট এলাকায় জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের নিচতলায় সদর উপজেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিস। এর পাশেই একটি টিনশেড ঘরে দলিল লেখকদের অফিস। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে দলিল লেখকদের অদৃশ্য সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এখানে দলিল করতে আসা সবাইকে ১৫-২০ শতাংশ অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়। এছাড়া কোনো ভুল ত্রুটি থাকলে সেই দলিল রেজিস্ট্রি করতে ঘুষ গ্রহণেরও অভিযোগ রয়েছে।

এ সিন্ডিকেটের কবলে জিম্মি হয়ে পড়েছে মানুষ। সেবাগ্রহীতারা বাধ্য হয়েই সিন্ডিকেটের চাহিদা মতো টাকা দিয়ে দলিল সম্পাদন করান।

Advertisement

মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়ন থেকে একটি জমি রেজিস্ট্রি করাতে এসেছেন সাগর সরদার। ১০ লাখ টাকা মূল্যমানের জমি বাবদ সরকার নির্ধারিত সাড়ে ৬ শতাংশ হারে টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়া ছাড়াও দলিল লেখক ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সিন্ডিকেটকে বেশি দিতে হয়েছে ৮০ হাজার টাকা। সিন্ডিকেটের চাহিদামতো টাকা দেওয়ার পরও তাকে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বসে থাকতে হয়েছে।

মাদারীপুর শহরের ১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাকিব হাসান। চাচাতো ভাইয়ের দুই শতাংশ জমির দলিল করতে এসেছেন সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে। কিন্তু সরকারি খরচ ছাড়াও তাকে ৩৫ হাজার টাকা দলিল লেখক ও রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মচারীদের অতিরিক্ত দিতে হয়েছে।

শুধু তারাই নন। প্রতি সপ্তাহে মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার যেকোনো ব্যক্তি মাদারীপুর সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে সিন্ডিকেটের কবলে পড়েন।

ভুক্তভোগী রাকিব হাসান বলেন, সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখক ও কর্মচারীরা মিলে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। তাদের চাহিদামতো টাকা না দিলে কোনো সেবা পাওয়া যায় না। আমরা অনেকটা বাধ্য হয়েই তাদের বাড়তি টাকা দিয়ে সেবা নিচ্ছি।

এদিকে সিন্ডিকেটের অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন দলিল লেখক সমিতি ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তারা। মাদারীপুর সদর উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি দিদার হোসেন বলেন, পার্টিরা এখানে দলিল করতে এলে আমরা তাদের কাছ থেকে বেশি টাকা নিই না। তারা খুশি হয়ে যা দেয়, তা-ই নিই। আমরা সিন্ডিকেট করেও কোনো কাজ করি না।

একই কথা বললেন সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার শর্মিলী আহমেদ শম্পা। তিনি বলেন, আমাদের কাছে কেউ কখনো অভিযোগ নিয়ে আসে না। যদি কেউ বাড়তি টাকা নেয়ার অভিযোগ দেয়। তাহলে বিষয়টি দেখব।

তবে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও দলিল লেখক সমিতির অতিরিক্ত টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করে জেলা রেজিস্ট্রার মো. রুহুল কুদ্দুস বলেন, এটা তো অনেক দিনের প্রাকটিস। হুট করেই দলিল লেখক সমিতির এ সিন্ডিকেট বদলানো যাবে না। তবে আমরা মানুষকে সচেতন করার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকি। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সব আবেদন অনলাইন হয়ে গেলে দুর্নীতির অভিযোগ আসা বন্ধ হয়ে যাবে। কেউ নির্দিষ্ট অভিযোগ করলে আমি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!